ব্যবহার
সক্রিয় সংক্রমণ না থাকলে চোখের সামনের অংশের প্রদাহ (লালচে ভাব, ফোলা ও অস্বস্তি) কমাতে ফ্লুরোমেথোলোন চোখের ড্রপ ব্যবহার হয়, যেমন:
- অন্য চিকিৎসায় না কমা এলার্জিক কনজাংটিভাইটিস।
- চোখের অপারেশন বা আঘাতের পরের প্রদাহ।
- চোখের সাদা অংশের প্রদাহ (এপিস্ক্লেরাইটিস) ও কর্নিয়ার কিছু অসংক্রামক প্রদাহ।
প্রদাহের সাথে জীবাণুর সংক্রমণও থাকলে জেন্টামাইসিন বা নিওমাইসিনের সাথে মিশ্রিত ড্রপ দেওয়া হয়। টেট্রাহাইড্রোজলিনের সাথে মিশ্রিত ড্রপ চোখের লালচে ভাবও কমায়।
কীভাবে কাজ করে
ফ্লুরোমেথোলোন একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড)। এটি চোখের টিস্যুতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া শান্ত করে এবং লালচে ভাব, ফোলা ও চুলকানি সৃষ্টিকারী রাসায়নিককে আটকে দেয়। এটি তুলনামূলক হালকা স্টেরয়েড, তাই কিছু স্টেরয়েডের চেয়ে চোখের চাপ বাড়ানোর সম্ভাবনা কম।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সাধারণত আক্রান্ত চোখে দিনে ২ থেকে ৪ বার ১ ফোঁটা, অথবা চোখের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। প্রথম ১ বা ২ দিন ডাক্তার আরও ঘন ঘন দিতে বলতে পারেন। সাসপেনশন হলে ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। হাত ধুয়ে মাথা পেছনে হেলিয়ে নিচের পাতা টেনে এক ফোঁটা দিন, বোতলের মুখ চোখে লাগাবেন না। অন্য চোখের ড্রপ দিতে অন্তত ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তার ধীরে ধীরে কমাবেন। শিশু: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
খুব অল্প রক্তে যায় বলে প্রতিক্রিয়া কম। অন্য স্টেরয়েড ঔষধের সাথে ব্যবহারে চোখের চাপ বাড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অ্যাট্রোপিনের মতো মণি বড় করার কিছু ড্রপও চোখের চাপ বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- ফ্লুরোমেথোলোন বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- কর্নিয়ার হারপিস সিমপ্লেক্স, জলবসন্ত বা এ ধরনের ভাইরাসজনিত চোখের সংক্রমণে।
- চোখের ছত্রাক সংক্রমণ, চোখের যক্ষ্মা, বা চিকিৎসা না হওয়া পুঁজযুক্ত জীবাণুঘটিত সংক্রমণে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ড্রপ দেওয়ার পরপর অল্প সময় জ্বালা ও ঝাপসা দেখা। দীর্ঘদিন (১০ দিনের বেশি) ব্যবহারে: চোখের চাপ বেড়ে যাওয়া (যা গ্লুকোমায় গড়াতে পারে), ছানি, ঘা শুকাতে দেরি ও চোখে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়া।
চোখে ব্যথা, লালচে ভাব বাড়লে, চোখ থেকে পিচুটি বা পুঁজ পড়লে, হঠাৎ দৃষ্টি বদলালে বা কমে গেলে, আলোর চারপাশে বৃত্ত দেখলে, অথবা চোখের পাতা বা মুখ ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খুব অল্প রক্তে যায়, তবে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের তথ্য সীমিত। শুধু ডাক্তার দিলে ব্যবহার করুন। শোষণ কমাতে প্রতি ফোঁটার পর এক মিনিট চোখের ভেতরের কোণে আলতো চেপে ধরুন।
সতর্কতা
চোখের ডাক্তারের রোগ নির্ণয় ছাড়া লাল চোখে ব্যবহার করবেন না, কারণ স্টেরয়েড কিছু সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে। ১০ দিনের বেশি ব্যবহার করলে চোখের চাপ পরীক্ষা করান। ড্রপ দেওয়ার আগে নরম কন্টাক্ট লেন্স খুলে ফেলুন এবং ১৫ মিনিট পর আবার পরুন। অল্প সময় ঝাপসা দেখাতে পারে, তাই পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না। অন্যের সাথে চোখের ড্রপ ভাগ করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বাড়তি ফোঁটা দিলে ক্ষতির সম্ভাবনা কম; জ্বালা করলে পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন। ড্রপ গিলে ফেললেও ক্ষতির সম্ভাবনা কম। দীর্ঘদিন বেশি ব্যবহারে চোখের চাপ বাড়তে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
চোখের কর্টিকোস্টেরয়েড (প্রদাহনাশক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না। বোতল ভালোভাবে বন্ধ রাখুন এবং খোলার ৪ সপ্তাহ পর ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।