ব্যবহার
এসলিকারবাজেপিন অ্যাসিটেট একটি অ্যান্টিএপিলেপটিক (খিঁচুনিরোধী) ঔষধ। ফোকাল খিঁচুনি বা পার্শিয়াল-অনসেট খিঁচুনির চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়; এ ধরনের খিঁচুনি মস্তিষ্কের এক অংশে শুরু হয় এবং পুরো মস্তিষ্কে ছড়াতেও পারে, না-ও পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি একা বা অন্য খিঁচুনির ঔষধের সাথে যোগ করে দেওয়া যায়। কিছু দেশে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ৬ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের অতিরিক্ত ঔষধ হিসেবেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
গিলে খাওয়ার পর শরীরে এসলিকারবাজেপিন অ্যাসিটেট তার সক্রিয় রূপ এসলিকারবাজেপিনে পরিণত হয়। এটি স্নায়ুকোষের সোডিয়াম চ্যানেল, অর্থাৎ বৈদ্যুতিক সংকেত চলাচলের ছোট ছোট দরজা আটকে দেয়। অতিসক্রিয় স্নায়ুকোষকে শান্ত রেখে এটি খিঁচুনি সৃষ্টিকারী অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক ঝলক কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে ১ বার ৪০০ mg দিয়ে শুরু করা হয় এবং ১ থেকে ২ সপ্তাহ পর দিনে ১ বার ৮০০ mg করা হয়। ফলাফল অনুযায়ী চিকিৎসক এটি দিনে ১ বার ১২০০ mg পর্যন্ত বাড়াতে পারেন। প্রতিদিন একই সময়ে, খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া খান।
- কিডনির সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের নির্দেশমতো কম মাত্রা লাগে।
- শিশু: ওজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ মাত্রা ঠিক করেন, চিকিৎসকের নির্দেশমতো।
- হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এতে খিঁচুনি ফিরে আসতে বা বাড়তে পারে; চিকিৎসক ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
- কোনো ডোজ বাদ পড়লে মনে পড়ামাত্র খান, তবে পরের ডোজের সময় কাছাকাছি হলে বাদ দিন; দ্বিগুণ ডোজ খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ (পিল, ইমপ্ল্যান্ট, ইনজেকশন): এসলিকারবাজেপিন এগুলোর কার্যকারিতা কমাতে পারে। চিকিৎসার সময় এবং বন্ধের পর এক মাসিক চক্র পর্যন্ত কনডমের মতো অতিরিক্ত অ-হরমোনাল পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
- কারবামাজেপিন ও অক্সকারবাজেপিন: খুব কাছাকাছি ঔষধ; একসাথে দেওয়া উচিত নয়, কারণ মাথা ঘোরা ও দুটো দেখার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়ে।
- ফেনিটোইন: ফেনিটোইনের মাত্রা বাড়তে পারে আর এসলিকারবাজেপিনের মাত্রা কমতে পারে; মাত্রা বদলানো লাগতে পারে।
- ওয়ারফারিন: কার্যকারিতা কমতে পারে; রক্ত পরীক্ষা (INR) করা উচিত।
- সিমভাস্ট্যাটিন ও কিছু স্ট্যাটিন: মাত্রা কমে যেতে পারে।
- অ্যালকোহল ও ঘুম আনে এমন ঔষধ মাথা ঘোরা ও ঘুম ঘুম ভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- এসলিকারবাজেপিন অ্যাসিটেট, অক্সকারবাজেপিন বা কারবামাজেপিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- পেসমেকার না থাকলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় ডিগ্রির হার্ট ব্লক (হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সঞ্চালনের সমস্যা) থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মাথা ঘোরা, ঘুম ঘুম ভাব, মাথাব্যথা, বমিভাব, বমি, দুটো বা ঝাপসা দেখা, টলমল করে হাঁটা, সমন্বয়ের অভাব, ক্লান্তি ও ফুসকুড়ি। এটি রক্তে সোডিয়াম কমাতে পারে (হাইপোন্যাট্রেমিয়া), যাতে বিভ্রান্তি, দুর্বলতা, মাথাব্যথা বা খিঁচুনি বাড়তে পারে।
গুরুতর ত্বকের প্রতিক্রিয়া (ফোসকা, চামড়া উঠে যাওয়া, মুখে ঘা বা জ্বরসহ সারা গায়ে ফুসকুড়ি), মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট, তীব্র বিভ্রান্তি বা হঠাৎ খিঁচুনি বেড়ে যাওয়া, অজ্ঞান হওয়া বা হৃৎস্পন্দন খুব ধীর বা অনিয়মিত হওয়া, অথবা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খিঁচুনির ঔষধে গর্ভের শিশুর ঝুঁকি থাকতে পারে, তবে নিয়ন্ত্রণহীন খিঁচুনিও বিপজ্জনক। গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে চিকিৎসকের সাথে পরিকল্পনা করুন, পরামর্শমতো ফলিক অ্যাসিড খান এবং কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করুন (হরমোনাল পদ্ধতির কার্যকারিতা কমার কথা মনে রাখুন)। গর্ভবতী হলে নিজে থেকে ঔষধ বন্ধ করবেন না; সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। এসলিকারবাজেপিন বুকের দুধে যায়, তাই সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানো সুপারিশ করা হয় না; চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
- খিঁচুনির ঔষধ খাওয়া অল্প কিছু মানুষের নিজের ক্ষতি করার চিন্তা আসতে পারে; পরিবারের সদস্যরা মেজাজের পরিবর্তন খেয়াল রাখবেন।
- কিছু এশীয় জনগোষ্ঠীর মানুষের HLA-B*1502 নামের একটি জিন গুরুতর ত্বকের প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়; চিকিৎসক এটি পরীক্ষা করতে পারেন।
- বিশেষ করে বয়স্ক ও ডাইইউরেটিক সেবনকারীদের রক্তের সোডিয়াম পরীক্ষা করা হতে পারে।
- মাথা ঘোরা ও ঝাপসা দেখার কারণে গাড়ি চালানো বা যন্ত্র চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
- হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, লিভার বা কিডনির রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তীব্র মাথা ঘোরা, টলমল ভাব, বমি, বিভ্রান্তি, সোডিয়াম কমে যাওয়া, খিঁচুনি বা হৃৎস্পন্দনের সমস্যা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিএপিলেপটিক (খিঁচুনিরোধী); ডাইবেনজাজেপিন সোডিয়াম চ্যানেল ব্লকার।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।