বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Glucose

  • 5 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 3 টি কোম্পানি

ব্যবহার

গ্লুকোজ (ডেক্সট্রোজ নামেও পরিচিত) একটি সরল শর্করা, যা শরীরের প্রধান শক্তির উৎস। পাউডার বা পানীয় হিসেবে মুখে খেলে এটি দ্রুত শক্তি দেয়, যেমন ক্লান্তি, গরমজনিত অবসাদ বা অসুখের পরে, এবং সচেতন ও গিলতে পারেন এমন ব্যক্তির রক্তে শর্করা কমে গেলে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) চিকিৎসায়। হাসপাতালে গ্লুকোজ দ্রবণ শিরায় দেওয়া হয় গুরুতর হাইপোগ্লাইসেমিয়া, তরল ও ক্যালরি পূরণ, কিটোসিস প্রতিরোধ, ইনসুলিনের সাথে উচ্চ পটাশিয়াম কমানো, এবং অ্যামিনো অ্যাসিড ও চর্বিযুক্ত শিরাপথে পুষ্টি (প্যারেন্টারাল নিউট্রিশন) মিশ্রণের অংশ হিসেবে।

কীভাবে কাজ করে

গ্লুকোজ অন্ত্র থেকে দ্রুত শোষিত হয় বা স্যালাইনে সরাসরি রক্তে যায়। ইনসুলিনের সাহায্যে কোষ এটি গ্রহণ করে শক্তি তৈরি করে। কয়েক মিনিটেই রক্তে শর্করা বাড়ায়, এবং পানির সাথে দিলে শরীরের তরল পূরণেও সাহায্য করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

মুখে: লেবেলের নির্দেশ অনুযায়ী, সাধারণত পানিতে গুলিয়ে। সচেতন প্রাপ্তবয়স্কের রক্তে শর্করা কমে গেলে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ g দ্রুত কাজ করা গ্লুকোজ খাওয়া হয়, ১৫ মিনিট পর আবার শর্করা মাপা হয় এবং পরে হালকা খাবার বা মূল খাবার খাওয়া হয়। শিরায় গ্লুকোজ ও পুষ্টি মিশ্রণ শুধু হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স দেন; শক্তি, পরিমাণ ও গতি রক্তের শর্করা, তরলের চাহিদা ও ওজন অনুযায়ী চিকিৎসকের নির্দেশমতো।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ঔষধ (যেমন সালফোনিলইউরিয়া) রক্তে শর্করা কমায়; এদের কারণে শর্করা কমে গেলে গ্লুকোজ দিয়ে ঠিক করা হয়।
  • কর্টিকোস্টেরয়েড, থায়াজাইড ডায়ুরেটিক ও কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক শর্করা আরও বাড়াতে পারে।
  • হাসপাতালে একই লাইনে রক্ত সঞ্চালনের সাথে গ্লুকোজ স্যালাইন দেওয়া যাবে না।

কারা খাবেন না

  • অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তশর্করা (অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস), যদি না চিকিৎসক ইনসুলিনের সাথে দেন।
  • গ্লুকোজ-গ্যালাক্টোজ শোষণে সমস্যা (মুখে খাওয়ার ক্ষেত্রে)।
  • শিরায় দেওয়ার ক্ষেত্রে: উচ্চ সোডিয়ামসহ তীব্র পানিশূন্যতা, তরলের আধিক্য, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাথায় আঘাত এবং কিছু মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, চিকিৎসকের বিবেচনা অনুযায়ী।
  • পুষ্টি মিশ্রণের ক্ষেত্রে: কোনো উপাদানে অ্যালার্জি বা চিকিৎসক অনিরাপদ মনে করলে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

মুখে: স্বাভাবিক পরিমাণে সাধারণত কিছু হয় না; বেশি খেলে বমিভাব, পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়া ও শর্করা বৃদ্ধি হতে পারে। শিরায় দিলে উচ্চ রক্তশর্করা, তরলের আধিক্য, পটাশিয়াম বা সোডিয়াম কমা এবং স্যালাইনের জায়গায় ব্যথা বা শিরায় প্রদাহ (ফ্লেবাইটিস) হতে পারে, বিশেষ করে ঘন দ্রবণে।

বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা অচেতনতাসহ রক্তে শর্করা কমে গেলে (অচেতন ব্যক্তিকে মুখে কিছু দেবেন না), তীব্র পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব ও ঝিমুনিসহ খুব উচ্চ শর্করা, স্যালাইন চলাকালে শ্বাসকষ্ট বা ফোলা, অথবা স্যালাইনের জায়গায় ব্যথা ও লাল হওয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

গ্লুকোজ একটি স্বাভাবিক খাদ্য উপাদান এবং গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করা যায়। ডায়াবেটিস বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে শর্করা গ্রহণে চিকিৎসকের পরামর্শ মানুন। গর্ভাবস্থায় শিরায় দ্রবণ শুধু চিকিৎসকের নির্দেশে ও শর্করা পর্যবেক্ষণসহ দেওয়া হয়।

সতর্কতা

  • ডায়াবেটিস রোগীরা শুধু শর্করা কমে গেলে বা চিকিৎসকের পরামর্শে গ্লুকোজ ব্যবহার করবেন।
  • ডায়রিয়ায় গ্লুকোজ পানীয় খাবার স্যালাইনের বিকল্প নয়।
  • শিরায় দ্রবণ দিলে রক্তের শর্করা, লবণ ও তরলের ভারসাম্য পর্যবেক্ষণ করতে হয়; ঘন দ্রবণ বড় শিরায় দেওয়া হয়।
  • ঘন ঘন মিষ্টি পানীয় দাঁতের ক্ষতি করতে পারে।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি হলে উচ্চ রক্তশর্করা, প্রস্রাবে শর্করা, পানিশূন্যতা এবং শিরায় দিলে তরলের আধিক্য ও লবণের ভারসাম্যহীনতা হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; হাসপাতালে স্যালাইন ধীর বা বন্ধ করা হয় এবং ইনসুলিন দেওয়া হতে পারে।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

কার্বোহাইড্রেট, ক্যালরি ও তরল পূরণকারী (ডেক্সট্রোজ); প্যারেন্টারাল পুষ্টির উপাদান।

সংরক্ষণ

পাউডার: ৩০°C এর নিচে, শুষ্ক জায়গায়, মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে, শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। শিরায় দেওয়ার দ্রবণ ও পুষ্টি ব্যাগ: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণত ২৫°C এর নিচে, জমাবেন না।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Glucose এর ব্র্যান্ড

1 টি ব্র্যান্ড

Glucose যুক্ত কম্বিনেশন ঔষধ

4 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।