ব্যবহার
ফেরাস গ্লুকোনেট একটি আয়রন সাপ্লিমেন্ট, যা আয়রনের ঘাটতি এবং আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। গর্ভাবস্থা, অতিরিক্ত মাসিক, রক্তক্ষরণের পর, বৃদ্ধির সময় এবং অপুষ্টিকর খাবারের ক্ষেত্রে যখন আয়রনের চাহিদা বেশি বা গ্রহণ কম, তখন এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রন দরকার। হিমোগ্লোবিন লোহিত কণিকার প্রোটিন, যা সারা শরীরে অক্সিজেন বহন করে। ফেরাস গ্লুকোনেট অন্ত্র থেকে শোষণযোগ্য আকারে আয়রন সরবরাহ করে। কয়েক সপ্তাহে হিমোগ্লোবিন বাড়ে এবং ক্লান্তি, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্ট কমে। এরপর শরীরের আয়রন ভাণ্ডার পূরণের জন্য কয়েক মাস চিকিৎসা চলে। অন্য কিছু আয়রন লবণের তুলনায় এতে ট্যাবলেটপ্রতি আয়রন কম থাকে এবং পেটে কিছুটা হালকা হতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা গণনা করা হয় মৌলিক (এলিমেন্টাল) আয়রনের পরিমাণ দিয়ে। প্রাপ্তবয়স্কদের আয়রনের ঘাটতির চিকিৎসায় সাধারণত দিনে মোট প্রায় ১০০ থেকে ২০০ mg মৌলিক আয়রন ভাগ করে, বা ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী; প্রতিরোধে লেবেলের নির্দেশমতো কম মাত্রা। খালি পেটে, খাবারের ১ ঘণ্টা আগে পানি বা কমলার রসের সাথে খেলে সবচেয়ে ভালো শোষিত হয়; পেটে সমস্যা হলে খাবারের সাথে খাওয়া যায়। রক্তের মাত্রা স্বাভাবিক হওয়ার পরও প্রায় ৩ মাস, বা ডাক্তারের পরামর্শমতো চালিয়ে যান। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী, তাই ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী দিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যান্টাসিড, ক্যালসিয়াম, জিংক, চা, কফি, দুধ ও ডিম আয়রনের শোষণ কমায়; অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
- আয়রন টেট্রাসাইক্লিন (যেমন ডক্সিসাইক্লিন), সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও অন্য কুইনোলোন, লেভোথাইরক্সিন, লিভোডোপা ও পেনিসিলামিনের শোষণ কমায়; অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন।
- ভিটামিন সি আয়রনের শোষণ বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- হিমোক্রোমাটোসিস বা হিমোসিডেরোসিসের মতো শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমার রোগ।
- আয়রনের অভাব ছাড়া অন্য কারণে রক্তস্বল্পতা, যেমন থ্যালাসেমিয়া বা হিমোলাইটিক এনিমিয়া, যদি না আয়রনের ঘাটতিও থাকে।
- যারা বারবার রক্ত নেন।
- কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া এবং গাঢ় বা কালো মল (যা ক্ষতিকর নয়)। তরল আকারের আয়রন দাঁতে দাগ ফেলতে পারে; স্ট্র দিয়ে খান ও মুখ ধুয়ে ফেলুন।
পেটে তীব্র ব্যথা, রক্তবমি, দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার সাথে আলকাতরার মতো কালো পায়খানা (যা রক্তক্ষরণের লক্ষণ হতে পারে), অথবা গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। শিশু আয়রন ট্যাবলেট গিলে ফেললে সুস্থ মনে হলেও সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় আয়রন সাপ্লিমেন্ট প্রায়ই দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত মাত্রায় নিরাপদ। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এটি নিরাপদ।
সতর্কতা
- আয়রনের ঘাটতির কারণ খুঁজে বের করুন, বিশেষ করে পুরুষ ও মেনোপজ পরবর্তী নারীদের, কারণ এটি গোপন রক্তক্ষরণের ফল হতে পারে।
- ঘাটতি না থাকলে পরামর্শ ছাড়া বাড়তি আয়রন খাবেন না।
- পাকস্থলীর আলসার বা প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ থাকলে সাবধান থাকুন।
- শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন; আয়রনের মাত্রাতিরিক্ত সেবন ছোট শিশুদের বিষক্রিয়ার একটি প্রধান কারণ।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
আয়রনের মাত্রাতিরিক্ত সেবন বিপজ্জনক, বিশেষ করে শিশুদের জন্য। প্রথমে বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা ও ঝিমুনি হয়, যা কিছুক্ষণ কমে গেছে মনে হলেও পরে গুরুতর লিভারের ক্ষতি, শক ও ভেঙে পড়া হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
রক্তবর্ধক (হিমাটিনিক); মুখে খাওয়ার আয়রন সাপ্লিমেন্ট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।