জেনেরিক ঔষধ

Furosemide

  • 15 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 13 টি কোম্পানি

ব্যবহার

ফ্রুসেমাইড একটি শক্তিশালী প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ (ডাইইউরেটিক)। হার্ট ফেইলিউর, লিভারের রোগ বা কিডনির রোগের কারণে শরীরে জমে থাকা বাড়তি পানি (ইডিমা বা ফোলা) কমাতে এটি ব্যবহার হয়, কখনো উচ্চ রক্তচাপেও দেওয়া হয়। ফুসফুসে পানি জমার মতো জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে এর ইনজেকশন দেওয়া হয়।

কীভাবে কাজ করে

ফ্রুসেমাইড একটি লুপ ডাইইউরেটিক। এটি কিডনির একটি অংশকে (লুপ অব হেনলি) লবণ ও পানি রক্তে ফিরিয়ে নিতে বাধা দেয়, ফলে বেশি লবণ ও পানি প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়। এতে ফোলা ও শ্বাসকষ্ট কমে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

  • প্রাপ্তবয়স্ক, ফোলা: সাধারণত দিনে ১ বার সকালে ২০ থেকে ৪০ mg। প্রয়োজনে ডাক্তার মাত্রা বদলাতে পারেন।
  • উচ্চ রক্তচাপ: সাধারণত দিনে ২০ থেকে ৪০ mg, প্রায়ই অন্য ঔষধের সাথে, ডাক্তারের নির্দেশমতো।
  • বয়স্কদের সাধারণত কম মাত্রা দিয়ে শুরু করা হয়।
  • শিশু: শরীরের ওজন অনুযায়ী, ডাক্তারের নির্দেশমতো।

রাতে প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙা এড়াতে সকালে খান। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হলে তা দুপুরের পরপরই খেয়ে নিন। ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স দেন।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • অন্য রক্তচাপের ঔষধের সাথে রক্তচাপ বেশি কমে যেতে পারে, বিশেষ করে এনালাপ্রিলের মতো এসিই ইনহিবিটরের প্রথম ডোজে।
  • রক্তে লিথিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে।
  • পটাশিয়াম কমে গেলে ডিগক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
  • জেন্টামাইসিন ও এ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে কান ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।
  • আইবুপ্রোফেন ও ডাইক্লোফেনাকের মতো ব্যথানাশক এর কাজ কমাতে ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
  • প্রেডনিসোলনের মতো স্টেরয়েড পটাশিয়াম আরও কমায়।
  • সুক্রালফেট অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।

কারা খাবেন না

  • একেবারেই প্রস্রাব না হলে (প্রস্রাবহীন কিডনি বিকল)।
  • তীব্র পানিশূন্যতা বা রক্তে সোডিয়াম বা পটাশিয়াম খুব কম থাকলে।
  • লিভারের গুরুতর রোগে অচেতন অবস্থা হলে।
  • ফ্রুসেমাইড বা সালফোনামাইড জাতীয় ঔষধে অ্যালার্জি থাকলে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ: ঘন ঘন প্রস্রাব, দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, পিপাসা, পানিশূন্যতা, পটাশিয়াম বা সোডিয়াম কমে যাওয়া (মাংসপেশিতে টান, দুর্বলতা, ক্লান্তি), ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেঁটেবাত হওয়া, রক্তে শর্করা বাড়া এবং চামড়ায় র‍্যাশ।

অজ্ঞান হয়ে গেলে, মুখ খুব শুকিয়ে গিয়ে প্রস্রাব কমে গেলে, হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত বা দ্রুত হলে, তীব্র দুর্বলতা বা বিভ্রান্তি হলে, কানে শোঁ শোঁ শব্দ বা কম শুনলে, ফোসকাসহ তীব্র র‍্যাশ হলে, অথবা পেটে তীব্র ব্যথা হলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে ব্যবহার করুন, কারণ এটি শিশুর কাছে রক্তপ্রবাহ কমাতে পারে। এটি বুকের দুধে যায় এবং দুধ কমিয়ে দিতে পারে; বুকের দুধ খাওয়ালে ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সতর্কতা

সাধারণত নিয়মিত রক্তে লবণ (সোডিয়াম, পটাশিয়াম) ও কিডনির পরীক্ষা করাতে হয়। বয়স্ক এবং ডায়াবেটিস, গেঁটেবাত, নিম্ন রক্তচাপ, প্রোস্টেট বড় হওয়া বা প্রস্রাবে সমস্যা ও লিভারের রোগ থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। মাথা ঘোরা এড়াতে ধীরে উঠে দাঁড়ান। রোদে চামড়া সহজে পুড়তে পারে। পরামর্শ ছাড়া ঔষধ বন্ধ করবেন না বা মাত্রা বদলাবেন না।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি খেলে তীব্র পানিশূন্যতা, রক্তচাপ খুব কমে যাওয়া, লবণের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, বিভ্রান্তি ও অজ্ঞান হওয়া ঘটতে পারে। দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

লুপ ডাইইউরেটিক।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইনজেকশনের অ্যাম্পুল আলো থেকে বাঁচাতে কার্টনের ভেতরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Furosemide এর ব্র্যান্ড

1 টি ব্র্যান্ড

Furosemide যুক্ত কম্বিনেশন ঔষধ

14 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।