ব্যবহার
ফেরাস সালফেট মুখে খাওয়ার আয়রন সাপ্লিমেন্ট। এটি ব্যবহার হয়:
- আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার চিকিৎসায়
- গর্ভাবস্থা, রক্তক্ষরণের পর, অতিরিক্ত মাসিক বা অপুষ্টিতে আয়রনের ঘাটতি প্রতিরোধে
প্রায়ই একই ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলে ফলিক অ্যাসিডের সাথে থাকে, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার জন্য।
কীভাবে কাজ করে
এটি শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে। হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রন দরকার, যা লোহিত কণিকায় শরীরজুড়ে অক্সিজেন বহন করে। আয়রনের মাত্রা বাড়লে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সাধারণত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও ফ্যাকাশে ভাব কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক, চিকিৎসা: সাধারণত দিনে ১ বার ২০০ mg এর ১টি ট্যাবলেট (প্রায় ৬৫ mg আয়রন), ডাক্তার বললে দিনে ২ বা ৩ বার। প্রতিরোধ: দিনে ১টি ট্যাবলেট। মডিফাইড-রিলিজ ও কম্বিনেশন পণ্যের শক্তি আলাদা, তাই লেবেলের নির্দেশ মানুন। গর্ভাবস্থা ও শিশু: ডাক্তারের নির্দেশমতো।
সবচেয়ে ভালো শোষণের জন্য খালি পেটে (খাবারের ১ ঘণ্টা আগে) খান, তবে পেটে অস্বস্তি হলে খাবারের সাথে খাওয়া যায়। ট্যাবলেট পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান। রক্তের মাত্রা স্বাভাবিক হওয়ার পরও সাধারণত প্রায় ৩ মাস চালিয়ে যেতে হয়, যাতে শরীরের আয়রনের ভাণ্ডার পূর্ণ হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যান্টাসিড, ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট, জিঙ্ক, দুধ, চা, কফি ও ডিম আয়রনের শোষণ কমায়; অন্তত ২ ঘণ্টা বিরতি দিন।
- আয়রন ডক্সিসাইক্লিন ও অন্য টেট্রাসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও অন্য কুইনোলোন, লেভোথাইরক্সিন, লেভোডোপা, মিথাইলডোপা, পেনিসিলামিন ও বাইসফসফোনেটের শোষণ কমায়; অন্তত ২ ঘণ্টা (লেভোথাইরক্সিনের ক্ষেত্রে ৪ ঘণ্টা) বিরতি দিন।
- ওমিপ্রাজল ও এ ধরনের অ্যাসিড কমানোর ঔষধ দীর্ঘদিন খেলে আয়রনের শোষণ কমতে পারে।
- ভিটামিন সি (যেমন কমলার রস) শোষণে সাহায্য করতে পারে।
কারা খাবেন না
- শরীরে আয়রন বেশি জমার রোগ, যেমন হিমোক্রোমাটোসিস বা হিমোসিডেরোসিস
- আয়রনের ঘাটতি ছাড়া অন্য কারণে রক্তস্বল্পতা (যেমন থ্যালাসেমিয়া, যদি না ডাক্তার আয়রন দেন)
- বারবার রক্ত নেওয়া রোগী
- ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: কালচে বা কালো পায়খানা (ক্ষতিকর নয়, স্বাভাবিক), কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা বা অস্বস্তি, বুক জ্বালা ও ডায়রিয়া। তরল আয়রন দাঁতে দাগ ফেলতে পারে; স্ট্র দিয়ে খান এবং পরে দাঁত ব্রাশ করুন।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- পেটব্যথাসহ কালো, আঠালো পায়খানা, বা রক্তবমি (সম্ভাব্য রক্তক্ষরণ, যা স্বাভাবিক কালচে পায়খানা থেকে আলাদা)
- তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, বা বুকে ব্যথাসহ গিলতে কষ্ট (ট্যাবলেট আটকে যেতে পারে)
- মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা শরীরে র্যাশ
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
আয়রনের ঘাটতি প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় প্রায়ই আয়রন খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রায় খান।
সতর্কতা
- দীর্ঘদিন খাওয়ার আগে রক্তস্বল্পতার কারণ ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করান।
- পরামর্শ ছাড়া একসাথে একাধিক আয়রনের ঔষধ খাবেন না।
- পেপটিক আলসার, অন্ত্রের রোগ বা বারবার রক্ত নেওয়ার ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- বয়স্করা খাদ্যনালিতে জ্বালা এড়াতে সোজা হয়ে বসে বেশি পানি দিয়ে ট্যাবলেট খাবেন।
- শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন: ছোট শিশুদের বিষক্রিয়ার একটি সাধারণ কারণ আয়রনের অতিরিক্ত সেবন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
আয়রনের অতিরিক্ত সেবন জরুরি অবস্থা, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, এবং মৃত্যুও ঘটাতে পারে। প্রথম লক্ষণ বমি, ডায়রিয়া ও পেটব্যথা; এরপর কিছুক্ষণ ভালো দেখালেও পরে গুরুতর সমস্যা হতে পারে। ভালো দেখালেও সাথে সাথে হাসপাতালে যান, এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আয়রন প্রিপারেশন (হিমাটিনিক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।