ব্যবহার
প্রাপ্তবয়স্কদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে গ্লিবেনক্লামাইড ব্যবহার হয়, যখন শুধু খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এটি একা বা মেটফরমিনের মতো অন্য ডায়াবেটিসের ঔষধের সাথে দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি সালফোনাইলইউরিয়া গোত্রের ঔষধ। এটি অগ্ন্যাশয় থেকে বেশি ইনসুলিন বের করে, যে হরমোন রক্তের সুগারকে শরীরের কোষে পৌঁছে দেয়। অগ্ন্যাশয় কিছুটা ইনসুলিন তৈরি করতে পারলেই এটি কাজ করে, তাই টাইপ ১ ডায়াবেটিসে এটি ব্যবহার হয় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে একবার ২.৫ থেকে ৫ mg দিয়ে শুরু, সকালের নাস্তা বা দিনের প্রথম প্রধান খাবারের সাথে। রক্তের সুগার দেখে ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়াতে পারেন, সাধারণত দিনে ১৫ mg এর বেশি নয়। বয়স্ক ও কিডনির সমস্যা আছে এমন রোগীদের কম মাত্রায় শুরু করা হয় বা অন্য ঔষধ দেওয়া হয়। ঔষধ খাওয়ার পর খাবার বাদ দেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ইনসুলিন ও অন্যান্য ডায়াবেটিসের ঔষধে সুগার বেশি কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
- ফ্লুকোনাজোল, মাইকোনাজোল, ক্লারিথ্রোমাইসিন, সালফোনামাইড অ্যান্টিবায়োটিক ও কিছু ব্যথানাশক এর প্রভাব বাড়াতে পারে।
- কর্টিকোস্টেরয়েড, থায়াজাইড ডাইইউরেটিক ও কিছু হরমোনের ঔষধ সুগার বাড়িয়ে এর কাজ কমাতে পারে।
- প্রোপ্রানোললের মতো বিটা-ব্লকার সুগার কমে যাওয়ার লক্ষণ ঢেকে দিতে পারে।
- মদ্যপানে সুগার কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
- লিভারের ঝুঁকির কারণে বোসেন্টানের সাথে এটি খাওয়া যাবে না।
কারা খাবেন না
- টাইপ ১ ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস থাকলে।
- কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগ থাকলে।
- গ্লিবেনক্লামাইড, অন্য সালফোনাইলইউরিয়া বা সালফোনামাইড ঔষধে এলার্জি থাকলে।
- পোরফাইরিয়া থাকলে।
- গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো রক্তের সুগার কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া): ঘাম, কাঁপুনি, খিদে, বুক ধড়ফড়, মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি বা চোখে ঝাপসা দেখা। এমন হলে সঙ্গে সঙ্গে মিষ্টি কিছু খান বা পান করুন। এছাড়া ওজন বাড়া, বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি ও চামড়ায় র্যাশ হতে পারে।
চিনি খাওয়ার পরও সুগার না বাড়লে, অজ্ঞান হয়ে গেলে, খিঁচুনি বা অস্বাভাবিক ঝিমুনি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। চামড়া বা চোখ হলুদ হলে, ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়া র্যাশ হলে, অথবা অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত হলেও দ্রুত ডাক্তার দেখান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় সুপারিশ করা হয় না; গর্ভবতী বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন এমন ডায়াবেটিস রোগীকে সাধারণত ইনসুলিনে নেওয়া হয়, তাই আগেভাগে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি খাওয়া উচিত নয়, কারণ শিশুর সুগার কমে যেতে পারে।
সতর্কতা
- গ্লিবেনক্লামাইড অনেকক্ষণ কাজ করে, তাই সুগার কমে গেলে তা দীর্ঘ সময় থাকতে পারে, বিশেষ করে বয়স্ক ও কিডনি রোগীদের।
- নিয়মিত খাবার খান; ব্যায়াম, রোজা, অসুস্থতা বা মদ্যপানের সময় বাড়তি সতর্ক থাকুন।
- জি৬পিডি ঘাটতি থাকলে রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
- নিয়মিত সুগার মাপুন এবং সাথে মিষ্টি জাতীয় খাবার রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেয়ে ফেললে রক্তের সুগার মারাত্মকভাবে ও দীর্ঘ সময় কমে থাকতে পারে, এবং কয়েক ঘণ্টা পর আবার কমে যেতে পারে। রোগী সজাগ থাকলে চিনি বা মিষ্টি পানীয় দিন এবং দ্রুত হাসপাতালে নিন। রোগী ঝিমিয়ে পড়লে বা অজ্ঞান হলে মুখে কিছু দেবেন না; জরুরি সাহায্য ডাকুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
সালফোনাইলইউরিয়া (মুখে খাওয়ার ডায়াবেটিসের ঔষধ)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।