বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Etrasimod

  • 3 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 2 টি কোম্পানি

ব্যবহার

এট্রাসিমড প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝারি থেকে গুরুতর সক্রিয় আলসারেটিভ কোলাইটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি বৃহদন্ত্রের একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ। অন্য চিকিৎসা যথেষ্ট কাজ না করলে বা উপযুক্ত না হলে এটি দেওয়া হয়।

কীভাবে কাজ করে

এট্রাসিমড একটি স্ফিঙ্গোসিন ১-ফসফেট (S1P) রিসেপ্টর মডিউলেটর। এটি কিছু শ্বেত রক্তকণিকার (লিম্ফোসাইট) S1P রিসেপ্টরে কাজ করে এবং তাদের অনেককে লসিকা গ্রন্থির ভেতরে আটকে রাখে। ফলে এই রোগ প্রতিরোধ কোষ কম সংখ্যায় অন্ত্রে পৌঁছায় এবং প্রদাহ, রক্তপাত ও ডায়রিয়া কমে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

বিশেষজ্ঞের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ঠিক সেভাবেই খান। সাধারণ মাত্রা দিনে একবার একটি ২ mg ট্যাবলেট, খাবারের সাথে, আস্ত গিলে খেতে হয়। শুরুর আগে হৃৎপিণ্ড, চোখ, লিভার ও রক্তের কিছু পরীক্ষা করা হয়। পরপর কয়েক দিন ডোজ বাদ পড়লে আবার শুরুর আগে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন, কারণ আবার হৃৎপিণ্ড পরীক্ষা লাগতে পারে।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

বিটা ব্লকার, ভেরাপামিল, ডিলটিয়াজেম, ডিজক্সিন ও আইভাব্রাডিনের মতো হৃৎস্পন্দন কমানো ঔষধ ধীর হৃৎস্পন্দনের ঝুঁকি বাড়ায়, বিশেষ করে শুরুর সময়। হৃৎছন্দে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ (যেমন অ্যামিওডারোন, সোটালল, কুইনিডিন) সাধারণত এড়ানো হয়। ফ্লুকোনাজল ও CYP2C9 এবং CYP3A4 এনজাইম বন্ধ করে এমন ঔষধ এর মাত্রা বাড়াতে পারে; রিফামপিসিন ও এ ধরনের ঔষধ মাত্রা কমাতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানো বা ক্যান্সারের অন্য ঔষধ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসাকালে ও বন্ধের পর কয়েক সপ্তাহ জীবিত টিকা এড়িয়ে চলুন।

কারা খাবেন না

এট্রাসিমডে অ্যালার্জি থাকলে; গত ৬ মাসে হার্ট অ্যাটাক, অস্থিতিশীল অ্যানজাইনা, স্ট্রোক, মিনি-স্ট্রোক (TIA) বা গুরুতর হার্ট ফেইলিওর হয়ে থাকলে; কার্যকর পেসমেকার ছাড়া নির্দিষ্ট হৃৎছন্দের সমস্যা (দ্বিতীয় মাত্রার মোবিৎজ টাইপ টু বা তৃতীয় মাত্রার হার্ট ব্লক, অথবা সিক সাইনাস সিনড্রোম) থাকলে; রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বা গুরুতর সক্রিয় সংক্রমণ থাকলে; সক্রিয় ক্যান্সার বা ম্যাকুলার ইডিমা থাকলে; অথবা গর্ভবতী হলে বা কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার না করলে খাবেন না।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, লিভার এনজাইম বাড়া, কোলেস্টেরল বাড়া, গিঁটে ব্যথা, মূত্রনালি ও বুকের সংক্রমণ, বমি বমি ভাব এবং লিম্ফোসাইট কমে যাওয়া। প্রথম কয়েক ডোজের পর হৃৎস্পন্দন ধীর হতে পারে। কম দেখা গেলেও গুরুতর প্রভাবের মধ্যে আছে চোখের পেছনে ফোলা (ম্যাকুলার ইডিমা), রক্তচাপ বাড়া, দাদ (শিংগলস) সহ গুরুতর সংক্রমণ এবং কদাচিৎ মস্তিষ্কের সংক্রমণ (PML) বা মস্তিষ্ক ফোলার সিনড্রোম (PRES)।

কাঁপুনিসহ জ্বর বা খুব অসুস্থ লাগা, খুব ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অজ্ঞান হওয়া, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দৃষ্টির পরিবর্তন, তীব্র মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, শরীরের এক পাশে নতুন দুর্বলতা অথবা ত্বক বা চোখ হলুদ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

এট্রাসিমড গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। যেসব নারী গর্ভধারণ করতে পারেন, তাদের চিকিৎসাকালে এবং শেষ ডোজের পর অন্তত ১৪ দিন কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। গর্ভবতী হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে জানান। এটি খাওয়ার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।

সতর্কতা

  • শুরুর আগে ইসিজি, রক্তকণিকা গণনা, লিভার পরীক্ষা এবং ডায়াবেটিস বা আগে চোখের প্রদাহ থাকলে চোখ পরীক্ষা করা হয়।
  • চিকিৎসক জলবসন্তের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পরীক্ষা করে শুরুর আগে টিকার পরামর্শ দিতে পারেন।
  • যেকোনো সংক্রমণ দ্রুত জানান; বন্ধের পর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত রোগ প্রতিরোধ কোষের ওপর প্রভাব থাকতে পারে।
  • নিয়মিত ত্বক পরীক্ষা করান এবং রোদ থেকে ত্বক রক্ষা করুন।
  • বন্ধ করলে আলসারেটিভ কোলাইটিস বেড়ে যেতে পারে; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ করবেন না।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

মাত্রাতিরিক্ত সেবনে হৃৎস্পন্দন ধীর হওয়া ও হৃৎছন্দের পরিবর্তন হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন; হাসপাতালে হৃৎপিণ্ড পর্যবেক্ষণ ও সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

ইমিউনোমডিউলেটর, স্ফিঙ্গোসিন ১-ফসফেট (S1P) রিসেপ্টর মডিউলেটর

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Etrasimod এর ব্র্যান্ড

3 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।