ব্যবহার
ফ্লুওসিনোলোন (ফ্লুওসিনোলোন অ্যাসিটোনাইড) ত্বকে লাগানোর একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড)। এককভাবে এটি একজিমা, ডার্মাটাইটিস ও সোরিয়াসিসের মতো প্রদাহযুক্ত ও চুলকানিযুক্ত ত্বকের সমস্যায় ব্যবহার হয়। বাংলাদেশে এটি বেশি পাওয়া যায় হাইড্রোকুইনোন ও ট্রেটিনয়েনের সাথে মিলিত ক্রিম হিসেবে, যা মাঝারি থেকে তীব্র মেছতার (মুখে বাদামি বা ধূসর-বাদামি দাগ) স্বল্পমেয়াদি চিকিৎসায় ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
ফ্লুওসিনোলোন ত্বকের রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া শান্ত করে, ফলে লালচে ভাব, ফোলা ও চুলকানি কমে। মেছতার ক্রিমে হাইড্রোকুইনোন কালো দাগ হালকা করে, ট্রেটিনয়েন ত্বকের নতুন কোষ তৈরি দ্রুত করে, আর ফ্লুওসিনোলোন অন্য দুটি উপাদানের কারণে হওয়া জ্বালাপোড়া কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- একজিমা ও ডার্মাটাইটিস (শুধু স্টেরয়েড): আক্রান্ত ত্বকে দিনে এক বা দুইবার পাতলা করে লাগান, সাধারণত অল্প দিনের জন্য, বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- মেছতার ক্রিম (হাইড্রোকুইনোন ও ট্রেটিনয়েনসহ): দিনে একবার ঘুমানোর আগে মুখ ধুয়ে শুকিয়ে শুধু কালো দাগের ওপর পাতলা করে লাগান। সাধারণত ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়; একটানা দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্য নয়।
- শিশুদের ক্ষেত্রে: শুধু ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী।
লাগানোর পর হাত ধুয়ে নিন। চোখ, নাকের ভেতর ও মুখের ভেতর থেকে দূরে রাখুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মুখে খাওয়ার ঔষধের সাথে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। ডাক্তার না বললে একই জায়গায় অন্য কড়া ত্বকের পণ্য (যেমন বেনজয়েল পারক্সাইড, পিলিং পণ্য, অ্যাস্ট্রিনজেন্ট বা অন্য স্টেরয়েড ক্রিম) ব্যবহার করবেন না।
কারা খাবেন না
- ফ্লুওসিনোলোন বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ভাইরাসজনিত (যেমন হারপিস বা জলবসন্ত) ত্বকের সংক্রমণের চিকিৎসা না হয়ে থাকলে।
- ব্রণ, রোজাসিয়া বা মুখের চারপাশে র্যাশ (পেরিওরাল ডার্মাটাইটিস) থাকলে।
- ট্রেটিনয়েনযুক্ত মেছতার ক্রিম গর্ভাবস্থায় একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ত্বকে জ্বালা, চিনচিন ভাব, শুষ্কতা, লালচে ভাব ও চামড়া ওঠা সাধারণ, বিশেষ করে মেছতার ক্রিমে। দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহারে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, ফাটা দাগ, ব্রণ, ছোট ছোট রক্তনালি দেখা যাওয়া ও সাদা দাগ হতে পারে। মেছতার ক্রিম দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বকে নীলচে-কালো দাগও পড়তে পারে।
তীব্র ফোলা, ফোসকা, ছড়িয়ে পড়া র্যাশ, পুঁজ বা জ্বরের মতো সংক্রমণের লক্ষণ, অথবা মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্টের মতো এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ট্রেটিনয়েনযুক্ত মেছতার ক্রিম গর্ভাবস্থায় বা গর্ভধারণের চেষ্টা করার সময় ব্যবহার করা যাবে না। শুধু ফ্লুওসিনোলোন ক্রিম গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শে অল্প জায়গায় অল্প দিনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনে লাগাবেন না এবং ব্যবহারের আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
রং ফর্সা করার বা রূপচর্চার ক্রিম হিসেবে ব্যবহার করবেন না; মুখে ভুলভাবে ব্যবহার করলে ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। ডাক্তার না বললে জায়গাটি ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢাকবেন না। মেছতার ক্রিম ব্যবহারের সময় প্রতিদিন ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন ও কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন। শিশুদের ত্বক দিয়ে স্টেরয়েড বেশি শোষিত হয়, তাই শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন। পরামর্শের চেয়ে বেশি দিন ব্যবহার করবেন না; দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর ধীরে ধীরে বন্ধ করতে হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে ত্বক পাতলা হয়ে যেতে পারে এবং কদাচিৎ মুখ ফুলে যাওয়া ও রক্তে চিনি বেড়ে যাওয়ার মতো হরমোনজনিত প্রভাব দেখা দিতে পারে। ডাক্তার দেখান; তিনি ধীরে ধীরে কমাতে বলতে পারেন। ক্রিম গিলে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহারের কর্টিকোস্টেরয়েড (মাঝারি শক্তির)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে রাখুন, ফ্রিজে জমাবেন না, ঢাকনা বন্ধ রাখুন, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।