ব্যবহার
ফেন্টানিল অত্যন্ত শক্তিশালী অপিওয়েড ব্যথানাশক। ইনজেকশন হিসেবে এটি হাসপাতালে অপারেশনের সময় ও পরে ব্যথা কমাতে, অ্যানেস্থেসিয়ার অংশ হিসেবে এবং আইসিইউতে ব্যবহৃত হয়। ত্বকের প্যাচ হিসেবে এটি ক্যানসারের ব্যথার মতো তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ব্যবহৃত হয়, শুধু তাদের জন্য যারা আগে থেকেই নিয়মিত অপিওয়েড খান ও সহনশীল। অল্প বা অল্পমেয়াদি ব্যথার জন্য নয়।
কীভাবে কাজ করে
ফেন্টানিল মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের অপিওয়েড রিসেপ্টরে যুক্ত হয়ে ব্যথার সংকেত আটকায় এবং মস্তিষ্ক কীভাবে ব্যথা অনুভব করে তা বদলে দেয়। এটি মরফিনের চেয়ে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ গুণ শক্তিশালী, তাই খুব অল্প মাত্রা ব্যবহার করা হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ইনজেকশন শুধু চিকিৎসক, অ্যানেস্থেটিস্ট বা নার্স দেন; মাত্রা রোগী অনুযায়ী ঠিক করা হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্যাচ ঠিক প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার করুন: বাহুর উপরে, বুকে বা পিঠে পরিষ্কার, শুকনো, লোমহীন ও অক্ষত ত্বকে লাগিয়ে ৩০ সেকেন্ড চেপে ধরুন, সাধারণত প্রতি ৭২ ঘণ্টায় বদলান এবং প্রতিবার নতুন জায়গা ব্যবহার করুন। প্যাচ কাটবেন না; হিটিং প্যাড, গরম পানিতে গোসল বা সওনার মতো তাপ প্যাচ থেকে দূরে রাখুন, কারণ তাপে শোষণ বাড়ে। ব্যবহৃত প্যাচ আঠালো দিক ভাঁজ করে নিরাপদে ফেলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যালকোহল, বেনজোডায়াজেপিন, ঘুমের ঔষধ, অন্য অপিওয়েড, গ্যাবাপেন্টিন, প্রিগাবালিন ও ঘুম আনা অ্যান্টিহিস্টামিন শ্বাস বিপজ্জনকভাবে ধীর করতে পারে।
- ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, কিটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল, রিটোনাভির, ফ্লুকোনাজোল ও গ্রেপফ্রুটের রস ফেন্টানিলের মাত্রা ও মাত্রাতিরিক্ততার ঝুঁকি বাড়ায়।
- রিফামপিসিন ও কার্বামাজেপিন এর প্রভাব কমায়; এগুলো বন্ধ করলে মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
- SSRI, SNRI অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বা MAO ইনহিবিটরের সাথে সেরোটোনিন সিন্ড্রোম নামের গুরুতর প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
কারা খাবেন না
- ফেন্টানিল বা প্যাচের আঠালো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- পর্যবেক্ষণ ছাড়া তীব্র শ্বাসকষ্ট বা তীব্র হাঁপানিতে।
- আগে অপিওয়েডে অভ্যস্ত নন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্যাচ, এবং অল্পমেয়াদি বা অপারেশনপরবর্তী ব্যথায় প্যাচ।
- অন্ত্র বন্ধ থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণভাবে তন্দ্রা, বমিভাব, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথা ঘোরা, ঘাম, চুলকানি, মুখ শুকানো ও বিভ্রান্তি হতে পারে। প্যাচে ত্বক লাল হতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে সহনশীলতা ও নির্ভরতা তৈরি হতে পারে।
শ্বাস ধীর, অগভীর বা শব্দযুক্ত হলে, খুব ঘুম ঘুম ভাব বা জাগানো না গেলে, চোখের মণি খুব ছোট হলে, ঠোঁট নীল হলে বা লুটিয়ে পড়লে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন। বুক ভার লাগা, খিঁচুনি, তীব্র বিভ্রান্তি, অথবা জ্বর ও পেশি কাঁপাসহ অস্থিরতা হলেও সাহায্য নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু স্পষ্ট প্রয়োজনে ব্যবহার করা উচিত। দীর্ঘদিন ব্যবহারে নবজাতকের প্রত্যাহার উপসর্গ হতে পারে, আর প্রসবের সময় ব্যবহারে শিশুর শ্বাস ধীর হতে পারে। এটি বুকের দুধে যায়; নিয়মিত ব্যবহারের সময় বুকের দুধ খাওয়ানো সুপারিশ করা হয় না, চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন।
সতর্কতা
- নিয়ন্ত্রিত ঔষধ: আসক্তি, অপব্যবহার ও মাত্রাতিরিক্ততার ঝুঁকি আছে; তালাবদ্ধ করে রাখুন এবং কখনো অন্যকে দেবেন না।
- শিশুর শরীরে ভুলবশত প্যাচ লাগলে মৃত্যু হতে পারে; প্যাচ খুলে অন্যের গায়ে লেগে গেছে কি না দেখুন।
- ঘুম ঘুম ভাব হলে গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না।
- দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ধীরে ধীরে মাত্রা কমাতে হয়।
- জ্বর হলে প্যাচ থেকে শোষণ বাড়তে পারে; চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে তীব্র ঘুম, শ্বাস ধীর বা বন্ধ হওয়া, চোখের মণি খুব ছোট হওয়া ও অজ্ঞান হওয়া দেখা দেয়, এবং মৃত্যুও হতে পারে। প্যাচ খুলে ফেলুন, সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবায় ফোন করুন এবং থাকলে নালোক্সোন দিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অপিওয়েড ব্যথানাশক (নিয়ন্ত্রিত ঔষধ)।
সংরক্ষণ
মূল প্যাকে ২৫°C এর নিচে, আলো ও তাপ থেকে দূরে, তালাবদ্ধ করে এবং শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। হাসপাতালের ইনজেকশন প্যাকে লেখা নির্দেশনা অনুযায়ী রাখা হয়।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।