ব্যবহার
ফারিসিমাব কিছু চোখের রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়, যেগুলো কেন্দ্রীয় দৃষ্টি নষ্ট করতে পারে: নিওভাসকুলার (ওয়েট) বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, ডায়াবেটিক ম্যাকুলার ইডিমা (ডায়াবেটিসে রেটিনার কেন্দ্র ফুলে যাওয়া) জনিত দৃষ্টি হ্রাস, এবং রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (রেটিনার শিরা বন্ধ হওয়া) জনিত ম্যাকুলার ইডিমা।
কীভাবে কাজ করে
ফারিসিমাব একটি বাইস্পেসিফিক অ্যান্টিবডি, অর্থাৎ ল্যাবরেটরিতে তৈরি একটি প্রোটিন যা একসাথে দুটি লক্ষ্যে যুক্ত হয়: ভাসকুলার এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর A (VEGF-A) ও অ্যাঞ্জিওপোয়েটিন-২ (Ang-2)। এ দুটিই চোখের পেছনে অস্বাভাবিক, রক্ত ক্ষরণকারী রক্তনালি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এগুলো আটকে দিয়ে ফারিসিমাব ক্ষরণ, ফোলা ও নতুন রক্তনালি তৈরি কমায়, যা দৃষ্টি রক্ষা বা উন্নত করতে সাহায্য করে। দুটি লক্ষ্য আটকানোর ফলে ইনজেকশনের মাঝে বেশি বিরতি দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু চক্ষু বিশেষজ্ঞ অবশ করার ড্রপ দিয়ে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে চোখের ভেতরে ইনজেকশন (ইন্ট্রাভিট্রিয়াল ইনজেকশন) হিসেবে ফারিসিমাব দেন। সাধারণত শুরুতে কয়েকটি ডোজ প্রতি ৪ সপ্তাহে দেওয়া হয়, তারপর চোখের পরীক্ষা ও স্ক্যানের ভিত্তিতে বিরতি বাড়ানো হয় (যেমন প্রতি ১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত)। নির্দিষ্ট মাত্রা ও সূচি চক্ষু বিশেষজ্ঞের নির্দেশমতো।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া গবেষণা হয়নি, এবং খুব অল্প পরিমাণ রক্তে পৌঁছায় বলে মুখে খাওয়ার ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম। যেসব ঔষধ ব্যবহার করেন, বিশেষ করে রক্ত পাতলা করার ঔষধ ও অন্য চোখের চিকিৎসা, তা চক্ষু বিশেষজ্ঞকে জানান।
কারা খাবেন না
- চোখে বা চোখের আশপাশে সক্রিয় বা সন্দেহজনক সংক্রমণ থাকলে।
- চোখের ভেতরে সক্রিয় তীব্র প্রদাহ থাকলে।
- ফারিসিমাব বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ইনজেকশনের জায়গায় চোখের সাদা অংশে রক্তক্ষরণ, চোখে ব্যথা, চোখের সামনে ভাসমান দাগ (ফ্লোটার), সাময়িক ঝাপসা দেখা এবং ইনজেকশনের পর চোখের চাপ বাড়া। কম সাধারণ কিন্তু গুরুতর প্রভাবের মধ্যে আছে চোখের ভেতরে সংক্রমণ (এন্ডোফথালমাইটিস), চোখের ভেতরে প্রদাহ, রেটিনা ছিঁড়ে যাওয়া বা আলাদা হওয়া, ছানি, এবং কদাচিৎ রেটিনার রক্তনালি বন্ধ হওয়া।
ইনজেকশনের পরের কয়েক দিনে চোখের ব্যথা বা লালচে ভাব বাড়লে, হঠাৎ দৃষ্টি কমে যাওয়া বা পরিবর্তন, আলোতে অস্বস্তি, অনেক নতুন ফ্লোটার বা আলোর ঝলকানি, অথবা দৃষ্টির কিছু অংশ পর্দার মতো ঢেকে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ফারিসিমাব রক্তনালি তৈরিতে বাধা দেয়, যা তাত্ত্বিকভাবে গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। উপকার স্পষ্টভাবে ঝুঁকির চেয়ে বেশি না হলে গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা উচিত নয়। গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের চিকিৎসা চলাকালে এবং শেষ ইনজেকশনের পর অন্তত ৩ মাস কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা উচিত। চিকিৎসা চলাকালে বুকের দুধ খাওয়ানো সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
- ইনজেকশনের পর দৃষ্টি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না।
- প্রতিটি ইনজেকশনের পর চোখের চাপ পরীক্ষা করা হয়।
- গ্লকোমা থাকলে বা সম্প্রতি স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- সব ফলো-আপ অ্যাপয়েন্টমেন্ট বজায় রাখুন, কারণ ইনজেকশন বাদ পড়লে দৃষ্টি হ্রাস পেতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
নির্ধারিত পরিমাণের বেশি ইনজেকশন দিলে চোখের চাপ বাড়তে পারে। এমন হলে চক্ষু বিশেষজ্ঞ সঙ্গে সঙ্গে চাপ পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা করবেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
চোখের অ্যান্টি-VEGF ও অ্যান্টি-অ্যাঞ্জিওপোয়েটিন-২ বাইস্পেসিফিক অ্যান্টিবডি।
সংরক্ষণ
রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন, জমাবেন না, এবং আলো থেকে রক্ষা করতে ভায়ালটি বাইরের বাক্সে রাখুন। ক্লিনিক প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী এটি সংরক্ষণ ও প্রস্তুত করে।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।