ব্যবহার
গার্লিক অয়েল রসুন (অ্যালিয়াম স্যাটিভাম) থেকে তৈরি একটি খাদ্য সম্পূরক। প্রচলিতভাবে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তসঞ্চালনের স্বাস্থ্য রক্ষায় এটি ব্যবহৃত হয়, আর অনেকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে এটি খান। এর কার্যকারিতার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত, এবং এটি চিকিৎসকের দেওয়া ঔষধের বিকল্প নয়।
কীভাবে কাজ করে
রসুনে অ্যালিসিনসহ কিছু সালফার যৌগ থাকে, যেগুলোর কারণে রসুনের গন্ধ হয়। এই যৌগগুলো রক্তনালীকে সামান্য শিথিল করতে, প্লেটলেটের (রক্ত জমাট বাঁধায় সাহায্যকারী কোষ) আঠালোভাব কমাতে এবং হালকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাব রাখতে পারে। বিভিন্ন পণ্যে সক্রিয় উপাদানের পরিমাণ ভিন্ন হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশমতো খাবারের সাথে মুখে সেবন করুন, সাধারণত দিনে ১ থেকে ২টি সফট ক্যাপসুল। খাবারের সাথে খেলে রসুনের স্বাদ ও পেটের অস্বস্তি কম হয়। লেবেলে লেখা মাত্রার বেশি খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগ্রেল বা অ্যাসপিরিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধের সাথে রসুন রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এটি স্যাকুইনাভির ও কিছু HIV ঔষধের মাত্রা কমাতে পারে, এবং রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঔষধের প্রভাব বাড়াতে পারে। এসব ঔষধ খেলে চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
রসুন বা পেঁয়াজজাতীয় উদ্ভিদে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। রক্তক্ষরণজনিত রোগ থাকলে চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া এড়িয়ে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত এটি ভালোভাবে সহ্য হয়। মুখে ও শরীরে রসুনের গন্ধ, বুকজ্বালা, ঢেকুর, পেট ফাঁপা, বমিভাব ও পাতলা পায়খানা হতে পারে। কদাচিৎ অ্যালার্জি বা রক্তপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।
অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, প্রস্রাব বা পায়খানায় রক্ত, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া, ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
স্বাভাবিক খাবারে রসুন নিরাপদ। তবে গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে সম্পূরক মাত্রা নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা নেই, তাই সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রসুন বুকের দুধের স্বাদ বদলে দিতে পারে।
সতর্কতা
রক্তপাতের ঝুঁকির কারণে অস্ত্রোপচার বা দাঁতের চিকিৎসার প্রায় ৭ দিন আগে রসুনের সম্পূরক বন্ধ করুন। পাকস্থলীর আলসার, নিম্ন রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে, অথবা নিয়মিত ঔষধ খেলে আগে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। এটি কোলেস্টেরল বা রক্তচাপের ঔষধের বিকল্প নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি সেবনে পেটের অস্বস্তি, বুকজ্বালা, বমিভাব ও রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভেষজ খাদ্য সম্পূরক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।