ব্যবহার
ফ্লুভাস্ট্যাটিন কোলেস্টেরল কমানোর একটি ঔষধ (স্ট্যাটিন)। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এটি রক্তের LDL (ক্ষতিকর) কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে এবং HDL (উপকারী) কোলেস্টেরল বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। করোনারি এনজিওপ্লাস্টির পর ভবিষ্যতে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি কমাতেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
যকৃৎ কোলেস্টেরল তৈরিতে HMG-CoA রিডাক্টেজ নামের একটি এনজাইম ব্যবহার করে। ফ্লুভাস্ট্যাটিন এই এনজাইমকে বাধা দেয়। ফলে যকৃৎ কম কোলেস্টেরল তৈরি করে এবং রক্ত থেকে বেশি LDL টেনে নেয়। ধীরে ধীরে কোলেস্টেরল কমে এবং ধমনিতে চর্বি জমা কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা: সন্ধ্যায় দিনে একবার ২০ mg থেকে ৪০ mg, অথবা এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ট্যাবলেট হিসেবে দিনে একবার ৮০ mg (দিনের যেকোনো সময়)। কেউ কেউ ৪০ mg দিনে ২ বার সেবন করেন। ট্যাবলেট না ভেঙে পানি দিয়ে গিলে ফেলুন, খাবারের আগে বা পরে। রক্ত পরীক্ষার ভিত্তিতে চিকিৎসক মাত্রা ঠিক করবেন। সুস্থ বোধ করলেও কম চর্বিযুক্ত খাবার ও ঔষধ চালিয়ে যান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ফ্লুকোনাজোল, সাইক্লোস্পোরিন, ফাইব্রেট (যেমন জেমফাইব্রোজিল), নায়াসিন, কলচিসিন, ফিউসিডিক অ্যাসিড, ওয়ারফারিন, গ্লিবেনক্লামাইড, ফেনিটয়েন বা রিফাম্পিসিন সেবন করলে চিকিৎসককে জানান, কারণ এগুলো পেশির সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে বা রক্তের মাত্রা বদলাতে পারে। কোলেস্টাইরামিন জাতীয় ঔষধ খেলে অন্তত ৪ ঘণ্টা পর ফ্লুভাস্ট্যাটিন খান।
কারা খাবেন না
ফ্লুভাস্ট্যাটিনে অ্যালার্জি, সক্রিয় যকৃতের রোগ বা অকারণে যকৃতের এনজাইম বেশি থাকলে, এবং গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালে সেবন করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো বদহজম, পেটব্যথা, বমিভাব, মাথাব্যথা ও ঘুমের সমস্যা। কারও পেশিতে ব্যথা হতে পারে। কদাচিৎ পেশির গুরুতর ক্ষতি, যকৃতের সমস্যা বা রক্তে শর্করা সামান্য বাড়তে পারে।
অকারণে পেশিতে ব্যথা, টনটন বা দুর্বলতা (বিশেষ করে জ্বর বা গাঢ় প্রস্রাবসহ), ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় সেবন করবেন না, কারণ শিশুর বিকাশে কোলেস্টেরল প্রয়োজন। গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা উচিত। গর্ভবতী হলে ঔষধ বন্ধ করে চিকিৎসককে জানান। স্তন্যদানকালে সেবন করবেন না।
সতর্কতা
চিকিৎসার আগে ও চলাকালে চিকিৎসক যকৃতের পরীক্ষা করাতে পারেন। বেশি মদ্যপান, কিডনির রোগ, থাইরয়েডের কম কার্যকারিতা, আগে পেশির সমস্যা বা ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসককে জানান। ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের পেশির সমস্যার ঝুঁকি বেশি। বড় অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসক বললে কয়েকদিন বন্ধ রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি সেবনের অভিজ্ঞতা সীমিত। বেশি পরিমাণ সেবন করলে চিকিৎসা নিন; চিকিৎসা লক্ষণভিত্তিক।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
লিপিড কমানোর ঔষধ (HMG-CoA রিডাক্টেজ ইনহিবিটর, স্ট্যাটিন)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।