বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Epinephrine

  • 5 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 3 টি কোম্পানি

ব্যবহার

এপিনেফ্রিন (অ্যাড্রেনালিন নামেও পরিচিত) শরীরের একটি প্রাকৃতিক হরমোন এবং বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত ঔষধ। তীব্র অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ায় (অ্যানাফাইল্যাক্সিস) এটি প্রথম চিকিৎসা, হৃদ্‌স্পন্দন থেমে গেলে পুনরুজ্জীবনে ব্যবহৃত হয়, এবং দাঁতের ডাক্তার ও সার্জনদের ব্যবহৃত লিডোকেইনের মতো অবশকারী ইনজেকশনে অল্প পরিমাণে মেশানো হয়, যাতে অবশভাব বেশিক্ষণ থাকে ও রক্তপাত কম হয়। হাসপাতালে নেবুলাইজার বা স্থানীয়ভাবেও এটি ব্যবহার হয়, যেমন ক্রুপ বা রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে।

কীভাবে কাজ করে

এপিনেফ্রিন শরীরের আলফা ও বিটা অ্যাড্রেনার্জিক রিসেপ্টরে কাজ করে। এটি ছোট রক্তনালি সংকুচিত করে রক্তচাপ বাড়ায়, ফোলা কমায় এবং অবশকারী ঔষধকে ইনজেকশনের জায়গা থেকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে দেয় না। এটি শ্বাসনালি খুলে দেয়, হৃদ্‌স্পন্দন দ্রুত ও শক্তিশালী করে এবং অ্যালার্জির রাসায়নিক নিঃসরণ বন্ধ করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

মাত্রা ব্যবহারের ধরনের ওপর নির্ভর করে এবং ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী দেওয়া হয়। অবশকারী ইনজেকশনে এটি দাঁতের ডাক্তার, চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী দেন। হাসপাতালের জরুরি অবস্থা ও পুনরুজ্জীবনে ডাক্তার ও নার্স দেন। যাদের অ্যানাফাইল্যাক্সিসের ঝুঁকি আছে, তাদের জরুরি অবস্থায় উরুর বাইরের দিকে নেওয়ার জন্য অ্যাড্রেনালিন অটো-ইনজেক্টর দেওয়া হতে পারে; এর ব্যবহার শিখে রাখা উচিত এবং ব্যবহারের পর সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সাহায্য ডাকতে হবে।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • নন-সিলেক্টিভ বিটা ব্লকার (যেমন প্রোপ্রানোলল): রক্তচাপ হঠাৎ অনেক বেড়ে যেতে ও হৃদ্‌স্পন্দন ধীর হতে পারে, অ্যানাফাইল্যাক্সিসের চিকিৎসাও কঠিন হতে পারে।
  • ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট (যেমন অ্যামিট্রিপটাইলিন) ও MAO ইনহিবিটর: রক্তচাপ ও হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর প্রভাব বাড়ে।
  • হ্যালোথেন ও কিছু অ্যানেস্থেটিক গ্যাস: অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দনের ঝুঁকি।
  • ডিগক্সিন ও কুইনিডিন: হৃদ্‌স্পন্দনের ছন্দের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
  • ডায়াবেটিসের ঔষধ: এপিনেফ্রিন রক্তে শর্করা বাড়ায়।

কারা খাবেন না

জীবনঘাতী অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ায় এপিনেফ্রিন না দেওয়ার কোনো নিরঙ্কুশ কারণ নেই। পরিকল্পিত ব্যবহারে, যেমন এপিনেফ্রিনসহ অবশকারী ইনজেকশনে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, গুরুতর হৃদ্‌রোগ, কিছু অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দন, থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা বা ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা থাকলে ডাক্তার এটি এড়িয়ে যেতে পারেন। আঙুল, পায়ের আঙুল, কান, নাক বা পুরুষাঙ্গে এমন ইনজেকশন দেওয়া হয় না, কারণ রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

  • দ্রুত বা ধড়ফড়ে হৃদ্‌স্পন্দন, কাঁপুনি, উদ্বেগ ও ঘাম।
  • মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ফ্যাকাশে ত্বক।
  • রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া।
  • বমিভাব বা বমি।

বুকে ব্যথা, খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দন, তীব্র মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট হলে, অথবা অটো-ইনজেক্টর ব্যবহারের পর অ্যালার্জির লক্ষণ আবার ফিরে এলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

অ্যানাফাইল্যাক্সিসের মতো জরুরি অবস্থায় গর্ভাবস্থাতেও এপিনেফ্রিন দেওয়া উচিত, কারণ চিকিৎসা না করার ঝুঁকি বেশি। দাঁতের ও অবশকারী ইনজেকশনে থাকা অল্প পরিমাণ সাধারণত গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় গ্রহণযোগ্য বলে ধরা হয়। গর্ভবতী বা দুধ খাওয়ালে ডাক্তার বা দাঁতের ডাক্তারকে জানান।

সতর্কতা

হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা, ডায়াবেটিস, গ্লুকোমা বা পারকিনসন রোগ থাকলে, অথবা বয়স্ক হলে ডাক্তার বা দাঁতের ডাক্তারকে জানান। অটো-ইনজেক্টর সবসময় সঙ্গে রাখুন, মেয়াদ দেখে নিন এবং হাত বা পায়ের পাতায় দেবেন না। অ্যানাফাইল্যাক্সিসে ব্যবহারের পর হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে থাকা দরকার, কারণ লক্ষণ আবার ফিরে আসতে পারে।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি মাত্রায় বিপজ্জনকভাবে উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দন, ফুসফুসে পানি জমা ও স্ট্রোক হতে পারে। হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

সিমপ্যাথোমিমেটিক (অ্যাড্রেনার্জিক অ্যাগোনিস্ট); রক্তনালি সংকোচক।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে (প্যাকে লেখা থাকলে ২৫°C এর নিচে), আলো থেকে দূরে রাখুন, জমাবেন না এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। দ্রবণের রং বদলে গেলে বা কণা দেখা গেলে ব্যবহার করবেন না।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Epinephrine যুক্ত কম্বিনেশন ঔষধ

5 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।