ব্যবহার
গিলটেরিটিনিব একটি লক্ষ্যভিত্তিক ক্যান্সারের ঔষধ। প্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (AML), অর্থাৎ দ্রুত বাড়তে থাকা এক ধরনের রক্তের ক্যান্সার, যখন আগের চিকিৎসার পর ফিরে এসেছে বা সাড়া দেয়নি এবং ক্যান্সার কোষে FLT3 নামের জিনে পরিবর্তন (মিউটেশন) আছে, তখন এটি ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসা শুরুর আগে পরীক্ষা করে FLT3 মিউটেশন নিশ্চিত করতে হয়।
কীভাবে কাজ করে
গিলটেরিটিনিব একটি কাইনেজ ইনহিবিটর। এটি FLT3 এবং AXL নামের প্রোটিনকে বাধা দেয়, যেগুলো লিউকেমিয়া কোষকে বাড়তে ও বিভাজিত হতে সংকেত পাঠায়। এই সংকেত বন্ধ হলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি কমে বা থেমে যায় এবং কোষগুলো মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের (হেমাটোলজিস্ট বা অনকোলজিস্ট) নির্দেশমতো ঠিক যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবে সেবন করুন। ট্যাবলেট দিনে একবার প্রতিদিন একই সময়ে, খাবারের আগে বা পরে, পানি দিয়ে আস্ত গিলে খেতে হয়। ভাঙবেন বা চিবাবেন না। চিকিৎসা সাধারণত কয়েক মাস চলে, এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও রক্ত পরীক্ষার ভিত্তিতে চিকিৎসক মাত্রা বদলাতে বা সাময়িক বন্ধ রাখতে পারেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, রিটোনাভিরের মতো শক্তিশালী CYP3A ইনহিবিটর গিলটেরিটিনিবের মাত্রা বাড়াতে পারে। রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন ও সেন্ট জনস ওয়ার্টের মতো ঔষধ মাত্রা কমিয়ে দেয়, তাই এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। হৃদ্স্পন্দনের QT সময় দীর্ঘ করে এমন ঔষধ ঝুঁকি বাড়ায়। সব ঔষধ ও সম্পূরকের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
গিলটেরিটিনিব বা ট্যাবলেটের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে সেবন করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো ক্লান্তি, পেশি ও গিঁটে ব্যথা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, বমিভাব, কাশি, হাত-পা ফোলা, ফুসকুড়ি, যকৃতের এনজাইম বৃদ্ধি, রক্তকণিকা কমে যাওয়া ও সংক্রমণ। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ডিফারেনশিয়েশন সিনড্রোম (লিউকেমিয়া কোষ থেকে রাসায়নিক বের হয়ে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ফোলা ও কিডনির সমস্যা), হৃদ্স্পন্দনের পরিবর্তন, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ এবং PRES নামের মস্তিষ্কের একটি বিরল সমস্যা।
জ্বর, শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি বা ফোলা, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হওয়া বা দ্রুত অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন, তীব্র পেটব্যথা, খিঁচুনি, হঠাৎ মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি বা দৃষ্টির পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গিলটেরিটিনিব গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। শুরুর আগে নারীদের গর্ভধারণ পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসাকালে ও শেষ মাত্রার পর অন্তত ৬ মাস কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। পুরুষদের চিকিৎসাকালে ও পরে অন্তত ৪ মাস কনডম ব্যবহার করা উচিত। চিকিৎসাকালে ও শেষ মাত্রার পর ২ মাস বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, ইসিজি এবং পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা দেখা প্রয়োজন। হৃদ্রোগ, যকৃৎ বা কিডনির রোগ, বা আগে অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ হয়ে থাকলে চিকিৎসককে জানান। রক্তকণিকা কম থাকতে পারে, তাই সংক্রমণের যেকোনো লক্ষণ দ্রুত জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। বেশি খেয়ে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন; হৃদ্যন্ত্রসহ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সার প্রতিরোধী ঔষধ (FLT3 টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, মূল প্যাকেটে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।