ব্যবহার
ফেরিক পাইরোফসফেট সাইট্রেট একটি আয়রন প্রতিস্থাপন ঔষধ, যা হিমোডায়ালাইসিসে থাকা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগীদের আয়রন পূরণ ও হিমোগ্লোবিন বজায় রাখতে ব্যবহৃত হয়। ডায়ালাইসিসে থাকা মানুষের নিয়মিত আয়রন কমে যায়; আয়রন স্থির রাখলে আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ হয় এবং রক্তস্বল্পতার অন্য চিকিৎসা ভালো কাজ করে।
কীভাবে কাজ করে
এতে আয়রন দ্রবণীয় আকারে থাকে, যা সরাসরি ট্রানসফেরিনের সাথে যুক্ত হয়; ট্রানসফেরিন রক্তে আয়রন বহনকারী প্রোটিন। এরপর এই আয়রন লিভারে জমা না হয়ে সরাসরি অস্থিমজ্জায় পৌঁছায়, যেখানে নতুন লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিন তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এটি শুধু ডায়ালাইসিস ইউনিটে চিকিৎসক বা নার্স দেন; পণ্যভেদে প্রতি সেশনে ডায়ালাইসেটে (ডায়ালাইসিসের তরল) মিশিয়ে অথবা ডায়ালাইসিস সার্কিটে ধীর শিরাপথে ইনফিউশন হিসেবে। আয়রন ও হিমোগ্লোবিনের রক্ত পরীক্ষা দেখে কিডনি বিশেষজ্ঞ মাত্রা ও সূচি ঠিক করেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। আয়রনের আধিক্য এড়াতে চিকিৎসকের পরিকল্পনা ছাড়া অন্য শিরাপথে দেওয়া আয়রনের সাথে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। মুখে খাওয়ার আয়রন ও অন্য আয়রনযুক্ত পণ্য ডায়ালাইসিস দলকে দিয়ে পর্যালোচনা করান।
কারা খাবেন না
- ফেরিক পাইরোফসফেট সাইট্রেট বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- শরীরে আয়রনের আধিক্য (যেমন হিমোক্রোমাটোসিস) থাকলে।
- আয়রনের অভাব ছাড়া অন্য কারণে রক্তস্বল্পতা হলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মাথাব্যথা, হাত বা পা ফোলা, পেশিতে টান, ডায়ালাইসিসের সময় রক্তচাপ কমে যাওয়া, ক্লান্তি, জ্বর, হাত-পায়ে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট। ডায়ালাইসিস অ্যাক্সেসের জায়গায় সমস্যা হতে পারে।
শ্বাসকষ্ট, শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ, মুখ বা গলা ফোলা, র্যাশ, বুকে চাপ বা হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে স্বাস্থ্যকর্মীরা চিকিৎসা বন্ধ করে জরুরি ব্যবস্থা নেবেন। ডায়ালাইসিসের সময় খারাপ লাগলে সঙ্গে সঙ্গে জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের তথ্য সীমিত। চিকিৎসক যদি মনে করেন উপকার সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি, কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত।
সতর্কতা
অতিরিক্ত আয়রন এড়াতে নিয়মিত আয়রনের মাত্রা (সিরাম আয়রন, ফেরিটিন, ট্রানসফেরিন স্যাচুরেশন) ও হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসার সময় ও পরে অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়ার জন্য রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সক্রিয় সংক্রমণ থাকলে সাবধানে ব্যবহার করা উচিত।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
দীর্ঘদিন বেশি আয়রন পেলে শরীরে আয়রনের আধিক্য হয়ে অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। চিকিৎসা বন্ধ করে আয়রনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয়; পরবর্তী ব্যবস্থা চিকিৎসক ঠিক করেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আয়রন প্রতিস্থাপন ঔষধ (শিরাপথে দেওয়ার আয়রন)।
সংরক্ষণ
প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণত ৩০°C এর নিচে রাখুন। জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।