ব্যবহার
ফেরিক সাইট্রেট দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের দুটি কাজে ব্যবহার হয়: ডায়ালাইসিসরত রোগীদের রক্তে বেশি ফসফেট নিয়ন্ত্রণে, এবং ডায়ালাইসিস না নেওয়া কিডনি রোগীদের আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার চিকিৎসায়।
কীভাবে কাজ করে
অন্ত্রে ফেরিক সাইট্রেটের আয়রন খাবারের ফসফেটের সাথে যুক্ত হয়ে এমন যৌগ তৈরি করে যা শোষিত হয় না এবং মলের সাথে বের হয়ে যায়। ফলে রক্তে ফসফেট কম প্রবেশ করে। কিছু আয়রন শোষিতও হয়, যা শরীরের আয়রনের মজুদ পূরণ করে এবং হিমোগ্লোবিন (লোহিত কণিকার অক্সিজেন বহনকারী অংশ) বাড়াতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
খাবারের সাথে ট্যাবলেট আস্ত গিলে খান। রক্তের ফসফেট, আয়রন ও হিমোগ্লোবিনের ফলাফল দেখে কিডনি বিশেষজ্ঞ মাত্রা ঠিক করেন; উচ্চ ফসফেটে প্রচলিত শুরুর মাত্রা ১ g (প্রায় ২১০ mg আয়রন) দিনে ৩ বার খাবারের সাথে, আর আয়রনের ঘাটতিতে দিনে ১ থেকে ৩ বার। চিবাবেন না বা গুঁড়া করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ডক্সিসাইক্লিন ফেরিক সাইট্রেটের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে খান।
- সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও অন্য কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক, লেভোথায়রক্সিন ও কিছু ঔষধ কম শোষিত হতে পারে; সময়ের ব্যবধান সম্পর্কে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞাসা করুন।
- চিকিৎসক না বললে অন্য আয়রন সাপ্লিমেন্টের সাথে খাবেন না, কারণ আয়রনের মাত্রা অতিরিক্ত হতে পারে।
কারা খাবেন না
- ফেরিক সাইট্রেটে অ্যালার্জি থাকলে।
- শরীরে আয়রন অতিরিক্ত জমার রোগ, যেমন হিমোক্রোমাটোসিস।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কালচে বা কালো মল (আয়রনের কারণে স্বাভাবিক), ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমিভাব, বমি, পেটব্যথা ও গ্যাস সাধারণ।
দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার সাথে আলকাতরার মতো কালো মল, রক্তবমি, পেটে তীব্র ব্যথা, বা মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের তথ্য সীমিত। শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন; অতিরিক্ত আয়রন শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সতর্কতা
শরীরে আয়রন জমে যেতে পারে, তাই চিকিৎসক নিয়মিত আয়রনের মাত্রা (ফেরিটিন ও ট্রান্সফেরিন স্যাচুরেশন) পরীক্ষা করবেন। ইনফ্লামেটরি বাওয়েল ডিজিজ বা অন্ত্রে রক্তক্ষরণ থাকলে জানান। আয়রনযুক্ত ঔষধ শিশুদের কাছ থেকে দূরে রাখুন; শিশুরা ভুল করে বেশি আয়রন খেলে তা বিপজ্জনক।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
আয়রনের মাত্রাতিরিক্ত সেবনে বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, কালো মল এবং গুরুতর ক্ষেত্রে শক ও লিভারের ক্ষতি হতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ফসফেট বাইন্ডার ও আয়রন প্রতিস্থাপনকারী ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রটি ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।