ব্যবহার
ফ্লুডারাবিন একটি ক্যান্সারের ঔষধ, যা মূলত ক্রনিক লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়া (CLL) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যা শ্বেত রক্তকণিকার একটি ধীরগতির ক্যান্সার। কিছু নিম্ন-মাত্রার নন-হজকিন লিম্ফোমায় এবং হাসপাতালে স্টেম সেল (অস্থিমজ্জা) প্রতিস্থাপনের আগের প্রস্তুতি চিকিৎসাতেও এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি একটি অ্যান্টিমেটাবলাইট। শরীরে এটি এমন একটি সক্রিয় রূপে পরিণত হয় যা DNA-এর গঠনউপাদানের মতো দেখতে। ক্যান্সার কোষ এটি গ্রহণ করলে DNA তৈরি ও মেরামতের এনজাইম বন্ধ হয়ে যায়, ফলে কোষ বিভাজন থেমে যায় ও কোষ মারা যায়। এটি লিম্ফোসাইটকেও বেশ দমিয়ে রাখে, তাই প্রতিস্থাপনের আগে কাজে আসে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে এটি দেওয়া হয়। ইনজেকশন চিকিৎসক বা নার্স শিরায় দেন; ট্যাবলেট ব্যবহার হলে বিশেষজ্ঞের নির্দেশমতো খেতে হয়। শরীরের আকার ও কিডনির অবস্থা দেখে মাত্রা নির্ধারণ করা হয়, সাধারণত প্রতি ৪ সপ্তাহে টানা কয়েক দিন, প্রায়ই সাইক্লোফসফামাইড বা রিটুক্সিম্যাবের সাথে। নিজে কখনো মাত্রা বদলাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
পেন্টোস্ট্যাটিনের সাথে কখনো দেওয়া যাবে না, এতে ফুসফুসের গুরুতর, কখনো মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। ডাইপিরিডামোল এর কার্যকারিতা কমাতে পারে। অস্থিমজ্জা দমনকারী অন্য ঔষধ বিষক্রিয়া বাড়ায়। চিকিৎসার সময় ও পরে জীবন্ত টিকা নেওয়া যাবে না। চিকিৎসার সময় ও পরে রক্ত দিতে হলে শুধু বিকিরণিত (irradiated) রক্ত ব্যবহার করতে হবে।
কারা খাবেন না
গুরুতর কিডনি সমস্যা, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাজনিত হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া (লোহিত কণিকা ভাঙা), এই ঔষধে অ্যালার্জি, অথবা পেন্টোস্ট্যাটিনের সাথে এটি দেওয়া হয় না। গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে ব্যবহার করা হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- রক্তকণিকা কমে যাওয়া, ফলে সংক্রমণ (নিউমোসিস্টিসজনিত নিউমোনিয়ার মতো অস্বাভাবিক সংক্রমণসহ), রক্তপাত ও রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি
- জ্বর, কাঁপুনি, ক্লান্তি ও দুর্বলতা
- বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, ক্ষুধামান্দ্য ও মুখে ঘা
- কাশি ও শ্বাসকষ্ট
- হাত-পায়ে অবশ ভাব বা ঝিনঝিন
গুরুতর সমস্যার মধ্যে আছে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্বারা লোহিত কণিকা বা অণুচক্রিকা ধ্বংস, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের সমস্যা (বিভ্রান্তি, দৃষ্টির পরিবর্তন, খিঁচুনি), টিউমার লাইসিস সিনড্রোম ও ফুসফুসের প্রদাহ।
৩৮°C বা বেশি জ্বর, কাঁপুনি, শ্বাসকষ্ট, গাঢ় বা লাল প্রস্রাব, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, বিভ্রান্তি, দৃষ্টির সমস্যা, খিঁচুনি বা তীব্র দুর্বলতা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এই ঔষধ গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসা চলাকালে ও শেষ ডোজের পর অন্তত ৬ মাস (বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো) নারী ও পুরুষ উভয়কে কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখতে হবে।
সতর্কতা
রক্তের কণিকা, কিডনির কার্যক্ষমতা ও সংক্রমণের লক্ষণ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সংক্রমণ প্রতিরোধের ঔষধ প্রায়ই দেওয়া হয়। হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া, কিডনির রোগ বা স্নায়ুর সমস্যার ইতিহাস থাকলে জানান। পরামর্শমতো পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সংক্রমিত মানুষ থেকে দূরে থাকুন এবং জীবন্ত টিকা নেবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
উচ্চ মাত্রায় স্নায়ু ও মস্তিষ্কের গুরুতর, কখনো স্থায়ী ক্ষতি (অন্ধত্ব ও কোমাসহ) এবং দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র অস্থিমজ্জা দমন হতে পারে। নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই; হাসপাতালে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সার-রোধী (অ্যান্টিনিওপ্লাস্টিক) ঔষধ; পিউরিন অ্যানালগ অ্যান্টিমেটাবলাইট।
সংরক্ষণ
প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন; ইনজেকশনের ভায়াল সাধারণত রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখা হয়, জমানো যাবে না। হাসপাতালের ফার্মেসি কর্মীরা আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখেন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।