ব্যবহার
ইথোসাক্সিমাইড একটি খিঁচুনিরোধী ঔষধ, যা মূলত অ্যাবসেন্স সিজার (পেটিট মাল) নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের খিঁচুনি সাধারণত শিশুদের হয়, কয়েক সেকেন্ডের জন্য শিশু ফাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ও চারপাশ সম্পর্কে সচেতনতা হারায়। কিছু ক্ষেত্রে মায়োক্লোনিক খিঁচুনিতেও দেওয়া হয়। এটি টনিক-ক্লোনিক (গ্র্যান্ড মাল) খিঁচুনি ঠেকায় না, সেগুলো থাকলে আরেকটি ঔষধ যোগ করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যাবসেন্স সিজারের পেছনে থাকে মস্তিষ্কের থ্যালামাস ও বাইরের স্তরের মধ্যে অস্বাভাবিক ছন্দময় বৈদ্যুতিক সংকেত। ইথোসাক্সিমাইড থ্যালামাসের স্নায়ুকোষে টি-টাইপ ক্যালসিয়াম চ্যানেল আটকে দিয়ে এই ছন্দকে শান্ত করে, ফলে খিঁচুনি প্রতিরোধ হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশমতো সেবন করুন। কম মাত্রা দিয়ে শুরু করে প্রতি কয়েক দিনে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়, যতক্ষণ না খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে আসে। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স ও ওজন অনুযায়ী মাত্রা ঠিক করা হয়, তাই চিকিৎসকই সঠিক মাত্রা বলে দেবেন। এটি ক্যাপসুল ও সিরাপ হিসেবে পাওয়া যায়; পেটের অস্বস্তি কমাতে খাবারের সাথে খাওয়া যায়। সিরাপের জন্য সাথে দেওয়া মাপার পাত্র ব্যবহার করুন। হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এতে খিঁচুনি ফিরে আসতে পারে; প্রয়োজনে চিকিৎসক ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন, ফেনোবারবিটাল ও প্রিমিডোন ইথোসাক্সিমাইডের মাত্রা কমাতে পারে।
- ভ্যালপ্রোয়েট (ভ্যালপ্রোয়িক অ্যাসিড) ও আইসোনিয়াজিড এর মাত্রা বাড়াতে পারে।
- ইথোসাক্সিমাইড ফেনিটয়েনের মাত্রা বদলে দিতে পারে।
- অ্যালকোহল ও অন্যান্য ঘুমের ঔষধ তন্দ্রা বাড়াতে পারে।
- অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট ও অ্যান্টিসাইকোটিক খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- ইথোসাক্সিমাইড বা অন্যান্য সাক্সিনিমাইড জাতীয় খিঁচুনিরোধী ঔষধে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব, বমি, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, হেঁচকি, তন্দ্রা, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা ও ক্লান্তি। আচরণগত পরিবর্তন, ঘুমের সমস্যা ও মনোযোগে অসুবিধা হতে পারে।
বিরল কিন্তু গুরুতর সমস্যার মধ্যে আছে রক্তের রোগ (শ্বেতকণিকা বা অণুচক্রিকা কমে যাওয়া), লুপাসের মতো অসুখ, ত্বকের গুরুতর প্রতিক্রিয়া এবং মেজাজ পরিবর্তন বা আত্মহত্যার চিন্তা।
জ্বর, গলাব্যথা, মুখে ঘা, অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত, ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়াসহ ছড়ানো ফুসকুড়ি, ফুসকুড়ির সাথে গিঁটে ব্যথা, খিঁচুনি হঠাৎ অনেক বেড়ে যাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ইথোসাক্সিমাইড গর্ভফুল পার হয়ে শিশুর কাছে পৌঁছায়। আবার গর্ভকালে নিয়ন্ত্রণহীন খিঁচুনিও ঝুঁকিপূর্ণ, তাই নিজে থেকে ঔষধ বন্ধ করবেন না; গর্ভধারণের আগে বা গর্ভবতী হওয়ামাত্র চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন, সাধারণত ফলিক অ্যাসিড খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি বুকের দুধে বেশি পরিমাণে যায়; বুকের দুধ খাওয়ালে শিশুর অতিরিক্ত ঘুম বা কম খাওয়ার দিকে খেয়াল রাখুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মানুন।
সতর্কতা
- নিয়মিত রক্তের কণিকা পরীক্ষা এবং কখনো কখনো যকৃৎ ও কিডনির পরীক্ষা দরকার।
- যকৃৎ বা কিডনির রোগ থাকলে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়।
- তন্দ্রা আসতে পারে; ঔষধটি কেমন প্রভাব ফেলে তা না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি চালানো বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এড়িয়ে চলুন।
- পরিবারের সদস্যরা মেজাজ বা আচরণের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখবেন।
- জ্বর বা গলাব্যথার মতো সংক্রমণের লক্ষণ দ্রুত জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তীব্র তন্দ্রা, বমিভাব, বমি, শ্বাস ধীর হয়ে যাওয়া ও অচেতনতা হতে পারে। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন। হাসপাতালে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খিঁচুনিরোধী (অ্যান্টিকনভালস্যান্ট), সাক্সিনিমাইড।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সিরাপ ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।