ব্যবহার
ফ্লুপেন্টিক্সল একটি অ্যান্টিসাইকোটিক ঔষধ, যা ব্যবহার হয়:
- কম মাত্রায় মুখে খাওয়ার ঔষধ হিসেবে, হালকা থেকে মাঝারি বিষণ্ণতার অল্প সময়ের চিকিৎসায়, বিশেষ করে দুশ্চিন্তা বা শক্তি কম থাকলে; প্রায়ই মেলিট্রাসেনের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়
- বেশি মাত্রায়, বা দীর্ঘমেয়াদি ইনজেকশন হিসেবে, সিজোফ্রেনিয়া ও অন্যান্য সাইকোসিসে
কীভাবে কাজ করে
ফ্লুপেন্টিক্সল মস্তিষ্কের রাসায়নিক বার্তাবাহক, মূলত ডোপামিনের ওপর কাজ করে। কম মাত্রায় এটি মন ভালো করতে ও দুশ্চিন্তা কমাতে পারে, আর বেশি মাত্রায় ডোপামিন রিসেপ্টর ব্লক করে হ্যালুসিনেশন, ভ্রান্ত বিশ্বাস ও এলোমেলো চিন্তার মতো লক্ষণ কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- বিষণ্ণতা বা দুশ্চিন্তা, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে ১ বার সকালে ১ mg, ডাক্তার দিনে ২ mg পর্যন্ত বাড়াতে পারেন। বয়স্কদের সাধারণত দিনে ০.৫ mg দিয়ে শুরু করা হয়। শেষ মাত্রা বিকেল প্রায় ৪টার আগে খান, কারণ এটি ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
- সিজোফ্রেনিয়া ও সাইকোসিস: ট্যাবলেট বা দীর্ঘমেয়াদি ইনজেকশন, ডাক্তারের নির্দেশমতো। ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স মাংসপেশিতে দেন, সাধারণত কয়েক সপ্তাহ পরপর।
- শিশুদের জন্য নয়।
দীর্ঘদিন খাওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- মদ, ঘুমের ঔষধ, শক্তিশালী ব্যথানাশক ও ঘুম আনা অ্যান্টিহিস্টামিন ঘুম ঘুম ভাব বাড়ায়।
- এটি লেভোডোপা ও অন্যান্য পার্কিনসনের ঔষধের কাজ কমায়।
- হৃৎস্পন্দনে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ, যেমন অ্যামিওডারোন, সোটালল, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ও কিছু বিষণ্ণতার ঔষধ, অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দনের ঝুঁকি বাড়ায়।
- মেটোক্লোপ্রামাইড অস্বাভাবিক নড়াচড়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
- লিথিয়াম: কদাচিৎ স্নায়ুর গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
কারা খাবেন না
- ফ্লুপেন্টিক্সল বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে
- জ্ঞানের মাত্রা কমে গেলে, বা মদ, ঘুমের ঔষধ বা অপিওয়েডে বিষক্রিয়া হলে
- খুব উত্তেজিত বা অতি চঞ্চল মানুষের ক্ষেত্রে কম মাত্রার ব্যবহার, কারণ এতে অবস্থা খারাপ হতে পারে
- গুরুতর রক্তের রোগ
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, মাংসপেশি শক্ত হওয়া, ওজন বাড়া এবং স্তন বা মাসিকের পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ব্যবহারে মুখ, জিভ বা হাত-পায়ের অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া (টার্ডিভ ডিসকিনেসিয়া) হতে পারে।
মাংসপেশি শক্ত হয়ে উচ্চ জ্বর, ঘাম ও বিভ্রান্তি; দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা অজ্ঞান হওয়া; পায়ে ব্যথা বা ফোলা, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট; জ্বর, গলা ব্যথা বা মুখে ঘা; বিষণ্ণতা বেড়ে যাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা; অথবা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে খাবেন; শেষ তিন মাসে খেলে নবজাতকের নড়াচড়ার সমস্যা বা উইথড্রয়ালের লক্ষণ হতে পারে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; ডাক্তার পরামর্শ দেবেন, এবং শিশু অতিরিক্ত ঘুমাচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন।
সতর্কতা
- মৃগীরোগ, পার্কিনসনস রোগ, হৃদরোগ, লিভার বা কিডনির রোগ, ডায়াবেটিস, বা নিজের বা পরিবারের রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত বয়স্কদের অ্যান্টিসাইকোটিক ঔষধে স্ট্রোক ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি।
- ঘুম ঘুম ভাব বা মাথা ঘোরা হতে পারে; ঔষধটি আপনার ওপর কেমন প্রভাব ফেলে তা না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না।
- বিষণ্ণতার জন্য কম মাত্রার চিকিৎসায় প্রায় এক সপ্তাহে উন্নতি না হলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে মারাত্মক ঘুম ঘুম ভাব, অজ্ঞান হওয়া, অস্বাভাবিক নড়াচড়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, খিঁচুনি ও হৃৎস্পন্দনের সমস্যা হতে পারে। এটি জরুরি অবস্থা; দ্রুত চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিসাইকোটিক (থায়োজান্থিন)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।