ব্যবহার
গ্লাইসিরাইজা গ্ল্যাব্রা হলো যষ্টিমধু (লিকোরিস মূল), যা ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও প্রথাগত চিকিৎসায় অত্যন্ত প্রচলিত একটি ভেষজ। অনেক কাশির সিরাপ, লজেন্স, হজমের চূর্ণ ও যৌগিক ভেষজ ঔষধে এটি থাকে। প্রথাগতভাবে কাশি ও গলা ব্যথা কমাতে, কফ তরল করতে, গলা বসে যাওয়ায়, অম্লতা ও পেটের অস্বস্তিতে এবং হালকা জোলাপ ও স্বাদ বাড়াতে এটি ব্যবহার হয়। গলা আরাম দেওয়া ও বদহজমে কিছু উপকারের প্রমাণ আছে, তবে অনেক প্রথাগত ব্যবহারের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত।
কীভাবে কাজ করে
যষ্টিমধুতে গ্লাইসিরাইজিন ও ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে। এটি গলা ও পাকস্থলীর জ্বালাপূর্ণ স্তরে প্রলেপ দিয়ে আরাম দেয়, কফ পাতলা করে সহজে বের হতে সাহায্য করে এবং হালকা প্রদাহরোধী কাজ করে। গ্লাইসিরাইজিন শরীরের অ্যালডোস্টেরন হরমোনের মতো কাজ করতে পারে, ফলে শরীরে লবণ ও পানি জমে এবং পটাশিয়াম কমে যায়। এ কারণেই দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় সেবন ক্ষতিকর হতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
পণ্যের লেবেলের নির্দেশনা বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করুন। যষ্টিমধুযুক্ত ভেষজ পণ্য স্বল্প সময়ের জন্য, সাধারণত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের বেশি নয়, ব্যবহার করা উচিত, যদি না চিকিৎসক অন্য পরামর্শ দেন। নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ফুরোসেমাইড বা হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডের মতো প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ এবং জোলাপ: পটাশিয়াম কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
- ডিগক্সিন ও হৃৎস্পন্দনের ঔষধ: পটাশিয়াম কমলে বিপজ্জনক হৃৎস্পন্দনের সমস্যা হতে পারে।
- রক্তচাপের ঔষধ: যষ্টিমধু রক্তচাপ বাড়িয়ে এগুলোর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- প্রেডনিসোলোনের মতো স্টেরয়েড: এদের প্রভাব বেড়ে যেতে পারে।
- ওয়ারফারিনসহ রক্ত পাতলা করার ঔষধ: কার্যকারিতা বদলে যেতে পারে।
কারা খাবেন না
- অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ থাকলে।
- হার্ট ফেইলিওর, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে।
- রক্তে পটাশিয়াম কম থাকলে।
- গর্ভাবস্থায়।
- যষ্টিমধুতে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অল্প পরিমাণে স্বল্প সময় সেবনে সাধারণত সমস্যা হয় না। নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে খেলে রক্তচাপ বৃদ্ধি, পানি জমে পা ও মুখ ফুলে যাওয়া, মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং পটাশিয়াম কমে গিয়ে মাংসপেশির দুর্বলতা বা খিঁচুনি হতে পারে। পেটের অস্বস্তিও হতে পারে।
মাংসপেশিতে তীব্র দুর্বলতা, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, বুকে ব্যথা, হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা উল্লেখযোগ্য ফোলা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ঔষধ হিসেবে যষ্টিমধুযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলুন, কারণ বেশি গ্রহণের সাথে সময়ের আগে প্রসবসহ নানা সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। স্তন্যদানকালে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ব্যবহার করবেন না।
সতর্কতা
- দুই সপ্তাহের বেশি ব্যবহার করলে রক্তচাপ পরীক্ষা করুন।
- বয়স্ক এবং হৃদরোগ বা কিডনি রোগীরা এর প্রভাবের প্রতি বেশি সংবেদনশীল।
- শিশুদের ক্ষেত্রে কেবল শিশুদের জন্য তৈরি পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী দিন।
- অনেক ভেষজ কাশি ও হজমের পণ্যে যষ্টিমধু থাকে: একসাথে কয়েকটি সেবন এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি পরিমাণে খেলে উচ্চ রক্তচাপ, শরীরে পানি জমা, পটাশিয়াম মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া, মাংসপেশির দুর্বলতা, পক্ষাঘাত ও অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত সেবনের সন্দেহ হলে সেবন বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভেষজ ঔষধ (ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক): প্রশমক, কফনাশক ও হজমসহায়ক ভেষজ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।