ব্যবহার
ফেরিক কার্বক্সিমল্টোজ শিরায় দেওয়া একটি আয়রন ঔষধ। আয়রনের ঘাটতি এবং আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতার চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয়, যখন আয়রন ট্যাবলেটে কাজ হয়নি, সহ্য হয় না, অথবা দ্রুত আয়রন পূরণ করা দরকার, যেমন অপারেশনের আগে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে, হার্ট ফেইলিউরে বা বেশি রক্তক্ষরণে। রক্ত পরীক্ষা করে রোগ নিশ্চিত হতে হবে।
কীভাবে কাজ করে
এর প্রতিটি কণার ভেতরে আয়রন একটি শর্করার আবরণে থাকে। শিরায় দেওয়ার পর শরীর ধীরে ধীরে এই আয়রন বের করে হিমোগ্লোবিন (লোহিত কণিকার যে অংশ অক্সিজেন বহন করে) তৈরি করে এবং শরীরের আয়রনের মজুদ পূরণ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ডাক্তার বা নার্স ধীরে শিরায় ইনজেকশন বা স্যালাইনের মাধ্যমে দেন। মোট মাত্রা ডাক্তার আপনার ওজন ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা দেখে ঠিক করেন, এবং তা একাধিকবারে ভাগ করে দেওয়া হতে পারে। প্রতিবার দেওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট আপনাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ১ বছরের কম বয়সী শিশুকে দেওয়া হয় না, আর শিশুদের মাত্রা ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এটি মুখে খাওয়া আয়রন ট্যাবলেট বা সিরাপের শোষণ কমিয়ে দেয়। ডাক্তার না বললে শেষ ইনজেকশনের অন্তত ৫ দিন পর পর্যন্ত মুখে খাওয়ার আয়রন শুরু করবেন না। আপনি যত ঔষধ খান সবগুলোর কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- ফেরিক কার্বক্সিমল্টোজ বা অন্য কোনো আয়রন ইনজেকশনে এলার্জি থাকলে।
- রক্তস্বল্পতা যদি আয়রনের অভাবে না হয়।
- শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমে থাকলে বা শরীর আয়রন ব্যবহার করতে না পারলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, মুখ লাল হয়ে যাওয়া, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া এবং সুঁই দেওয়ার জায়গায় ব্যথা বা জ্বালা। ঔষধ চামড়ার নিচে বেরিয়ে গেলে বাদামি দাগ পড়তে পারে যা অনেকদিন থাকতে পারে, তাই জায়গাটি ব্যথা করলে বা ফুলে গেলে সঙ্গে সঙ্গে নার্সকে বলুন। বিশেষ করে বারবার দিলে রক্তে ফসফেট কমে যেতে পারে, এতে ক্লান্তি, পেশির দুর্বলতা বা হাড়ে ব্যথা হতে পারে।
ইনজেকশন চলার সময় বা পরে শ্বাসকষ্ট, শ্বাসে শাঁ শাঁ শব্দ, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, সারা শরীরে র্যাশ, বুকে ব্যথা বা অজ্ঞান ভাব হলে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসে দেওয়া হয় না। পরের দিকে শুধু তখনই দেওয়া হয় যখন ডাক্তার মনে করেন উপকার স্পষ্ট, কারণ মায়ের এলার্জি প্রতিক্রিয়া শিশুর ক্ষতি করতে পারে। বুকের দুধে খুব সামান্য যায় এবং শিশুর ক্ষতির সম্ভাবনা কম; ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
সতর্কতা
- আগে কোনো এলার্জি, হাঁপানি, একজিমা বা আয়রন ইনজেকশনে প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- এখন কোনো সংক্রমণ, লিভারের রোগ বা ফসফেট কম থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- পরবর্তী মাত্রা দেওয়ার আগে ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করবেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
স্বাস্থ্যকর্মীরা ঔষধটি দেন বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। সময়ের সাথে শরীরে বেশি আয়রন জমতে পারে; ডাক্তার আয়রনের মাত্রা পরীক্ষা করেন এবং দরকার হলে চিকিৎসা দেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইনজেকশনযোগ্য আয়রন প্রস্তুতি।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না। সাধারণত হাসপাতাল বা ক্লিনিক এটি সংরক্ষণ ও প্রস্তুত করে। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।