ব্যবহার
ইটোমিডেট একটি দ্রুত কাজ করা জেনারেল অ্যানেস্থেটিক, যা শিরায় দেওয়া হয়। জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়ার শুরুতে রোগীকে ঘুম পাড়াতে (ইনডাকশন) এটি ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে হৃদরোগ বা অস্থির রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে। কখনো কখনো খুব ছোট প্রসিডিউর বা জরুরি অবস্থায় শ্বাসনল বসানোর জন্যও এটি দেওয়া হয়। এটি শুধু হাসপাতালে অ্যানেস্থেটিস্ট বা জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেন।
কীভাবে কাজ করে
ইটোমিডেট মস্তিষ্কের প্রধান শান্তকারক রাসায়নিক বার্তাবাহক GABA-এর কাজ GABA-A রিসেপ্টরে বাড়িয়ে দেয়। এতে ইনজেকশনের সাধারণত এক মিনিটের মধ্যে চেতনা চলে যায়, এবং এক ডোজের প্রভাব কয়েক মিনিট থাকে। অনেক অ্যানেস্থেটিকের মতো এটি হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপে বেশি প্রভাব ফেলে না, তাই দুর্বল রক্তসঞ্চালনের রোগীদের জন্য এটি বেছে নেওয়া হয়। এটি ব্যথা কমায় না, তাই ব্যথার ঔষধ আলাদা করে দেওয়া হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ইটোমিডেট শুধু অ্যানেস্থেসিয়ায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক ধীরে শিরায় ইনজেকশন হিসেবে দেন, পূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও শ্বাস সহায়তার ব্যবস্থা রেখে। রোগীর ওজন, বয়স ও অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের নির্দেশমতো মাত্রা ঠিক করা হয়। বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সাধারণত কম লাগে। অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিকে দমিয়ে দেয় বলে দীর্ঘ সময় ধরে অবিরাম ইনফিউশন হিসেবে ঘুম পাড়ানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হয় না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মস্তিষ্কে কাজ করে এমন অন্য ঔষধ, যেমন ফেন্টানিলের মতো ওপিওয়েড ব্যথানাশক, মিডাজোলামের মতো ঘুমের ঔষধ, অন্য অ্যানেস্থেটিক ও অ্যালকোহল এর প্রভাব বাড়িয়ে ঘুম গভীর করতে ও শ্বাস ধীর করতে পারে। রক্তচাপের ঔষধ রক্তচাপ আরও কমাতে পারে। স্টেরয়েডসহ আপনি যা যা ঔষধ খান সব অ্যানেস্থেটিস্টকে জানান, কারণ ইটোমিডেট অল্প সময়ের জন্য শরীরের নিজস্ব স্টেরয়েড (কর্টিসল) তৈরি কমায়।
কারা খাবেন না
- ইটোমিডেট বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির কার্যক্ষমতা কম থাকলে, যদি না স্টেরয়েড দিয়ে সুরক্ষা দেওয়া হয়।
- আইসিইউতে দীর্ঘমেয়াদি ঘুম পাড়ানোর জন্য অবিরাম ইনফিউশন।
- অ্যাকিউট পোরফাইরিয়া (একটি বিরল বংশগত রক্তের রোগ)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ইনজেকশনের সময় শিরায় ব্যথা বা জ্বালা, পেশির অনিচ্ছাকৃত স্বল্পক্ষণের ঝাঁকুনি (মায়োক্লোনাস), জাগার পর বমিভাব ও বমি, হেঁচকি বা কাশি, এবং শ্বাস অল্প সময়ের জন্য থেমে যাওয়া বা ধীর হওয়া। ইটোমিডেট অস্থায়ীভাবে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির কর্টিসল তৈরি কমায়, এক ডোজের পর সাধারণত কয়েক ঘণ্টার জন্য। ক্ষেত্রবিশেষে গুরুতর অ্যালার্জি হতে পারে।
এই প্রভাবগুলো অ্যানেস্থেসিয়া দল নজরে রাখেন ও চিকিৎসা করেন। বাড়ি ফেরার পর শ্বাসকষ্ট, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, সারা গায়ে ফুসকুড়ি, তীব্র বা অবিরাম বমি, অজ্ঞান হওয়া, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা বিভ্রান্তি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায়, সিজারিয়ান অপারেশনসহ, ইটোমিডেট তখনই দেওয়া হয় যখন অ্যানেস্থেটিস্ট এটিকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করেন; এটি গর্ভফুল পেরিয়ে শিশুর কাছে পৌঁছায়। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; কখন আবার দুধ খাওয়ানো যাবে তা অ্যানেস্থেটিস্ট জানাবেন, সাধারণত পুরোপুরি জেগে ওঠা ও সুস্থ হওয়ার পর।
সতর্কতা
- শ্বাসনালী ও শ্বাস সহায়তার কর্মী ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত থাকলেই কেবল দেওয়া হয়।
- গুরুতর সংক্রমণ (সেপসিস) এবং অ্যাড্রিনাল সমস্যার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সাবধানে দেওয়া হয়; স্টেরয়েড দিয়ে সুরক্ষা লাগতে পারে।
- বয়স্ক, লিভার সিরোসিস বা হার্ট ফেইলিউরের রোগীদের কম মাত্রা দেওয়া হয়।
- অ্যানেস্থেসিয়ার পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা গাড়ি চালাবেন না, যন্ত্র চালাবেন না, অ্যালকোহল পান করবেন না বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজে সই করবেন না, এবং সাথে একজন দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে হাসপাতালের দল তা সামলায়। এতে গভীর অজ্ঞান অবস্থা, শ্বাস ধীর বা বন্ধ হওয়া ও নিম্ন রক্তচাপ হতে পারে। চিকিৎসা সহায়ক: শ্বাস সহায়তা, স্যালাইন ও রক্তচাপ বাড়ানোর ঔষধ, এবং অ্যাড্রিনাল দমনের সন্দেহ হলে হাইড্রোকর্টিসন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
জেনারেল অ্যানেস্থেটিক; শিরাপথে দেওয়া ইনডাকশন এজেন্ট (নন-বার্বিচুরেট, ইমিডাজোল জাতীয়)।
সংরক্ষণ
হাসপাতালের ঔষধ: প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন, সাধারণত ২৫°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে। ফ্রিজে জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।