ব্যবহার
ফ্লুটিকাসোন প্রোপিওনেট একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড), যা কয়েক ধরনের রূপে পাওয়া যায়। ইনহেলার, প্রায়ই স্যালমেটেরলের সাথে, হাঁপানির উপসর্গ প্রতিরোধে এবং দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে (সিওপিডি) ব্যবহার হয়। নাকের স্প্রে, কখনও অ্যাজেলাস্টিনের সাথে, এলার্জিক রাইনাইটিস (এলার্জিতে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ) ও নাকের পলিপে ব্যবহার হয়। ক্রিম ও মলম একজিমা ও ডার্মাটাইটিসে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি শ্বাসনালি, নাকের ভেতরের আবরণ বা ত্বকের প্রদাহ ও ফোলা কমায়, ফলে উপসর্গ কমে এবং হাঁপানিতে সময়ের সাথে আক্রমণের সম্ভাবনা কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
নাকের স্প্রে (প্রতি স্প্রেতে ৫০ mcg), প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশু: সাধারণত দিনে ১ বার প্রতিটি নাকে ২ স্প্রে, উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে এলে প্রতিটি নাকে ১ স্প্রে; পুরো ফল পেতে কয়েক দিন লাগতে পারে। ইনহেলার: প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, সাধারণত দিনে ২ বার, ভালো থাকলেও প্রতিদিন; প্রতিবার ব্যবহারের পর পানি দিয়ে কুলি করে ফেলে দিন। এই ইনহেলার হঠাৎ হাঁপানির টান কমায় না, তাই সবসময় রিলিভার ইনহেলার সাথে রাখুন। ত্বকে: যত কম সময় দরকার, দিনে ১ বা ২ বার পাতলা করে লাগান। শিশু: প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রিটোনাভির, কোবিসিস্ট্যাট, কিটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল ও ক্লারিথ্রোমাইসিন ফ্লুটিকাসোনের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে; এগুলোর কোনোটি খেলে ডাক্তারকে জানান। স্যালমেটেরলযুক্ত কম্বিনেশন ইনহেলারের ক্ষেত্রে প্রোপ্রানোললের মতো বিটা-ব্লকার উপকার কমাতে ও শ্বাসকষ্ট বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
ফ্লুটিকাসোন বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে (কিছু ইনহেলারে ল্যাকটোজ ও দুধের প্রোটিন থাকে)। ত্বকে: চিকিৎসা না করা ত্বকের সংক্রমণ, ব্রণ, রোসেসিয়া এবং মুখের চারপাশের পেরিওরাল ডার্মাটাইটিস নামের র্যাশে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
নাকের স্প্রে: নাক দিয়ে রক্ত পড়া, নাকে শুষ্কতা বা জ্বালা, মাথাব্যথা। ইনহেলার: গলা বসে যাওয়া, গলাব্যথা, মুখে ছত্রাক সংক্রমণ (সাদা দাগ) ও কাশি। ত্বকে: জ্বালা এবং দীর্ঘ ব্যবহারে ত্বক পাতলা হওয়া। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায়: শিশুদের বৃদ্ধি কিছুটা কমা, ছানি বা গ্লুকোমা, এবং শরীরের নিজস্ব স্টেরয়েড তৈরি কমে যাওয়া। ইনহেলার নেওয়ার পরপরই শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে, রিলিভারে হাঁপানির টান না কমলে, গুরুতর এলার্জি বা হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রয়োজনে গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ইনহেলার ও নাকের স্প্রে সাধারণত চালিয়ে যাওয়া হয়, কারণ হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে থাকা মা ও শিশু দুজনের জন্যই জরুরি। শুধু ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। দুধ খাওয়ানোর আগে স্তনে ত্বকের পণ্য লাগাবেন না।
সতর্কতা
পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ ইনহেলার স্টেরয়েড বন্ধ করবেন না। যক্ষ্মা বা অন্য কোনো চিকিৎসা না করা সংক্রমণ, গ্লুকোমার মতো চোখের সমস্যা, বা ডায়াবেটিস থাকলে ডাক্তারকে জানান। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়া শিশুদের উচ্চতা নিয়মিত মাপা উচিত। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রিলিভার ইনহেলার লাগলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাঝে মাঝে একটি বাড়তি ডোজে ক্ষতির সম্ভাবনা কম। দীর্ঘদিন নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি নিলে শরীরের নিজস্ব স্টেরয়েড তৈরি কমে যেতে পারে; ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কর্টিকোস্টেরয়েড (ইনহেলড, নাকের ও টপিক্যাল)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। চাপযুক্ত ইনহেলার খালি হলেও ফুটো করবেন না, পোড়াবেন না বা গরম করবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।