ব্যবহার
কম চর্বিযুক্ত খাবার, ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ফেনোফাইব্রেট ব্যবহার হয়:
- রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড (এক ধরনের চর্বি) বেশি হলে, বিশেষ করে খুব বেশি হলে;
- কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড দুটোই বেশি হলে, যখন স্ট্যাটিন উপযুক্ত নয় বা একা যথেষ্ট নয়; সেক্ষেত্রে স্ট্যাটিনের সাথে যোগ করা হতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
ফেনোফাইব্রেট ফাইব্রেট গ্রুপের ঔষধ। এটি লিভারের একটি প্রাকৃতিক সুইচ (PPAR-আলফা) চালু করে, যা রক্ত থেকে চর্বি ভাঙতে ও সরাতে সাহায্য করে। এতে ট্রাইগ্লিসারাইড ও LDL (খারাপ) কোলেস্টেরল কমে এবং HDL (ভালো) কোলেস্টেরল বাড়ে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: মাত্রা ক্যাপসুল বা ট্যাবলেটের ধরনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ মাত্রা দিনে একবার একটি ২০০ mg মাইক্রোনাইজড ক্যাপসুল, প্রধান খাবারের সাথে, অথবা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী; অন্য রূপে দিনে একবার ১৪৫ mg বা ১৬০ mg। পরামর্শ ছাড়া এক রূপ থেকে অন্য রূপে বদল করবেন না।
কিডনির সমস্যায় মাত্রা কমাতে হতে পারে, গুরুতর কিডনির রোগে এড়ানো হয়। শিশুদের সাধারণত দেওয়া হয় না। চিকিৎসা কাজ করছে কি না দেখতে কয়েক মাস পর আবার রক্তের চর্বি পরীক্ষা করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ফেনোফাইব্রেট ওয়ারফারিন ও এ ধরনের রক্ত পাতলা করার ঔষধের প্রভাব বাড়াতে পারে, তাই মাত্রা কমানো ও রক্ত পরীক্ষা দরকার হতে পারে। স্ট্যাটিনের সাথে খেলে পেশির সমস্যার ঝুঁকি কিছুটা বাড়ে। সাইক্লোস্পোরিন কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। পিত্ত অ্যাসিড বাইন্ডার (যেমন কোলেস্টিরামিন) ফেনোফাইব্রেটের অন্তত ১ ঘণ্টা পরে বা ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা আগে খান। আপনি যে সব ঔষধ, ভিটামিন ও ভেষজ পণ্য খান, তা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- গুরুতর লিভারের রোগ বা গুরুতর কিডনির রোগে
- পিত্তথলির রোগ বা পিত্তপাথর থাকলে
- অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ (প্যানক্রিয়াটাইটিস) হলে, যদি না তা খুব বেশি ট্রাইগ্লিসারাইডের কারণে হয়
- আগে ফাইব্রেট বা কিটোপ্রোফেন খাওয়ার সময় রোদে ত্বকে প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে
- ফেনোফাইব্রেট বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে (কিছু পণ্যে সয়া বা চিনাবাদামের তেল থাকে)
- বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: পেটব্যথা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটে গ্যাস এবং রক্ত পরীক্ষায় লিভার এনজাইম সামান্য বাড়া।
কম ক্ষেত্রে: মাথাব্যথা, র্যাশ, চুলকানি, রোদে ত্বকের অস্বস্তি, পিত্তপাথর ও পেশিতে ব্যথা।
কারণ ছাড়া পেশিতে ব্যথা, টনটনে ভাব বা দুর্বলতা, বিশেষ করে জ্বর বা গাঢ় প্রস্রাবের সাথে; পিঠে ছড়িয়ে পড়া তীব্র পেটব্যথা; ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া; এক পায়ে ব্যথা ও ফোলা বা হঠাৎ বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট; অথবা মুখ ফোলা বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় নিরাপত্তা সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য নেই; ডাক্তার যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, শুধু তখনই ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করবেন না।
সতর্কতা
- চিকিৎসার আগে ও চলাকালে সাধারণত লিভার ও কিডনির রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
- বয়স্ক, কিডনির সমস্যা, থাইরয়েডের কাজ কম থাকা বা বেশি মদ্যপানের ক্ষেত্রে পেশির সমস্যার ঝুঁকি বেশি, তাই বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- স্বাস্থ্যকর খাবার ও ব্যায়াম চালিয়ে যান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনের অভিজ্ঞতা কম। বেশি খেয়ে ফেললে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান; লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
রক্তের চর্বি কমানোর ঔষধ (ফাইব্রেট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।