ব্যবহার
ইটোডোলাক একটি নন-স্টেরয়ডাল প্রদাহনাশক ঔষধ (NSAID)। অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে ব্যথা, ফোলা ও জড়তা কমাতে এবং ছোট অস্ত্রোপচারের পর, দাঁতের ব্যথা বা মচকানোর মতো স্বল্পমেয়াদি (তীব্র) ব্যথায় এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
ইটোডোলাক সাইক্লোঅক্সিজিনেজ (COX) নামের এনজাইম, বিশেষ করে COX-২ বেশি বাধা দেয়। এই এনজাইম প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরি করে, যা আঘাত বা প্রদাহের জায়গায় ব্যথা, ফোলা ও জ্বর সৃষ্টি করে। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন কমে গেলে ব্যথা ও প্রদাহ কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রা, সবচেয়ে কম সময়ের জন্য খাবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের তীব্র ব্যথায় সাধারণ মাত্রা প্রয়োজনে প্রতি ৬ থেকে ৮ ঘণ্টায় ২০০ থেকে ৪০০ mg, তবে ২৪ ঘণ্টায় ১০০০ mg এর বেশি নয়। আর্থ্রাইটিসে চিকিৎসকের পরামর্শমতো সাধারণত দিনে দুই বা তিনবার ৩০০ mg, অথবা দিনে দুইবার ৪০০ থেকে ৫০০ mg। এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ট্যাবলেট দিনে একবার আস্ত গিলে খেতে হয়। পেটের অস্বস্তি কমাতে খাবার বা দুধের সাথে এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের দেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অন্য NSAID বা অ্যাসপিরিনের সাথে পাকস্থলীতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
- ওয়ারফারিনসহ রক্ত পাতলা করার ঔষধ, কর্টিকোস্টেরয়েড ও SSRI বিষণ্নতারোধী রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
- রক্তচাপের ঔষধ (ACE ইনহিবিটর, ARB, ডাইইউরেটিক) এর কার্যকারিতা কমাতে পারে এবং একসাথে কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
- লিথিয়াম, মেথোট্রেক্সেট ও ডিগক্সিনের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- সাইক্লোস্পোরিন ও ট্যাক্রোলিমাসের সাথে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।
কারা খাবেন না
- ইটোডোলাকে অ্যালার্জি থাকলে, অথবা অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID খেয়ে হাঁপানি, আমবাত বা নাক ফোলার ইতিহাস থাকলে।
- পাকস্থলী বা ডিওডেনামে সক্রিয় আলসার বা রক্তপাত, অথবা বারবার আলসারের ইতিহাস থাকলে।
- তীব্র হার্ট ফেইলিওর থাকলে, বা হার্ট বাইপাস অস্ত্রোপচারের আগে-পরে।
- কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগ থাকলে।
- গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: বদহজম, বুক জ্বালা, পেটব্যথা, বমিভাব, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, মাথা ঘোরা ও মাথাব্যথা। শরীরে পানি জমা, রক্তচাপ বাড়া ও র্যাশ হতে পারে।
কম দেখা গেলেও গুরুতর সমস্যা: পাকস্থলী বা অন্ত্রে আলসার ও রক্তপাত, কিডনির সমস্যা, লিভারের প্রদাহ, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক (বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘদিন খেলে ঝুঁকি বেশি) এবং ত্বকের গুরুতর বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া।
রক্তবমি বা কফির দানার মতো বমি, কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, বুকে ব্যথা, হঠাৎ শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, প্রস্রাব অনেক কমে যাওয়া, ফোসকাযুক্ত র্যাশ, অথবা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় ইটোডোলাক খাবেন না। ২০ সপ্তাহ থেকে এটি শিশুর কিডনি ও গর্ভের পানির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, আর শেষ তিন মাসে একেবারেই খাওয়া যাবে না, কারণ শিশুর হৃদযন্ত্রের ক্ষতি ও প্রসব দেরি হতে পারে। এটি গর্ভধারণেও বাধা দিতে পারে। বুকের দুধে কতটা যায় জানা নেই; দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ বিকল্পের জন্য চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
আগে পাকস্থলীর আলসার, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, কিডনি বা লিভারের রোগ, হাঁপানি, রক্তক্ষরণজনিত রোগ থাকলে, অথবা বয়স্ক বা পানিশূন্য হলে চিকিৎসককে জানান। মদ ও ধূমপান এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো পাকস্থলীর ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘদিন খেলে রক্তচাপ, কিডনি ও লিভার পরীক্ষা লাগতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে ঝিমুনি, বমিভাব, বমি, পেটব্যথা এবং কদাচিৎ পাকস্থলীতে রক্তপাত, কিডনির সমস্যা, শ্বাসকষ্ট বা অচেতনতা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নন-স্টেরয়ডাল প্রদাহনাশক ঔষধ (NSAID), প্রধানত COX-২ বাধাদানকারী।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।