জেনেরিক ঔষধ

Gabapentin

  • 23 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 19 টি কোম্পানি

ব্যবহার

গ্যাবাপেন্টিন ব্যবহার হয়:

  • প্রাপ্তবয়স্কদের স্নায়ুজনিত ব্যথায় (নিউরোপ্যাথিক ব্যথা), যেমন শিংগলসের পরের ব্যথা (পোস্টহারপেটিক নিউরালজিয়া) ও ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর ক্ষতির ব্যথায়;
  • বড় ও শিশুদের আংশিক খিঁচুনিতে (ফোকাল এপিলেপসি), ছড়িয়ে পড়ুক বা না পড়ুক, একা বা অন্য খিঁচুনির ঔষধের সাথে।

কীভাবে কাজ করে

গ্যাবাপেন্টিন একটি খিঁচুনিরোধী (অ্যান্টিকনভালস্যান্ট) ঔষধ। এটি অতিসক্রিয় স্নায়ুকোষের ক্যালসিয়াম চ্যানেলের একটি অংশে যুক্ত হয়ে ব্যথা ও খিঁচুনির সংকেত বহনকারী রাসায়নিকের নিঃসরণ কমায়। এতে উত্তেজিত স্নায়ু শান্ত হয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রাপ্তবয়স্ক: পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়; সাধারণত প্রথম দিন ৩০০ mg দিয়ে শুরু করে কয়েক দিনে বাড়ানো হয়। সাধারণ কার্যকর মাত্রা দিনে ৯০০ থেকে ৩৬০০ mg, তিন ভাগে, চিকিৎসকের নির্দেশমতো। দুই ডোজের মাঝে ১২ ঘণ্টার বেশি বিরতি দেওয়া উচিত নয়।

খিঁচুনিতে আক্রান্ত শিশু: ওজন অনুযায়ী, চিকিৎসকের নির্দেশমতো। কিডনির সমস্যা ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে কম মাত্রা ব্যবহার হয়।

ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট পানি দিয়ে গিলে খান, খাবারের আগে বা পরে। কোনো ডোজ বাদ পড়লে মনে পড়ামাত্র খান, তবে পরের ডোজের সময় কাছে হলে বাদ দিন; একসাথে দুই ডোজ খাবেন না।

হঠাৎ বন্ধ করবেন না, বিশেষ করে খিঁচুনির রোগ থাকলে। চিকিৎসক অন্তত এক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • মরফিন, ট্রামাডল ও অন্যান্য অপিওয়েড, এবং অ্যালকোহল, ঘুমের ঔষধ ও অন্যান্য নিদ্রাকারক ঔষধ ঝিমুনি বাড়ায় এবং শ্বাস ধীর করতে পারে।
  • অ্যালুমিনিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড শোষণ কমায়; এগুলো খাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা পর গ্যাবাপেন্টিন খান।
  • গ্যাবাপেন্টিন কিছু প্রস্রাবের প্রোটিন ডিপস্টিক পরীক্ষায় ভুল পজিটিভ ফল দিতে পারে।

কারা খাবেন না

গ্যাবাপেন্টিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ: ঝিমুনি, মাথা ঘোরা, টলমল ভাব, ক্লান্তি, ঝাপসা বা দুটি করে দেখা, হাত-পা ফোলা, ওজন বাড়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়া এবং মনে রাখা বা মনোযোগের সমস্যা।

নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:

  • ধীর বা অগভীর শ্বাস, বা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব, বিশেষ করে অপিওয়েডের সাথে বা ফুসফুসের রোগে;
  • মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট;
  • জ্বর, গ্রন্থি ফোলা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়াসহ ছড়িয়ে পড়া র‍্যাশ (DRESS নামের গুরুতর প্রতিক্রিয়া);
  • নিজের ক্ষতি করার চিন্তা, বা নতুন বা বেড়ে যাওয়া বিষণ্ণতা, উদ্বেগ বা অস্থিরতা;
  • বমিসহ তীব্র পেটব্যথা (প্যানক্রিয়াটাইটিস হতে পারে);
  • অকারণে মাংসপেশিতে ব্যথা বা দুর্বলতা, অথবা খিঁচুনি আগের চেয়ে ঘন ঘন হওয়া।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত। গর্ভবতী হলে বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন; নিজে থেকে ঔষধ বন্ধ করবেন না, কারণ অনিয়ন্ত্রিত খিঁচুনি মা ও শিশু দুজনেরই ক্ষতি করতে পারে। গ্যাবাপেন্টিন বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ালে শিশুর অতিরিক্ত ঘুম বা কম খাওয়ার দিকে নজর রাখুন এবং চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।

সতর্কতা

  • মাথা ঘোরা ও ঝিমুনি হতে পারে; ঔষধটি আপনার উপর কেমন প্রভাব ফেলে তা না জানা পর্যন্ত গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না।
  • বয়স্কদের পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি।
  • কিডনির রোগ, ফুসফুসের রোগ, অথবা মাদক বা অ্যালকোহলের অপব্যবহারের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান, কারণ গ্যাবাপেন্টিনের অপব্যবহার হতে পারে।
  • অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
  • পরিবারের সদস্যরা মেজাজ বা আচরণের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখুন।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

প্রচণ্ড ঝিমুনি, মাথা ঘোরা, দুটি করে দেখা, জড়িয়ে কথা বলা, ডায়রিয়া ও ধীর শ্বাস হতে পারে, বিশেষ করে অন্য নিদ্রাকারক ঔষধের সাথে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন। ডায়ালাইসিসে গ্যাবাপেন্টিন সরানো যায়।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

খিঁচুনিরোধী (এপিলেপসির ঔষধ); স্নায়ুজনিত ব্যথার ঔষধ।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Gabapentin এর ব্র্যান্ড

23 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।