ব্যবহার
ফ্লুভক্সামিন একটি বিষণ্ণতারোধী ঔষধ। বড়দের অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার (ওসিডি), অর্থাৎ বারবার অনাকাঙ্ক্ষিত চিন্তা আসা ও একই কাজ বারবার করার তাড়না, এবং বিষণ্ণতার চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয়। চিকিৎসক কিছু উদ্বেগজনিত রোগেও এটি দিতে পারেন। এটি শুধু প্রেসক্রিপশনে বিক্রি হয়।
কীভাবে কাজ করে
ফ্লুভক্সামিন এসএসআরআই (সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিআপটেক ইনহিবিটর) শ্রেণির ঔষধ। সেরোটোনিন মস্তিষ্কের একটি প্রাকৃতিক রাসায়নিক বার্তাবাহক, যা মেজাজ, উদ্বেগ ও বারবার আসা চিন্তা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই ঔষধ স্নায়ুকোষে সেরোটোনিনের পুনঃশোষণ আটকে দেয়, ফলে এটি বেশি সময় সক্রিয় থাকে। উপকার ধীরে আসে, বিষণ্ণতায় সাধারণত ২ থেকে ৬ সপ্তাহ এবং ওসিডিতে কখনো আরও বেশি সময় লাগে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসক যেভাবে দিয়েছেন ঠিক সেভাবে খান। সাধারণত কম মাত্রা দিয়ে, প্রায়ই রাতে ঘুমানোর আগে দিনে একবার, শুরু করা হয় এবং ফলাফল দেখে চিকিৎসক ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়ান। বেশি মাত্রা হলে দিনে দুইবারে ভাগ করে দেওয়া হতে পারে। ট্যাবলেট পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান, খাবারের আগে বা পরে। ভালো লাগলেও ঔষধ চালিয়ে যান এবং হঠাৎ বন্ধ করবেন না; বন্ধের সময় চিকিৎসক ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ফ্লুভক্সামিন লিভারের যে এনজাইম অনেক ঔষধ ভাঙে তাকে জোরালোভাবে প্রভাবিত করে, তাই প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। টিজানিডিন, পিমোজাইড, থিওরিডাজিন, রামেলটিয়নের সাথে বা লাইনেজোলিড ও সেলেজিলিনের মতো এমএও ইনহিবিটর বন্ধের ১৪ দিনের মধ্যে খাবেন না। এটি থিওফাইলিন, ক্লোজাপিন, ওলানজাপিন, ক্যাফেইন, ওয়ারফারিন, ডায়াজিপামের মতো কিছু বেনজোডায়াজেপিন এবং কিছু হৃদরোগের ঔষধের মাত্রা বাড়াতে পারে। ট্রামাডল, ট্রিপটান, অন্য বিষণ্ণতারোধী, লিথিয়াম বা সেন্ট জনস ওয়ার্টের সাথে সেরোটোনিন সিনড্রোম হতে পারে। অ্যাসপিরিন, এনএসএআইডি বা রক্ত পাতলা করার ঔষধের সাথে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- ফ্লুভক্সামিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- টিজানিডিন, পিমোজাইড, থিওরিডাজিন বা রামেলটিয়ন খেলে।
- এমএও ইনহিবিটর চলাকালে বা বন্ধের ১৪ দিনের মধ্যে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব (প্রথম কয়েক সপ্তাহ পরে প্রায়ই কমে যায়), ঘুম ঘুম ভাব বা অনিদ্রা, মাথা ঘোরা, মুখ শুকানো, মাথাব্যথা, ঘাম, খাবারে অরুচি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, অস্থিরতা এবং যৌন সমস্যা যেমন আগ্রহ কমে যাওয়া।
আত্মহত্যা বা নিজের ক্ষতির চিন্তা, অস্বাভাবিক অস্থিরতা বা অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস, খিঁচুনি, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, কালো পায়খানা, জ্বরের সাথে বিভ্রান্তি, দ্রুত হৃদস্পন্দন, পেশি কাঁপা ও ঘাম (সম্ভাব্য সেরোটোনিন সিনড্রোম), অথবা ফোলা বা শ্বাসকষ্টসহ অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা হয়; গর্ভাবস্থার শেষ দিকে এসএসআরআই নবজাতকের সাময়িক সমস্যা করতে পারে। গর্ভবতী হলে নিজে থেকে ঔষধ বন্ধ করবেন না, চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ানো চলবে কি না চিকিৎসক জানাবেন।
সতর্কতা
- ২৫ বছরের কম বয়সীদের চিকিৎসার শুরুতে বা মাত্রা বদলের পর আত্মহত্যার চিন্তা বাড়তে পারে; পরিবারের সদস্যরা খেয়াল রাখুন।
- মৃগীরোগ, লিভারের রোগ, রক্তপাতের সমস্যা, গ্লুকোমা ও বাইপোলার ডিসঅর্ডারে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়।
- ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে; প্রভাব না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না।
- মদ্যপান এড়িয়ে চলুন এবং চা কফি কম খান, কারণ ক্যাফেইনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
- হঠাৎ বন্ধ করলে মাথা ঘোরা, খিটখিটে মেজাজ ও ফ্লুর মতো উপসর্গ হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি, তন্দ্রা, দ্রুত বা ধীর হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ কমে যাওয়া, খিঁচুনি ও অচেতনতা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বিষণ্ণতারোধী, সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিআপটেক ইনহিবিটর (এসএসআরআই)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।