ব্যবহার
গ্লেকাপ্রেভির একটি অ্যান্টিভাইরাল ঔষধ, যা সবসময় পিব্রেন্টাসভিরের সাথে একই ট্যাবলেটে মিলিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক ও বড় শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি (ক্রনিক) হেপাটাইটিস সি সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এটি ভাইরাসের ছয়টি প্রধান ধরনের (জেনোটাইপ) বিরুদ্ধেই কাজ করে। লিভার সিরোসিস না থাকলে বা লিভার সিরোসিস থাকলেও লিভার কাজ করে গেলে (কমপেনসেটেড সিরোসিস) এটি ব্যবহার করা যায়, আর ডায়ালাইসিস রোগীসহ কিডনি রোগীরাও এটি নিতে পারেন।
কীভাবে কাজ করে
গ্লেকাপ্রেভির হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের NS3/4A প্রোটিয়েজ নামের একটি এনজাইম আটকে দেয়। ভাইরাস নিজের লম্বা প্রোটিন শৃঙ্খলকে কেটে কাজের অংশ তৈরি করতে এবং বংশবৃদ্ধি করতে এই এনজাইম ব্যবহার করে। এনজাইম বন্ধ হলে ভাইরাস আর বাড়তে পারে না। পিব্রেন্টাসভির ভাইরাসের আরেকটি প্রোটিন (NS5A) আক্রমণ করে, এবং দুটি একসাথে ব্যবহারে বেশিরভাগ রোগীর সংক্রমণ সেরে যায় ও প্রতিরোধ গড়ে ওঠার ঝুঁকি কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
হেপাটাইটিস সি চিকিৎসায় অভিজ্ঞ চিকিৎসক এই ঔষধ দেন এবং চিকিৎসার সময় পর্যবেক্ষণ করেন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা হলো তিনটি ট্যাবলেট (প্রতিটিতে গ্লেকাপ্রেভির ১০০ mg ও পিব্রেন্টাসভির ৪০ mg) দিনে একবার একসাথে খাবারের সাথে, অর্থাৎ দিনে গ্লেকাপ্রেভির ৩০০ mg ও পিব্রেন্টাসভির ১২০ mg। চিকিৎসা সাধারণত ৮ সপ্তাহ চলে, তবে লিভারের ক্ষতির মাত্রা, আগের চিকিৎসা ও ভাইরাসের ধরন অনুযায়ী ১২ বা ১৬ সপ্তাহও হতে পারে। ট্যাবলেট আস্ত গিলে খান, চিবাবেন না, ভাঙবেন না বা গুঁড়া করবেন না। নির্দেশমতো প্রতিটি ডোজ নিন এবং মাঝপথে বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যাটাজানাভির বা রিফামপিসিনের সাথে কখনোই ব্যবহার করা যাবে না।
- কার্বামাজেপিন, ফেনাইটোইন, ফেনোবারবিটাল, ইফাভিরেঞ্জ ও সেন্ট জনস ওয়ার্ট এর মাত্রা কমিয়ে কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে।
- ইথিনাইলএস্ট্রাডিওলযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি লিভার এনজাইম বাড়ার ঝুঁকি বাড়ায়, তাই চিকিৎসার সময় এগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
- এটি অ্যাটোরভাস্টাটিন, সিমভাস্টাটিন, লোভাস্টাটিন, রোসুভাস্টাটিন, ডাবিগাট্রান, ডিগক্সিন ও সাইক্লোস্পোরিনের রক্তমাত্রা বাড়াতে পারে, তাই মাত্রা বদলাতে বা ঔষধটি এড়াতে হতে পারে।
- ওয়ারফারিন সেবনকারীদের ঘন ঘন INR পরীক্ষা দরকার, আর লিভার ভালো হতে থাকলে ডায়াবেটিসের ঔষধের মাত্রা কমাতে হতে পারে।
- ভেষজসহ আপনার সব ঔষধের তালিকা চিকিৎসককে দিন।
কারা খাবেন না
- মাঝারি বা গুরুতর লিভার অকার্যকারিতা (চাইল্ড-পিউ B বা C), অথবা আগে জন্ডিস, পেটে পানি বা বিভ্রান্তিসহ লিভার বিকলের ইতিহাস থাকলে।
- অ্যাটাজানাভির বা রিফামপিসিন সেবন করলে।
- যেকোনো সক্রিয় উপাদান বা অন্য উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বেশিরভাগ মানুষ এই চিকিৎসা ভালোভাবে সহ্য করেন। সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব ও ডায়রিয়া। চুলকানি হতে পারে, বিশেষ করে কিডনি রোগীদের। রক্ত পরীক্ষায় কখনো বিলিরুবিন বাড়তে দেখা যায়।
ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, পেট ফুলে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব, রক্তবমি, অথবা মুখ বা গলা ফুলে শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের অভিজ্ঞতা খুব কম। সাধারণত সন্তান জন্মের পর পর্যন্ত চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়া হয়, তাই গর্ভবতী হলে বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসককে জানান। এটি বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই; চিকিৎসক বুকের দুধ খাওয়ানোর উপকারিতা ও ঝুঁকি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেবেন।
সতর্কতা
- হেপাটাইটিস সি চিকিৎসার সময় বা পরে হেপাটাইটিস বি হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, কখনো মারাত্মকভাবে। তাই শুরুর আগে হেপাটাইটিস বি পরীক্ষা করা হয়।
- লিভার সিরোসিস থাকলে চিকিৎসার সময় নিয়মিত লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা দরকার।
- আগে একই ধরনের NS3/4A প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর ও NS5A ইনহিবিটরের সমন্বয়ে চিকিৎসা ব্যর্থ হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া এটি ব্যবহার করা হয় না।
- ভাইরাস সেরে গেলেও আবার হেপাটাইটিস সি হতে পারে; সুই, রেজার ও টুথব্রাশ ভাগাভাগি করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনের অভিজ্ঞতা কম। বেশি ট্যাবলেট খেয়ে ফেললে চিকিৎসক বা হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করুন, যাতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য পর্যবেক্ষণ করা যায়। ডায়ালাইসিসে ঔষধটি শরীর থেকে বের হয় না।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
হেপাটাইটিস সি এর সরাসরি কার্যকর অ্যান্টিভাইরাল (NS3/4A প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো স্থানে, আর্দ্রতা থেকে বাঁচাতে আসল প্যাকেটে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।