ব্যবহার
জেমফাইব্রোজিল রক্তে বেশি ট্রাইগ্লিসারাইড (এক ধরনের রক্তের চর্বি) কমাতে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে যখন এটি অনেক বেশি হয়ে অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহের ঝুঁকি বাড়ায়। যারা অন্য চিকিৎসা নিতে পারেন না বা ফল পান না, এমন কিছু রোগীর HDL (ভালো) কোলেস্টেরল বাড়াতে ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও এটি দেওয়া হতে পারে। কম চর্বির খাবার, ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণের সাথে এটি ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
জেমফাইব্রোজিল ফাইব্রেট দলের ঔষধ। এটি লিভারের PPAR আলফা নামের একটি নিয়ন্ত্রক প্রোটিনকে সক্রিয় করে। এতে চর্বি ভাঙার হার বাড়ে, লিভারে ট্রাইগ্লিসারাইডসমৃদ্ধ কণা তৈরি কমে এবং HDL কোলেস্টেরল বাড়ে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ৬০০ mg দিনে ২ বার, সকালের নাস্তা ও রাতের খাবারের ৩০ মিনিট আগে। কিছু রোগী চিকিৎসকের পরামর্শে দৈনিক ৯০০ mg থেকে ১২০০ mg খান। কয়েক মাস পর রক্তের চর্বি পরীক্ষা করা হয়; ৩ মাসে স্পষ্ট উপকার না হলে চিকিৎসক এটি বন্ধ করতে পারেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- সিমভাস্টাটিন, রেপাগ্লাইনাইড বা ডাসাবুভিরের সাথে খাবেন না; গুরুতর পেশির ক্ষতি বা রক্তে শর্করা খুব কমে যেতে পারে।
- অন্য স্ট্যাটিনের সাথে পেশির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে, তাই সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়।
- এটি ওয়ারফারিন ও অনুরূপ রক্ত পাতলা করার ঔষধের প্রভাব অনেক বাড়ায়; মাত্রা বদলানো দরকার।
- পাইওগ্লিটাজোন ও সালফোনাইলইউরিয়ার মতো কিছু ডায়াবেটিসের ঔষধের প্রভাব বাড়াতে পারে।
- কোলেস্টিপল ও অনুরূপ রেজিন ঔষধ অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
কারা খাবেন না
- জেমফাইব্রোজিলে অ্যালার্জি থাকলে।
- তীব্র লিভারের রোগ বা প্রাইমারি বিলিয়ারি সিরোসিস থাকলে।
- তীব্র কিডনি রোগ থাকলে।
- পিত্তথলির রোগ বা পিত্তপাথর থাকলে।
- সিমভাস্টাটিন, রেপাগ্লাইনাইড বা ডাসাবুভির খেলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণভাবে বদহজম, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, বমিভাব, পেটে গ্যাস, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও ত্বকে র্যাশ হতে পারে। এটি পিত্তপাথরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কারণ ছাড়া পেশিতে ব্যথা, চাপ দিলে ব্যথা বা দুর্বলতা (বিশেষ করে জ্বর বা গাঢ় প্রস্রাবসহ), পেটের ডান দিকের ওপরে তীব্র ব্যথা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে না করলে গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
- চিকিৎসার সময় রক্তকণিকা, লিভার ও কিডনির পরীক্ষা করা হতে পারে।
- সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান, বিশেষ করে কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ও রক্ত পাতলা করার ঔষধ।
- খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পরিকল্পনা মেনে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে পেটে কামড়ানি, ডায়রিয়া, গিঁট ও পেশিব্যথা, বমিভাব ও বমি হতে পারে। চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
রক্তের চর্বি কমানোর ঔষধ (ফাইব্রেট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।