বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Flurbiprofen

  • 4 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 4 টি কোম্পানি

ব্যবহার

ফ্লারবিপ্রোফেন একটি নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহরোধী ঔষধ (NSAID), যা ব্যথা, ফোলা ও শক্ত ভাব কমাতে ব্যবহৃত হয়:

  • রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও অ্যাঙ্কিলোজিং স্পন্ডিলাইটিসে
  • মচকা, টান ও কোমর ব্যথার মতো পেশি, গিঁট ও নরম টিস্যুর আঘাতে
  • মাসিকের ব্যথা, দাঁতের ব্যথা ও ছোট অপারেশনের পরের ব্যথায়

লজেন্জ ও স্প্রে গলাব্যথার স্বল্পমেয়াদি উপশমে এবং চোখের ড্রপ চোখের অপারেশনের সময় চক্ষু সার্জনের নির্দেশমতো ব্যবহৃত হয়।

কীভাবে কাজ করে

এটি সাইক্লো-অক্সিজেনেজ (COX) এনজাইমকে বাধা দেয়, যা ব্যথা, প্রদাহ ও জ্বর সৃষ্টিকারী প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরি করে। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন কমলে ব্যথা ও ফোলা কমে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা দিনে ১৫০ থেকে ২০০ mg, ২ থেকে ৪ ভাগে; চিকিৎসক বললে অল্প সময়ের জন্য সর্বোচ্চ দিনে ৩০০ mg। মাসিকের ব্যথায় শুরুতে ১০০ mg, তারপর প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ১০০ mg, দিনে ৩০০ mg পর্যন্ত। খাবারের সাথে বা পরে এক গ্লাস পানিসহ খান। সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রায় সবচেয়ে কম সময় ব্যবহার করুন। গলার লজেন্জ (৮.৭৫ mg) প্রতি ৩ থেকে ৬ ঘণ্টায় মুখে ধীরে গলাতে হয়, ২৪ ঘণ্টায় ৫টির বেশি নয় এবং ৩ দিনের বেশি নয়। শিশুদের শুধু চিকিৎসকের নির্দেশে দিন।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

ব্যথানাশক মাত্রার অ্যাসপিরিনসহ অন্য NSAID এর সাথে খাবেন না। ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগ্রেল, SSRI বা স্টেরয়েডের সাথে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। এটি রক্তচাপের ঔষধ ও ডাইইউরেটিকের কার্যকারিতা কমাতে পারে এবং ACE ইনহিবিটর, অ্যানজিওটেনসিন রিসেপ্টর ব্লকার বা ডাইইউরেটিকের সাথে কিডনির ক্ষতি করতে পারে। এটি লিথিয়াম ও মেথোট্রেক্সেটের মাত্রা বাড়াতে পারে। সাইক্লোস্পোরিন বা ট্যাক্রোলিমাসের সাথে কিডনির ঝুঁকি বাড়ে।

কারা খাবেন না

যাদের খাওয়া উচিত নয়:

  • এই ঔষধে অ্যালার্জি, অথবা অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID খেয়ে হাঁপানি, আমবাত বা নাক ফুলে যাওয়ার ইতিহাস
  • সক্রিয় পেট বা ডিওডেনাল আলসার, অথবা আলসার বা অন্ত্রে রক্তক্ষরণের ইতিহাস
  • গুরুতর হার্ট ফেইলিউর, গুরুতর কিডনি বা লিভারের রোগ
  • গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস
  • সম্প্রতি হার্ট বাইপাস অপারেশন

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • বদহজম, বুক জ্বালা, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া
  • মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও ঘুম ঘুম ভাব
  • শরীরে পানি জমা ও গোড়ালি ফোলা
  • র‍্যাশ; লজেন্জে মুখে জ্বালাভাব

কম হলেও গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে পেটে রক্তক্ষরণ বা আলসার, রক্তচাপ বৃদ্ধি, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক (বিশেষ করে দীর্ঘ সময় উচ্চ মাত্রায়), কিডনি ও লিভারের সমস্যা।

রক্তবমি বা কফির গুঁড়ার মতো বমি, কালো বা রক্তযুক্ত পায়খানা, বুকে ব্যথা, শরীরের এক পাশে হঠাৎ দুর্বলতা, শ্বাসে শাঁ শাঁ শব্দ বা শ্বাসকষ্ট, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, ত্বকে তীব্র ফোসকা বা খুব কম প্রস্রাব হলে ঔষধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

চিকিৎসক প্রয়োজন না বললে গর্ভাবস্থার প্রথম ছয় মাস এড়িয়ে চলুন, আর শেষ তিন মাসে একদম খাবেন না, কারণ এটি শিশুর হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির ক্ষতি করতে এবং প্রসব বিলম্বিত করতে পারে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; মাঝে মাঝে অল্প সময়ের ব্যবহার গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তবে আগে চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করুন।

সতর্কতা

বয়স্ক, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ, কিডনি বা লিভারের সমস্যা, হাঁপানি, রক্তক্ষরণজনিত রোগ বা পেটের সমস্যার ইতিহাস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। চিকিৎসক পাকস্থলী সুরক্ষার ঔষধ যোগ করতে পারেন। অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। NSAID গর্ভধারণে বাধা দিতে পারে; সন্তান নিতে চাইলে চিকিৎসককে জানান। মাথা ঘোরা বা ঘুম ঘুম লাগলে গাড়ি চালাবেন না।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, ঘুম ঘুম ভাব, মাথাব্যথা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ এবং গুরুতর ক্ষেত্রে অন্ত্রে রক্তক্ষরণ, কিডনি বিকল, খিঁচুনি বা শ্বাসের সমস্যা হতে পারে। দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহরোধী ঔষধ (NSAID); প্রোপিওনিক অ্যাসিড ডেরিভেটিভ।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে, শুষ্ক ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Flurbiprofen এর ব্র্যান্ড

4 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।