ব্যবহার
গ্যাটিফ্লক্সাসিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক। এটি প্রধানত চোখের ড্রপ হিসেবে ব্যাকটেরিয়াজনিত চোখের সংক্রমণ, যেমন কনজাংটিভাইটিস (চোখ লাল হওয়া ও পিঁচুটি) এর চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। ডেক্সামেথাসন বা লোটেপ্রেডনলের মতো স্টেরয়েডের সাথে মিলিয়ে প্রদাহসহ চোখের সংক্রমণে, বা চোখের অপারেশনের পরে সংক্রমণ ও ফোলা প্রতিরোধেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি ব্যাকটেরিয়ার জিনগত উপাদান (ডিএনএ) তৈরিতে বাধা দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া বাড়তে পারে না এবং মারা যায়। ভাইরাস বা ছত্রাকের সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ব্যাকটেরিয়াজনিত কনজাংটিভাইটিস, প্রাপ্তবয়স্ক ও ১ বছরের বেশি বয়সী শিশু: সাধারণত প্রথম দিন জেগে থাকা অবস্থায় প্রতি ২ ঘণ্টা পর পর আক্রান্ত চোখে ১ ফোঁটা (দিনে সর্বোচ্চ ৮ বার), তারপর ৭ম দিন পর্যন্ত দিনে ২ থেকে ৪ বার, বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। স্টেরয়েডসহ ড্রপ ও অপারেশনের পরের ব্যবহার: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। ব্যবহারের আগে হাত ধুয়ে নিন, ড্রপারের মুখ চোখে লাগাবেন না, আর অন্য চোখের ঔষধ দিলে অন্তত ৫ মিনিট পর দিন। পুরো কোর্স শেষ করুন। রক্তে শর্করার গুরুতর ওঠানামার কারণে অনেক দেশে এর ট্যাবলেট বন্ধ করা হয়েছে; ডাক্তার লিখে না দিলে ট্যাবলেট খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
চোখের ড্রপে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া কম। অন্য চোখের ড্রপ বা মলম ব্যবহার করলে মাঝে অন্তত ৫ মিনিট বিরতি দিন।
কারা খাবেন না
গ্যাটিফ্লক্সাসিন, অন্য কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন সিপ্রোফ্লক্সাসিন বা মক্সিফ্লক্সাসিন) বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে। ভাইরাসজনিত (যেমন হারপিস), ছত্রাকজনিত বা যক্ষ্মাজনিত চোখের সংক্রমণে স্টেরয়েডসহ ড্রপ ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: চোখে হালকা জ্বালা, চিনচিন ভাব, পানি পড়া, লাল হওয়া ও মুখে তেতো স্বাদ। এলার্জির লক্ষণ (র্যাশ, মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট) দেখা দিলে, বা চোখের ব্যথা, লালভাব বা ঝাপসা দেখা কমার বদলে বাড়লে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ড্রপ থেকে খুব সামান্য পরিমাণ রক্তে যায়, তবে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ে তথ্য সীমিত। শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
চোখে সংক্রমণ থাকা অবস্থায় কন্টাক্ট লেন্স পরবেন না। বেশি দিন ব্যবহার করলে ঔষধে কাজ না করা জীবাণু বা ছত্রাক জন্মাতে পারে। ড্রপে স্টেরয়েড থাকলে দীর্ঘ ব্যবহারে চোখের চাপ বাড়তে ও ছানি পড়তে পারে, তাই শুধু যতদিন বলা হয়েছে ততদিন ব্যবহার করুন। ২ থেকে ৩ দিনে উন্নতি না হলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
চোখে কয়েক ফোঁটা বেশি পড়লে ক্ষতির সম্ভাবনা কম; পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ড্রপ কেউ, বিশেষ করে শিশু, খেয়ে ফেললে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কুইনোলোন (ফ্লুরোকুইনোলোন) অ্যান্টিবায়োটিক, চোখের ব্যবহারের জন্য।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন, ফ্রিজে জমাবেন না। বোতল শক্ত করে বন্ধ রাখুন ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। খোলার ৪ সপ্তাহ পরে ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।