ব্যবহার
ফ্লুরোমেথোলোন একটি কর্টিকোস্টেরয়েড চোখের ড্রপ, যা স্টেরয়েডে সাড়া দেয় এমন চোখের সামনের অংশের প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত হয়, যেমন অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস, চোখের পাতা, কনজাংটিভা, কর্নিয়া বা চোখের সামনের অংশের প্রদাহ (অ্যান্টেরিয়র ইউভিআইটিস), এবং চোখের অস্ত্রোপচারের পরের প্রদাহ। সংক্রমণ থাকলে বা হওয়ার আশঙ্কা থাকলে কিছু পণ্যে এর সাথে অ্যান্টিবায়োটিক মেশানো থাকে।
কীভাবে কাজ করে
ফ্লুরোমেথোলোন একটি স্টেরয়েড, যা চোখের টিস্যুতে রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়াকে শান্ত করে। এটি ফোলা, লালচে ভাব, চুলকানি এবং প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিকের নিঃসরণ কমায়। কিছু শক্তিশালী চোখের স্টেরয়েডের তুলনায় এটি চোখের চাপ কম বাড়ায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা আক্রান্ত চোখে ১ থেকে ২ ফোঁটা, দিনে ২ থেকে ৪ বার, চিকিৎসকের নির্দেশমতো। প্রথম ১ থেকে ২ দিন চিকিৎসক আরও ঘন ঘন দিতে বলতে পারেন। ব্যবহারের আগে বোতল ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না; চিকিৎসক ধীরে ধীরে কমিয়ে আনবেন।
- হাত ধুয়ে মাথা পেছনে হেলিয়ে নিচের পাতা টেনে ড্রপ দিন; ড্রপারের মুখ চোখ বা পাপড়িতে লাগাবেন না।
- ব্যবহারের আগে কন্টাক্ট লেন্স খুলে ফেলুন এবং আবার পরার আগে অন্তত ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।
- ভিন্ন ভিন্ন চোখের ড্রপের মাঝে ৫ মিনিট বিরতি দিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
একই সময়ে অন্য স্টেরয়েড ঔষধ (চোখের ড্রপ, ট্যাবলেট বা ইনহেলার) ব্যবহার করলে চোখের চাপ বাড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। রিটোনাভির, কোবিসিস্ট্যাট ও অন্যান্য শক্তিশালী এনজাইম বাধাদানকারী স্টেরয়েডের প্রভাব বাড়াতে পারে। সব ঔষধের কথা, বিশেষ করে গ্লকোমার ড্রপের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- ফ্লুরোমেথোলোন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- চোখের ভাইরাস সংক্রমণে, যেমন হারপিস সিমপ্লেক্স কেরাটাইটিস, চোখে চিকেনপক্স বা ভ্যাকসিনিয়া।
- চোখের ছত্রাক বা যক্ষ্মাজনিত সংক্রমণে।
- চিকিৎসাহীন ব্যাকটেরিয়াল চোখের সংক্রমণে (উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে চিকিৎসকের নির্দেশে ছাড়া)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে অল্প সময়ের জন্য জ্বালা বা হুল ফোটানোর অনুভূতি, ব্যবহারের পরপর ঝাপসা দেখা এবং চোখে অস্বস্তি। দীর্ঘদিন ব্যবহারে চোখের ভেতরের চাপ বাড়তে পারে (যা থেকে গ্লকোমা হতে পারে), ছানি পড়তে পারে, ক্ষত শুকাতে দেরি হতে পারে এবং চোখের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
চোখে ব্যথা, লালচে ভাব বেড়ে যাওয়া, হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন, আলোর চারপাশে বলয় দেখা, চোখ থেকে পুঁজ বা স্রাব, অথবা চোখের পাতা বা মুখ ফোলার মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে, প্রয়োজনীয় সবচেয়ে কম সময়ের জন্য ব্যবহার করুন। প্রতি ফোঁটার পর চোখের ভেতরের কোণে এক মিনিট আলতো চাপ দিলে শরীরে শোষিত পরিমাণ কমে।
সতর্কতা
শুধু চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করুন। ১০ দিনের বেশি ব্যবহার করলে নিয়মিত চোখের চাপ পরীক্ষা করা উচিত। কারণ নির্ণয় ছাড়া লাল চোখে এটি ব্যবহার করবেন না, কারণ স্টেরয়েড সংক্রমণ লুকিয়ে রাখতে বা বাড়াতে পারে। শিশুদের চোখের চাপ বাড়ার সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। বোতল অন্যের সাথে ভাগ করবেন না, এবং লেবেলে অন্য কিছু লেখা না থাকলে খোলার ৪ সপ্তাহ পর ফেলে দিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবারে বেশি ফোঁটা দিলে ক্ষতির সম্ভাবনা কম; প্রয়োজনে পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নিন। বিশেষ করে শিশু ড্রপ গিলে ফেললে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
চোখের কর্টিকোস্টেরয়েড।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে, ঢাকনা শক্ত করে বন্ধ রেখে সংরক্ষণ করুন। জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।