ব্যবহার
ফ্লুওসিনোলোন অ্যাসিটোনাইড ক্রিম ও অয়েন্টমেন্ট ত্বকে লাগিয়ে স্টেরয়েডে সাড়া দেয় এমন প্রদাহজনিত চর্মরোগে লালভাব, ফোলা ও চুলকানি কমাতে ব্যবহার হয়, যেমন একজিমা (এটোপিক ডার্মাটাইটিস), কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, সীমিত জায়গার সোরিয়াসিস, লাইকেন প্ল্যানাস এবং পোকার কামড়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া। এটি প্রদাহ কমায়, তবে মূল রোগ সারায় না।
কীভাবে কাজ করে
ফ্লুওসিনোলোন অ্যাসিটোনাইড একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড)। ত্বকে লাগালে এটি ত্বকের রোগপ্রতিরোধী ও প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া শান্ত করে, ছোট রক্তনালী সঙ্কুচিত করে এবং চুলকানি ও ফোলা কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: শুধু আক্রান্ত ত্বকে দিনে ১ বা ২ বার পাতলা করে লাগিয়ে আলতো ঘষে দিন। যত কম সময় দরকার তত কম সময় ব্যবহার করুন, ডাক্তার না বললে সাধারণত একবারে ২ সপ্তাহের বেশি নয়। ত্বক ভালো হলে পরামর্শ অনুযায়ী কম করে ব্যবহার করুন বা বন্ধ করুন। ভেজা বা রস ঝরা জায়গায় ক্রিম, আর শুকনো, মোটা বা আঁশযুক্ত ত্বকে অয়েন্টমেন্ট ভালো। শিশু: শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, অল্প দিনের জন্য। হাতে চিকিৎসা না হলে লাগানোর পর হাত ধুয়ে নিন। ডাক্তার না বললে ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টিক দিয়ে ঢাকবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
সঠিকভাবে ব্যবহার করলে প্রতিক্রিয়া কম। একই জায়গায় একই সময়ে অন্য স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করবেন না। বড় জায়গায় দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে যথেষ্ট শোষিত হয়ে রিটোনাভির বা ইট্রাকোনাজলের মতো ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে, যা শরীরে স্টেরয়েডের প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
চিকিৎসা না করা ত্বকের সংক্রমণে লাগাবেন না, যেমন ব্যাকটেরিয়াজনিত (ইমপেটিগো), ছত্রাকজনিত (দাদ, ছত্রাক) ও ভাইরাসজনিত (ঠোঁটের ঘা, জলবসন্ত, হারপিস, আঁচিল) সংক্রমণ; ব্রণ বা রোজাসিয়ায়; মুখের চারপাশে র্যাশে (পেরিওরাল ডার্মাটাইটিস); ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া মলদ্বার বা যৌনাঙ্গের চুলকানিতে; এবং ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের। ফ্লুওসিনোলোন বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলেও ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
শুরুতে জ্বালা, হুল ফোটানোর মতো অনুভূতি বা শুকনো ভাব সাধারণ। অনেক দিন, ঘন ঘন বা পাতলা ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক পাতলা হওয়া, স্ট্রেচ মার্ক, সহজে কালশিটে দাগ, ছোট রক্তনালী দেখা যাওয়া, ত্বকে সাদাটে দাগ, ব্রণের মতো গুটি ও অতিরিক্ত লোম হতে পারে। বড় জায়গায় বেশি ব্যবহারে, বিশেষ করে শিশুদের, শরীরের নিজস্ব হরমোন (কর্টিসল) ও বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়তে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। ত্বক আরও লাল, ব্যথাযুক্ত বা ফোলা হলে বা পুঁজ হলে দ্রুত ডাক্তার দেখান, এটি সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তারের পরামর্শে, অল্প পরিমাণে ও অল্প দিনের জন্য ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ডাক্তারের পরামর্শে ছোট জায়গায় ব্যবহার করা যায়, তবে স্তন বা বোঁটায় লাগাবেন না।
সতর্কতা
এটি একটি শক্তিশালী স্টেরয়েড। ডাক্তার না বললে মুখ, বগল, কুঁচকি বা ত্বকের ভাঁজে লাগাবেন না, এবং চোখ থেকে দূরে রাখুন, কারণ এতে গ্লুকোমা বা ছানি হতে পারে। প্রেসক্রিপশনের চেয়ে বেশি দিন ব্যবহার করবেন না, আর সোরিয়াসিসে দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এতে র্যাশ বেড়ে যেতে পারে। সৌন্দর্য বা ত্বক ফর্সা করার ক্রিম হিসেবে এটি ব্যবহার করবেন না। ১ থেকে ২ সপ্তাহে উন্নতি না হলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
দীর্ঘদিন বেশি ব্যবহার করলে ত্বক পাতলা হতে পারে এবং কদাচিৎ শরীরে স্টেরয়েডের প্রভাব পড়তে পারে। হঠাৎ বন্ধ না করে ডাক্তারের পরামর্শে ধীরে কমান। গিলে ফেললে, বিশেষ করে শিশু, ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহারের কর্টিকোস্টেরয়েড (শক্তিশালী)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না। টিউব শক্ত করে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।