বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Fluorouracil

  • 15 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 9 টি কোম্পানি

ব্যবহার

ফ্লুরোইউরাসিল (5-FU) একটি ক্যান্সারের ঔষধ। ইনজেকশন হিসেবে এটি প্রায়ই অন্য ঔষধের সাথে মিলিয়ে অন্ত্র (কোলন ও রেক্টাম), স্তন, পাকস্থলী, খাদ্যনালি, অগ্ন্যাশয় এবং মাথা ও গলার ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। ত্বকের কিছু সমস্যার জন্য এর আলাদা ক্রিমও আছে।

কীভাবে কাজ করে

ফ্লুরোইউরাসিল দেখতে ডিএনএ তৈরির একটি প্রাকৃতিক উপাদানের মতো। ক্যান্সার কোষ এটি গ্রহণ করে, আর এটি নতুন ডিএনএ তৈরির জন্য দরকারি একটি এনজাইম (থাইমিডিলেট সিনথেজ) আটকে দেয়। ফলে ক্যান্সার কোষ বাড়তে ও ভাগ হতে পারে না।

মাত্রা ও সেবনবিধি

শুধু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের দেওয়া নিয়মে ব্যবহার হয়। শরীরের আকার, ক্যান্সারের ধরন ও চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুযায়ী মাত্রা ঠিক করা হয় এবং নির্দিষ্ট চক্রে দেওয়া হয়। হাসপাতালে বা কেমোথেরাপি ইউনিটে ডাক্তার বা নার্স এটি শিরায় ইনজেকশন বা ধীরে স্যালাইনের মতো (কখনও পাম্প দিয়ে কয়েক দিন ধরে) দেন। প্রতিটি চক্রের আগে রক্ত পরীক্ষা করা হয়।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • ব্রিভুডিন ও সরিভুডিন (ভাইরাসনাশক ঔষধ) একসাথে দিলে মারাত্মক, কখনও প্রাণঘাতী বিষক্রিয়া হতে পারে; একসাথে বা ৪ সপ্তাহের মধ্যে ব্যবহার করা যাবে না।
  • ফলিনিক অ্যাসিড (লিউকোভোরিন) এর কাজ বাড়ায়; চিকিৎসায় অনেক সময় ইচ্ছাকৃতভাবেই একসাথে দেওয়া হয়।
  • ওয়ারফারিন: রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে, তাই রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা লাগে।
  • ফেনিটোইনের মাত্রা বাড়তে পারে।
  • চিকিৎসার সময় জীবন্ত টিকা দেওয়া যাবে না।

কারা খাবেন না

শরীরে DPD (ডাইহাইড্রোপাইরিমিডিন ডিহাইড্রোজিনেজ) এনজাইম একেবারে না থাকলে; অস্থিমজ্জার কাজ মারাত্মকভাবে কমে গেলে; গুরুতর সংক্রমণ থাকলে; শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ হলে; সম্প্রতি ব্রিভুডিন বা সরিভুডিন নিলে; গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়; ফ্লুরোইউরাসিলে এলার্জি থাকলে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ: বমি বমি ভাব, বমি, পাতলা পায়খানা, মুখে ঘা, ক্ষুধা কমে যাওয়া, ক্লান্তি, চুল পাতলা হওয়া, রক্তকণিকা কমে যাওয়া, ত্বক বা নখ কালচে হওয়া, রোদে সংবেদনশীলতা, এবং হাতের তালু ও পায়ের তলায় ব্যথা, লালচে ভাব বা চামড়া ওঠা (হ্যান্ড-ফুট সিনড্রোম)। শরীরের তাপমাত্রা 38°C বা বেশি হলে বা কাঁপুনি হলে, বারবার বা মারাত্মক পাতলা পায়খানা হলে, মুখের ঘায়ের কারণে খেতে বা পান করতে না পারলে, অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ বা কালশিটে হলে, বুকে ব্যথা বা বুক ধড়ফড় করলে, অথবা হঠাৎ বিভ্রান্তি বা টলমল ভাব হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

ফ্লুরোইউরাসিল গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যাবে না। চিকিৎসার সময় এবং পরে ডাক্তারের বলা সময় পর্যন্ত নারী ও পুরুষ উভয়কে নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।

সতর্কতা

কারও কারও শরীরে DPD এনজাইম কম থাকে এবং তাদের মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হতে পারে; শুরুর আগে এর পরীক্ষা করা হতে পারে। হৃদরোগ, লিভার বা কিডনির সমস্যা এবং অন্য সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান। কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। যতটা সম্ভব সংক্রমিত মানুষ থেকে দূরে থাকুন। পাতলা পায়খানা হলে বেশি করে পানি পান করুন।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

মাত্রা বেশি হলে মারাত্মক বমি, পাতলা পায়খানা, মুখে ঘা, রক্তক্ষরণ ও রক্তকণিকা খুব কমে যেতে পারে। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়, এবং পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট প্রতিষেধক দেওয়া হতে পারে।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

ক্যান্সারের ঔষধ (অ্যান্টিমেটাবোলাইট, পাইরিমিডিন অ্যানালগ)।

সংরক্ষণ

হাসপাতাল বা ফার্মেসিতে 30°C এর নিচে (বা প্যাকে যেমন লেখা) আলো থেকে দূরে রাখা হয়। ফ্রিজে রাখবেন না বা জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Fluorouracil এর ব্র্যান্ড

15 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।