ব্যবহার
ফসফোমাইসিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক। মুখে খাওয়ার গ্রানিউলস (ফসফোমাইসিন ট্রোমেটামল) মূলত নারী ও কিশোরীদের ই. কোলাইয়ের মতো সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়াজনিত জটিলতাহীন মূত্রনালির সংক্রমণে (সিস্টাইটিস) এক ডোজের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিছু মূত্রনালির প্রসিডিউরের আগে সংক্রমণ প্রতিরোধেও দেওয়া হতে পারে। গুরুতর সংক্রমণে হাসপাতালে ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
ফসফোমাইসিন ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরির প্রথম ধাপের উপাদান তৈরি বন্ধ করে দেয়। ঠিকমতো প্রাচীর না থাকায় ব্যাকটেরিয়া ফেটে মারা যায়। একটি ডোজ খাওয়ার পর ১ থেকে ২ দিন প্রস্রাবে এর উচ্চ মাত্রা থাকে, যা বেশিরভাগ মূত্রথলির সংক্রমণ সারাতে যথেষ্ট।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের জটিলতাহীন সিস্টাইটিসে সাধারণ মাত্রা একবার একটি ৩ g স্যাশে। আধা গ্লাস পানিতে গুলে সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে নিন। খালি পেটে, খাবারের ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে বা পরে, ভালো হয় রাতে শোবার আগে প্রস্রাব করে নিয়ে খাওয়া। ডাক্তার না বললে দ্বিতীয় ডোজ নেবেন না। ইনজেকশন শুধু হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স দেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- মেটোক্লোপ্রামাইড ও পাকস্থলী দ্রুত খালি করে এমন ঔষধ এর শোষণ কমাতে পারে।
- খাবারের সাথে খেলে শোষণ কমে; খালি পেটে খান।
কারা খাবেন না
- ফসফোমাইসিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- গুরুতর কিডনি রোগ (মুখে খাওয়ার এক ডোজের ক্ষেত্রে)।
- কিডনির সংক্রমণ (পায়েলোনেফ্রাইটিস) বা জ্বরের সাথে কোমরে ব্যথা, যার জন্য অন্য চিকিৎসা দরকার।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, বদহজম, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং যোনিতে চুলকানি বা স্রাব (ছত্রাক সংক্রমণ)। এগুলো সাধারণত হালকা ও অল্প সময়ের। কদাচিৎ অ্যান্টিবায়োটিকের কয়েক সপ্তাহ পরেও অন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ (সি. ডিফিসিল জনিত ডায়রিয়া) হতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা শরীরে র্যাশের মতো গুরুতর অ্যালার্জি, তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, অথবা জ্বর, কাঁপুনি, কোমর বা পাঁজরের পাশে ব্যথা বা প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন, কারণ সংক্রমণ কিডনিতে ছড়াতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার উপযুক্ত মনে করলে গর্ভাবস্থায় এক ডোজ দেওয়া যেতে পারে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; এক ডোজ সাধারণত গ্রহণযোগ্য, তবে ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
- সাধারণত ২ থেকে ৩ দিনে উপসর্গ কমে; না কমলে ডাক্তার দেখান।
- পুরুষ, শিশু এবং জটিল বা বারবার হওয়া সংক্রমণে ডাক্তারের মূল্যায়ন দরকার।
- কিছু স্যাশেতে চিনি থাকে; ডায়াবেটিস থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- প্রচুর পানি পান করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে মাথা ঘোরা, স্বাদের পরিবর্তন, বমি বমি ভাব ও ডায়রিয়া হতে পারে। প্রচুর পানি পান করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিবায়োটিক; ফসফোনিক অ্যাসিড ডেরিভেটিভ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।