বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Furazolidone

  • 1 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 1 টি কোম্পানি

ব্যবহার

ফুরাজোলিডোন মুখে খাওয়ার একটি জীবাণুনাশক ও প্রোটোজোয়ানাশক ঔষধ। সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়াজনিত ডায়রিয়া ও এন্টেরাইটিস (অন্ত্রের প্রদাহ) এবং জিয়ারডিয়া নামের পরজীবীর কারণে হওয়া অন্ত্রের সংক্রমণ জিয়ারডিয়াসিসে এটি ব্যবহার হয়। এটি মূলত অন্ত্রের ভেতরে কাজ করে।

কীভাবে কাজ করে

ফুরাজোলিডোন নাইট্রোফিউরান গোত্রের ঔষধ। ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়ার ভেতরে এটি সক্রিয় পদার্থে রূপ নিয়ে তাদের ডিএনএ ও গুরুত্বপূর্ণ এনজাইমের ক্ষতি করে, ফলে জীবাণু বাড়তে পারে না এবং মারা যায়। রক্তে খুব কম শোষিত হয়, তাই এর কাজ প্রধানত অন্ত্রেই হয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা: ১০০ mg দিনে চারবার, সাধারণত ২ থেকে ৫ দিন, অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। জিয়ারডিয়াসিসে চিকিৎসক ৭ থেকে ১০ দিনের কোর্স দিতে পারেন। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী ঠিক হয়, তাই শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে দিন। পানি দিয়ে, খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়। ডায়রিয়ায় হারানো পানি পূরণে প্রচুর তরল বা খাবার স্যালাইন পান করুন। ২ থেকে ৩ দিনে উন্নতি না হলে চিকিৎসকের কাছে যান।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

ফুরাজোলিডোনের মনোঅ্যামাইন অক্সিডেজ (MAO) বাধাদানকারী প্রভাব আছে। চিকিৎসার সময় এবং শেষ হওয়ার পর অন্তত ৪ দিন অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে মুখ লাল হওয়া, বুক ধড়ফড়, বমিভাব ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কয়েক দিনের বেশি চিকিৎসা চললে টাইরামিনসমৃদ্ধ খাবার (পুরনো পনির, প্রক্রিয়াজাত বা গাঁজানো মাংস, সয়া সস) এড়িয়ে চলুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফ্লুওক্সেটিন, অ্যামিট্রিপটাইলিন বা MAO ইনহিবিটরের মতো বিষণ্ণতার ঔষধ, পেথিডিন, সিউডোএফেড্রিন বা ফিনাইলএফ্রিনের মতো সর্দির ঔষধ এবং অ্যামফিটামিনজাতীয় ঔষধের সাথে খাবেন না।

কারা খাবেন না

ফুরাজোলিডোন বা অন্য নাইট্রোফিউরানে অ্যালার্জি থাকলে, ১ মাসের কম বয়সী শিশুদের, এবং চিকিৎসক না বললে G6PD ঘাটতি থাকলে এটি ব্যবহার করবেন না। MAO ইনহিবিটর সেবনকারীরা এড়িয়ে চলবেন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বমিভাব, বমি, মাথাব্যথা, পেটের অস্বস্তি ও মাথা ঘোরা হতে পারে। প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা বাদামি হতে পারে, এটি ক্ষতিকর নয়। কম ক্ষেত্রে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি, জ্বর, গিঁটে ব্যথা বা রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে। G6PD ঘাটতি থাকলে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যেতে পারে।

মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, তীব্র ফুসকুড়ি, ত্বক খুব ফ্যাকাশে বা হলুদ হওয়া, গাঢ় লাল প্রস্রাব, অথবা তীব্র মাথাব্যথাসহ হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

গর্ভাবস্থায় এর নিরাপত্তা প্রমাণিত নয়; চিকিৎসক একান্ত প্রয়োজন মনে করলেই ব্যবহার করুন এবং প্রসবের কাছাকাছি সময়ে এড়িয়ে চলুন। এটি বুকের দুধে যেতে পারে; নবজাতক বা G6PD ঘাটতিযুক্ত শিশুকে দুধ খাওয়ালে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না।

সতর্কতা

যত কম সময় প্রয়োজন ততটুকুই ব্যবহার করুন। পায়খানায় রক্ত, খুব ঘন ঘন পায়খানা, উচ্চ জ্বর বা পানিশূন্যতার লক্ষণ (মুখ শুকিয়ে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা) দেখা দিলে চিকিৎসা নিন। G6PD ঘাটতি, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বা মন খারাপ বা সর্দির কোনো ঔষধ খেলে চিকিৎসককে জানান।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি খেলে তীব্র বমিভাব, বমি, মাথাব্যথা বা বিপজ্জনকভাবে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন। উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

নাইট্রোফিউরান জীবাণুনাশক ও প্রোটোজোয়ানাশক (অন্ত্রের সংক্রমণরোধী)।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে শুকনো স্থানে, আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Furazolidone এর ব্র্যান্ড

1 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।