ব্যবহার
গ্লুকোজ ও ইলেক্ট্রোলাইট দ্রবণ হলো জীবাণুমুক্ত তরল যা শিরার মাধ্যমে (ইন্ট্রাভেনাস ইনফিউশন) দেওয়া হয় পানি, চিনি ও লবণের ঘাটতি পূরণে। পানিশূন্যতা, রোগী খেতে বা পান করতে না পারলে তরল ও শক্তি জোগাতে, অপারেশনের আগে ও পরে, এবং হালকা লবণের ভারসাম্যহীনতা ঠিক করতে এটি ব্যবহার হয়। এই শ্রেণির কিছু পণ্যে শিরাপথে পুষ্টির জন্য অ্যামাইনো অ্যাসিড বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও থাকে।
কীভাবে কাজ করে
গ্লুকোজ (ডেক্সট্রোজ) শরীরের কোষকে পানি ও দ্রুত শক্তি দেয়। সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো ইলেক্ট্রোলাইট হলো খনিজ লবণ যা কোষের ভেতরে ও বাইরে তরলের ভারসাম্য রাখে এবং স্নায়ু, পেশি ও হৃদযন্ত্রকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। সরাসরি শিরায় দিলে এগুলোর মাত্রা দ্রুত ঠিক হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এই তরল চিকিৎসক বা নার্স শিরায় ড্রিপের মাধ্যমে দেন। কোন দ্রবণ, কত পরিমাণ ও কত গতিতে দেওয়া হবে তা রোগীর বয়স, ওজন, অবস্থা ও রক্ত পরীক্ষার ফল দেখে চিকিৎসক নির্ধারণ করেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- পটাশিয়ামযুক্ত তরল স্পাইরোনোল্যাকটোন, অ্যামিলোরাইড, ACE ইনহিবিটর (যেমন এনালাপ্রিল) বা অ্যানজিওটেনসিন ব্লকার (যেমন লোসারটান) এর সাথে সাবধানে দিতে হয়।
- সোডিয়ামযুক্ত তরল লিথিয়ামের মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।
- ক্যালসিয়ামযুক্ত তরল একই লাইনে সেফট্রিয়াক্সোনের সাথে মেশানো যাবে না, এবং ডিগক্সিন সেবনকারীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা দরকার।
- কর্টিকোস্টেরয়েড শরীরে সোডিয়াম ও পানি জমা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- শরীরে অতিরিক্ত তরল, গুরুতর হার্ট ফেইলিউর বা ফুসফুসে পানি জমা।
- অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তশর্করা বা ডায়াবেটিক কোমা (গ্লুকোজযুক্ত তরলের ক্ষেত্রে)।
- দ্রবণে থাকা লবণের মাত্রা রক্তে আগে থেকেই বেশি, যেমন উচ্চ পটাশিয়াম বা সোডিয়াম।
- প্রস্রাব কমে যাওয়া গুরুতর কিডনি বিকল, বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান ছাড়া।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ড্রিপের জায়গায় ব্যথা, লালচে ভাব বা ফোলা, শিরায় জ্বালা, রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া, গোড়ালি ফোলা এবং রক্তে লবণের মাত্রার পরিবর্তন হতে পারে।
ইনফিউশনের সময় শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, বিভ্রান্তি, পেশি দুর্বলতা, বেশি ফোলা বা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসাকর্মীদের জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এই তরল দেওয়া যায়, তবে তরল ও লবণের ভারসাম্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হয়।
সতর্কতা
বিশেষ করে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের রোগী, বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে রক্তশর্করা, লবণ ও তরলের ভারসাম্য নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। দ্রবণ স্বচ্ছ ও ব্যাগ অক্ষত থাকলেই ব্যবহার করুন। লাইনে বাতাস ঢোকা এড়াতে ব্যাগ একটার পর একটা জোড়া দেবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি তরল দিলে শরীর ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসে পানি জমতে পারে; রক্তশর্করা ও লবণের মাত্রাও বিগড়ে যেতে পারে। তখন ইনফিউশন বন্ধ করে চিকিৎসক দল চিকিৎসা দেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
শিরাপথে দেওয়া তরল ও ইলেক্ট্রোলাইট পূরণকারী।
সংরক্ষণ
প্যাকেটের নির্দেশ অনুযায়ী, সাধারণত ৩০°C এর নিচে, জমে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।