ব্যবহার
ফেরিক অ্যামোনিয়াম সাইট্রেট একটি আয়রন লবণ, যা মূলত আয়রন সিরাপ ও টনিকে থাকে, প্রায়ই ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন B12 এর মতো ভিটামিনের সাথে। আয়রনের ঘাটতি ও আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়, যার ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা, ফ্যাকাশে ত্বক ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। গর্ভাবস্থায়, রক্তক্ষরণের পর, দ্রুত বৃদ্ধির সময় এবং খাবারে আয়রন কম থাকলে এটি সচরাচর ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রন দরকার; হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকার সেই প্রোটিন যা সারা শরীরে অক্সিজেন বহন করে। এই ঔষধ থেকে আয়রন অন্ত্রে শোষিত হয় এবং অস্থিমজ্জা নতুন লোহিত রক্তকণিকা তৈরি ও শরীরের আয়রনের মজুদ পূরণে তা ব্যবহার করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
পণ্যভেদে শক্তি আলাদা হয়, তাই লেবেলের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খান। পেটের অস্বস্তি কমাতে সিরাপ সাধারণত খাবারের পরে খাওয়া হয়। সাথে দেওয়া মাপার কাপ বা চামচ দিয়ে মাপুন। কমলার রস বা ভিটামিন C এর সাথে খেলে শোষণ বাড়তে পারে, আর প্রতি মাত্রার আগে-পরে ১ থেকে ২ ঘণ্টা চা, কফি ও দুধ এড়িয়ে চলুন। রক্তের মাত্রা স্বাভাবিক হওয়ার পরও আয়রনের মজুদ পূরণে সাধারণত প্রায় ৩ মাস চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়। তরল আয়রনে দাঁতে দাগ পড়তে পারে; স্ট্র ব্যবহার করুন বা পরে কুলি করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যান্টাসিড, ক্যালসিয়াম, জিংক ও ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত পণ্য: আয়রনের শোষণ কমায়; ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
- টেট্রাসাইক্লিন, ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও লেভোফ্লক্সাসিন: আয়রন এদের শোষণ কমায়; অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
- লেভোথাইরক্সিন, লেভোডোপা, পেনিসিলামিন ও বাইসফসফোনেট: অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন।
- ওমিপ্রাজল ও এ ধরনের অ্যাসিড কমানোর ঔষধ: আয়রনের শোষণ কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমা (হিমোক্রোমাটোসিস বা হিমোসিডেরোসিস), আয়রনের অভাব ছাড়া অন্য কারণে রক্তস্বল্পতা (যেমন থালাসেমিয়া বা হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া) থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া, বারবার রক্ত নিতে হলে, অথবা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- বমিভাব, পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি।
- কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া।
- কালচে বা কালো মল (এটি ক্ষতিকর নয়)।
- দাঁতে সাময়িক দাগ।
পেটে ব্যথাসহ আলকাতরার মতো কালো মল, রক্তবমি, তীব্র পেটে ব্যথা, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। শিশু ভুল করে আয়রন খেয়ে ফেললেও সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় আয়রন সাপ্লিমেন্ট সচরাচর সুপারিশ করা হয়। ডাক্তারের পরামর্শমতো মাত্রায় খান।
সতর্কতা
দীর্ঘদিন ব্যবহারের আগে ডাক্তার দিয়ে রক্তস্বল্পতার কারণ পরীক্ষা করান। পাকস্থলীর ঘা, অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ, লিভারের রোগ বা অ্যালকোহলের সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে জানান। পরামর্শ ছাড়া একই সময়ে অন্য আয়রন পণ্য খাবেন না। সিরাপে চিনি থাকতে পারে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
আয়রনের মাত্রাতিরিক্ত সেবন বিপজ্জনক, বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। প্রথমদিকে বমি, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা ও ঘুমভাব হয়; আপাতদৃষ্টিতে ভালো হওয়ার পরেও লিভার ও অন্যান্য অঙ্গের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। রোগীকে ভালো দেখালেও সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আয়রন প্রস্তুতি (হিমাটিনিক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের আয়রন বিষক্রিয়ার ঝুঁকি গুরুতর, তাই অবশ্যই নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।