বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Fondaparinux Sodium

  • 2 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 2 টি কোম্পানি

ব্যবহার

ফন্ডাপ্যারিনাক্স একটি অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট (রক্ত পাতলা করার) ইনজেকশন। বড় হিপ বা হাঁটুর অস্ত্রোপচার, পেটের অস্ত্রোপচারের পর, অথবা হঠাৎ অসুস্থতায় শয্যাশায়ী মানুষের শিরায় (ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস) ও ফুসফুসে (পালমোনারি এমবোলিজম) রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে এটি ব্যবহৃত হয়। বিদ্যমান ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস ও পালমোনারি এমবোলিজমের চিকিৎসায়, এবং কিছু ক্ষেত্রে অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোমেও (আনস্টেবল অ্যানজাইনা ও কিছু হার্ট অ্যাটাক) এটি ব্যবহার করা হয়।

কীভাবে কাজ করে

ফন্ডাপ্যারিনাক্স একটি কৃত্রিম ঔষধ, যা রক্তের প্রাকৃতিক প্রোটিন অ্যান্টিথ্রম্বিনের সাথে যুক্ত হয়। এতে অ্যান্টিথ্রম্বিনের ফ্যাক্টর Xa বন্ধ করার ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়, যা রক্ত জমাট বাঁধার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ফলে নতুন জমাট রক্ত তৈরির সম্ভাবনা কমে এবং বিদ্যমান জমাট বড় হয় না।

মাত্রা ও সেবনবিধি

রক্ত জমাট প্রতিরোধে প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা দিনে একবার ২.৫ mg চামড়ার নিচে ইনজেকশন, চিকিৎসকের নির্দেশমতো। অস্ত্রোপচারের পর প্রথম ডোজ সাধারণত অপারেশনের ৬ ঘণ্টা পরে, রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর দেওয়া হয়। বিদ্যমান জমাট রক্তের চিকিৎসায় মাত্রা শরীরের ওজনের ওপর নির্ভর করে এবং চিকিৎসক ঠিক করেন। ইনজেকশনটি চিকিৎসক বা নার্স দেন, অথবা যথাযথ প্রশিক্ষণের পর রোগী বা পরিচর্যাকারী দিতে পারেন।

  • পেটের নিচের অংশের চর্বিযুক্ত টিস্যুতে, পালাক্রমে বাম ও ডান দিকে ইনজেকশন দিন।
  • ইনজেকশনের জায়গা ঘষবেন না, এবং প্রি-ফিল্ড সিরিঞ্জের বাতাসের বুদবুদ বের করবেন না।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

অন্য অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট বা অ্যান্টিপ্লেটলেট ঔষধ, যেমন ওয়ারফারিন, হেপারিন, এনোক্সাপারিন, রিভারোক্সাবান, অ্যাপিক্সাবান, অ্যাসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল, এবং আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাকের মতো এনএসএআইডির সাথে ব্যবহার করলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। কিছু অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট (এসএসআরআই) রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সব ঔষধ ও সাপ্লিমেন্টের কথা চিকিৎসককে জানান।

কারা খাবেন না

  • ফন্ডাপ্যারিনাক্সে অ্যালার্জি থাকলে।
  • সক্রিয় ও উল্লেখযোগ্য রক্তক্ষরণ থাকলে।
  • অ্যাকিউট ব্যাকটেরিয়াল এন্ডোকার্ডাইটিস (হৃদপিণ্ডের ভেতরের আবরণের সংক্রমণ) থাকলে।
  • কিডনির গুরুতর সমস্যা থাকলে (ব্যবহারভেদে ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স ২০ থেকে ৩০ ml/min এর কম)।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে রক্তক্ষরণ (কালশিটে দাগ, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, অস্ত্রোপচার বা ইনজেকশনের জায়গা থেকে রক্ত পড়া), রক্তস্বল্পতা এবং লিভার পরীক্ষার পরিবর্তন। কদাচিৎ প্লেটলেট কমে যাওয়া, র‍্যাশ বা ফোলা হতে পারে।

বেশি বা অনিয়ন্ত্রিত রক্তক্ষরণ, কালো আলকাতরার মতো পায়খানা, রক্তবমি, প্রস্রাবে রক্ত, হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, দুর্বলতা বা অবশ ভাব হলে, অথবা স্পাইনাল বা এপিডুরাল অ্যানেস্থেসিয়ার পর পিঠে ব্যথা, পায়ে ঝিনঝিন, অবশ ভাব বা দুর্বলতা, কিংবা প্রস্রাব বা পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারালে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত; স্পষ্টভাবে প্রয়োজন হলে এবং চিকিৎসক নির্দেশ দিলে তবেই ব্যবহার করা উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় না।

সতর্কতা

রক্তক্ষরণজনিত রোগ, সাম্প্রতিক পাকস্থলীর আলসার, সাম্প্রতিক মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড বা চোখের অস্ত্রোপচার, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, কম ওজন (৫০ kg এর কম) এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন। চিকিৎসা চলাকালে স্পাইনাল বা এপিডুরাল অ্যানেস্থেসিয়া বা পাংচারে মেরুরজ্জুর চারপাশে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি থাকে, তাই চিকিৎসক সময় সাবধানে পরিকল্পনা করেন। চিকিৎসার সময় রক্তের কণিকা ও কিডনির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা হতে পারে।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

অতিরিক্ত মাত্রায় গুরুতর রক্তক্ষরণ হতে পারে। এর নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। জরুরি চিকিৎসা নিন; হাসপাতালে ঔষধ বন্ধ করে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট, নির্বাচিত ফ্যাক্টর Xa বাধাদানকারী।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায় রাখুন। জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Fondaparinux Sodium এর ব্র্যান্ড

2 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।