ব্যবহার
এস্ট্রিওল একটি প্রাকৃতিক ধরনের ইস্ট্রোজেন (নারী হরমোন)। মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়ায় যোনিপথ শুকিয়ে যাওয়া, চুলকানি, জ্বালা এবং সহবাসে ব্যথা (ভ্যাজাইনাল অ্যাট্রফি) উপশমে এটি মূলত ব্যবহৃত হয়। মেনোপজের পর বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ কমাতে এবং যোনিপথের কিছু অপারেশনের আগে বা পরে এটি দেওয়া হতে পারে। এটি ট্যাবলেট, যোনিপথের ক্রিম বা পেসারি হিসেবে পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
মেনোপজের পর শরীরে ইস্ট্রোজেন অনেক কমে যায়, ফলে যোনিপথ ও মূত্রনালির আস্তরণ পাতলা, শুকনো ও সহজে জ্বালাপ্রবণ হয়ে যায়। এস্ট্রিওল এই ইস্ট্রোজেনের কিছুটা পূরণ করে। এতে আস্তরণ মোটা, আর্দ্র ও সুস্থ হয় এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষাকারী স্বাভাবিক অম্লতা ফিরে আসে। অন্যান্য ইস্ট্রোজেনের তুলনায় এস্ট্রিওল দুর্বল ও স্বল্পস্থায়ী।
মাত্রা ও সেবনবিধি
কোন সমস্যার জন্য ব্যবহার হচ্ছে তার ওপর মাত্রা ও ধরন নির্ভর করে, যা ডাক্তার ঠিক করবেন। ডাক্তারের নির্দেশমতো ব্যবহার করুন। সাধারণত কয়েক সপ্তাহ প্রতিদিন ব্যবহারের পর মাত্রা কমিয়ে, যেমন সপ্তাহে ২ বার, চালিয়ে যাওয়া হয়। যোনিপথের ক্রিম বা পেসারি রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করা ভালো। ডাক্তার সাধারণত প্রতি ৩ থেকে ৬ মাসে চিকিৎসার প্রয়োজন পুনর্বিবেচনা করবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন ও সেন্ট জনস ওয়ার্টের মতো লিভারের এনজাইম বাড়ানো ঔষধ এর কার্যকারিতা কমাতে পারে। এস্ট্রিওল প্রেডনিসোলনের মতো স্টেরয়েড এবং থিওফাইলিন বা সাইক্লোস্পোরিনের প্রভাব বাড়াতে পারে। যোনিপথে ব্যবহারের পণ্য ল্যাটেক্স কনডম দুর্বল করতে পারে।
কারা খাবেন না
- স্তন ক্যান্সার বা জরায়ুর আস্তরণের ক্যান্সারের মতো ইস্ট্রোজেন নির্ভর ক্যান্সার থাকলে, আগে হয়ে থাকলে বা সন্দেহ থাকলে।
- কারণ অজানা যোনিপথে রক্তপাত হলে।
- চিকিৎসা না করা জরায়ুর আস্তরণ মোটা হওয়া (এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্লাসিয়া) থাকলে।
- পায়ে বা ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধা থাকলে বা আগে হয়ে থাকলে, অথবা রক্ত জমাটের রোগ থাকলে।
- সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা অ্যানজাইনা হলে।
- সক্রিয় লিভার রোগ, পোরফাইরিয়া বা এস্ট্রিওলে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
শুরুতে লাগানোর জায়গায় জ্বালা, চুলকানি, স্তনে ব্যথা, যোনিস্রাব, বমি বমি ভাব ও হালকা রক্তের দাগ দেখা যেতে পারে। এগুলো সাধারণত কমে যায়।
মেনোপজের পর যোনিপথে রক্তপাত, স্তনে চাকা, এক পায়ে ব্যথাসহ ফোলা, হঠাৎ বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট, তীব্র মাথাব্যথা, শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া, কথা বা দৃষ্টির সমস্যা অথবা ত্বক বা চোখ হলুদ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এস্ট্রিওল ব্যবহার করা হয় না। চিকিৎসার সময় গর্ভধারণ হলে ঔষধ বন্ধ করে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
সতর্কতা
মেনোপজের পর হরমোন চিকিৎসা সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রায় এবং সবচেয়ে কম সময়ের জন্য নেওয়া উচিত। পরামর্শমতো নিয়মিত চেকআপ ও স্তন পরীক্ষা করান। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মাইগ্রেন, মৃগী, পিত্তথলির পাথর, লিভারের রোগ, এন্ডোমেট্রিওসিস, ফাইব্রয়েড অথবা পরিবারে স্তন ক্যান্সার বা রক্ত জমাটের ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান। পরিকল্পিত অপারেশন বা দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী থাকার আগে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবন সাধারণত বিপজ্জনক নয়। বমি বমি ভাব, বমি বা যোনিপথে রক্তপাত হতে পারে। কেউ, বিশেষ করে শিশু, বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেললে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইস্ট্রোজেন (নারী যৌন হরমোন); ভ্যাজাইনাল অ্যাট্রফির হরমোন প্রতিস্থাপন।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ক্রিম ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।