ব্যবহার
ফ্ল্যাক্সসিড অয়েল বা তিসির তেল তিসি গাছের (লিনাম উসিটাটিসিমাম) বীজ থেকে তৈরি। এটি সাধারণত সফট ক্যাপসুল আকারে আলফা লিনোলেনিক অ্যাসিড (এএলএ) নামের উদ্ভিজ্জ ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস হিসেবে খাওয়া হয়। বিশেষ করে যারা মাছ খান না, তাদের খাদ্যে ওমেগা ৩ যোগ করতে, এবং হৃদযন্ত্রের সুস্থতা, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ ও শুষ্ক ত্বকের সহায়ক সাপ্লিমেন্ট হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। এসব উপকারের প্রমাণ সীমিত, এবং এটি হৃদরোগ বা উচ্চ কোলেস্টেরলের নির্ধারিত চিকিৎসার বিকল্প নয়।
কীভাবে কাজ করে
এএলএ একটি অত্যাবশ্যক চর্বি, অর্থাৎ শরীর এটি তৈরি করতে পারে না, খাবার থেকে পেতে হয়। শরীর এএলএ দিয়ে কোষপর্দা তৈরি করে এবং এর অল্প অংশকে দীর্ঘ ওমেগা ৩ চর্বি ইপিএ ও ডিএইচএতে রূপান্তর করে, যা প্রদাহ, রক্তের চর্বি ও রক্তনালির কাজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আস্ত তিসির বীজের মতো তেলে আঁশ কম থাকে, তাই পায়খানার উপর এর প্রভাব সামান্য।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী সেবন করুন; ভালো শোষণ ও পেটের অস্বস্তি কমাতে সাধারণত খাবারের সাথে খাওয়া হয়। ক্যাপসুল পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের দেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগ্রেল, অ্যাসপিরিন বা অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ঔষধের সাথে খেলে রক্তপাতের ঝুঁকি সামান্য বাড়তে পারে। রক্তে শর্করা বা রক্তচাপ কমানোর ঔষধের প্রভাবও বাড়তে পারে। আপনি যেসব ঔষধ ও সাপ্লিমেন্ট খান, সব ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- তিসির বীজে অ্যালার্জি থাকলে।
- রক্তপাতজনিত রোগ থাকলে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নয়।
- পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের আগের ২ সপ্তাহে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
তিসির তেল সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে পাতলা পায়খানা, পেট ফাঁপা, গ্যাস, বমি বমি ভাব এবং মুখে তেলতেলে বা আঁশটে শেষস্বাদ। অ্যালার্জি বিরল।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে পড়লে, অথবা কালো কিংবা রক্তমিশ্রিত পায়খানা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় তিসির তেলের সাপ্লিমেন্ট নিয়ে যথেষ্ট নিরাপত্তা তথ্য নেই, এবং কিছু বিশেষজ্ঞ গর্ভাবস্থায় সাবধান থাকতে বলেন। শুধু ডাক্তারের পরামর্শ পেলে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
রক্তপাতের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা নিম্ন রক্তচাপ থাকলে অথবা অনেক ঔষধ খেলে আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। তিসির তেল মাছের তেলের মতো পরিমাণে ইপিএ ও ডিএইচএ দেয় না। এই তেল ভাজার কাজে ব্যবহার করবেন না, কারণ তাপে এটি নষ্ট হয়; গন্ধ বদলে গেলে বা বাসি হলে ক্যাপসুল বা তেল ব্যবহার করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
লেবেলের চেয়ে অনেক বেশি খেলে ডায়রিয়া, পেট কামড়ানো এবং রক্ত পাতলা করার ঔষধ খাওয়া ব্যক্তিদের রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। উপসর্গ তীব্র হলে বা রক্তপাত হলে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খাদ্যপূরক (উদ্ভিজ্জ ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড)।
সংরক্ষণ
৩০°C তাপমাত্রার নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো ও তাপ থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন। তরল তেল খোলার পর ফ্রিজে রাখলে ভালো থাকে।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।