ব্যবহার
এপলেরেনোন স্ট্যান্ডার্ড চিকিৎসার সাথে মিলিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের কম পাম্পিং ক্ষমতাসম্পন্ন হার্ট ফেইলিওরে (কম ইজেকশন ফ্র্যাকশন) মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি কমাতে ব্যবহৃত হয়, হার্ট অ্যাটাকের পর হার্ট ফেইলিওর হলেও। কিছু দেশে এটি উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসাতেও ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
এপলেরেনোন অ্যালডোস্টেরন হরমোনের কাজ বন্ধ করে, যা শরীরে লবণ ও পানি ধরে রাখে এবং পটাশিয়াম বের করে দেয়। অতিরিক্ত অ্যালডোস্টেরন হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালিতে ক্ষত ও শক্ত ভাবও তৈরি করে। এটি বাধা দিয়ে এপলেরেনোন শরীর থেকে অতিরিক্ত লবণ ও পানি বের করতে সাহায্য করে, রক্তচাপ কমায় এবং হৃৎপিণ্ডকে আরও ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। স্পাইরোনোল্যাকটোনের চেয়ে এটি বেশি নির্দিষ্টভাবে কাজ করে, তাই স্তন বড় হওয়ার মতো হরমোনজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- হার্ট ফেইলিওর (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত দিনে ১ বার ২৫ mg দিয়ে শুরু করে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা অনুযায়ী প্রায় ৪ সপ্তাহের মধ্যে দিনে ১ বার ৫০ mg এ বাড়ানো হয়, চিকিৎসকের নির্দেশমতো।
- উচ্চ রক্তচাপ (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত দিনে ১ বার ৫০ mg, চিকিৎসকের নির্দেশমতো।
প্রতিদিন একই সময়ে খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া খান। শুরুর আগে, এক সপ্তাহ পর, এক মাস পর এবং পরে নিয়মিত চিকিৎসক রক্তে পটাশিয়াম ও কিডনির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কিটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, রিটোনাভির ও নেলফিনাভিরের মতো শক্তিশালী CYP3A4 বাধাদানকারী: এপলেরেনোনের সাথে খাওয়া যাবে না।
- এরিথ্রোমাইসিন, ভেরাপামিল ও ফ্লুকোনাজোলের মতো মাঝারি CYP3A4 বাধাদানকারী: কম মাত্রা প্রয়োজন।
- পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট, পটাশিয়ামযুক্ত বিকল্প লবণ, পটাশিয়াম সংরক্ষণকারী মূত্রবর্ধক (অ্যামিলোরাইড, স্পাইরোনোল্যাকটোন, ট্রায়ামটেরিন), ACE ইনহিবিটর, ARB ও ট্রাইমেথোপ্রিম: পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
- আইবুপ্রোফেনের মতো NSAID: কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে পটাশিয়াম বাড়াতে পারে।
- লিথিয়াম: মাত্রা বাড়তে পারে।
- সেন্ট জন’স ওয়ার্ট, রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন ও ফেনিটোইন: কার্যকারিতা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- চিকিৎসা শুরুর সময় রক্তে পটাশিয়াম ৫.০ mmol/L এর বেশি থাকলে।
- কিডনির গুরুতর অকার্যকারিতায়।
- লিভারের গুরুতর অকার্যকারিতায়।
- শক্তিশালী CYP3A4 বাধাদানকারী, পটাশিয়াম সংরক্ষণকারী মূত্রবর্ধক বা পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট খেলে।
- এপলেরেনোনে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, নিম্ন রক্তচাপ (বিশেষ করে দাঁড়ানোর সময়), ডায়রিয়া, বমিভাব, কাশি এবং কিডনির পরীক্ষার ফলাফলে পরিবর্তন। কম দেখা যায় ফুসকুড়ি, মাংসপেশিতে খিঁচুনি এবং কদাচিৎ স্তন বড় হওয়া।
মাংসপেশিতে দুর্বলতা, ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অজ্ঞান হওয়া, খুব কম প্রস্রাব, অথবা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় তথ্য সীমিত: কেবল চিকিৎসক স্পষ্টভাবে প্রয়োজন মনে করলে ব্যবহার করুন। এটি মায়ের দুধে যায় কি না জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানো নাকি ঔষধ সেবন, সে সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের সাথে নিন।
সতর্কতা
- পটাশিয়াম ও কিডনির কার্যক্ষমতার নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা অপরিহার্য।
- চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত বিকল্প লবণ এড়িয়ে চলুন।
- বমি, ডায়রিয়া হলে বা পানি খেতে না পারলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন: সাময়িকভাবে ঔষধ বন্ধ রাখার দরকার হতে পারে।
- বয়স্ক এবং ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যায় আক্রান্তদের পটাশিয়াম বাড়ার ঝুঁকি বেশি।
- মাথা ঘোরাতে পারে: গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে নিম্ন রক্তচাপ ও রক্তে উচ্চ পটাশিয়াম হতে পারে। দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মিনারালোকর্টিকয়েড (অ্যালডোস্টেরন) রিসেপ্টর অ্যান্টাগোনিস্ট; পটাশিয়াম সংরক্ষণকারী মূত্রবর্ধক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।