ব্যবহার
গ্লাইসিরাইজিন (গ্লাইসিরাইজিক অ্যাসিড) হলো যষ্টিমধু (গ্লাইসিরাইজা গ্ল্যাব্রা) মূলের প্রধান মিষ্টি স্বাদের কার্যকর উপাদান। এটি ভেষজ ও খাদ্য সম্পূরক, কাশির ঔষধ এবং হজম ও লিভার সহায়ক কিছু পণ্যে উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের কিছু সাপ্লিমেন্টেও থাকে। যষ্টিমধু শক্তিশালী: নিয়মিত বা বেশি খেলে রক্তচাপ বাড়তে ও পটাসিয়াম কমে যেতে পারে, তাই সাবধানে ব্যবহার করতে হবে। এর অনেক দাবিকৃত উপকারের প্রমাণ সীমিত।
কীভাবে কাজ করে
গবেষণাগারে গ্লাইসিরাইজিনের প্রশমনকারী, প্রদাহরোধী ও সামান্য ভাইরাসরোধী গুণ দেখা গেছে। শরীরে এটি গ্লাইসিরেটিনিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়, যা কিডনিতে কর্টিসল হরমোন নিষ্ক্রিয় করার একটি এনজাইমকে বাধা দেয়। ফলে কর্টিসল অ্যালডোস্টেরন হরমোনের মতো কাজ করে, শরীরে লবণ ও পানি জমে এবং পটাসিয়াম বের হয়ে যায়। এটিই এর প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণ।
মাত্রা ও সেবনবিধি
যে পণ্যে এটি আছে তার লেবেলের নির্দেশ অনুযায়ীই খান, এবং একাধিক যষ্টিমধুযুক্ত পণ্য একসাথে খাবেন না। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সাধারণত সব উৎস মিলিয়ে দিনে প্রায় ১০০ mg এর কম গ্লাইসিরাইজিন গ্রহণের এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কয়েক সপ্তাহের বেশি নিয়মিত ব্যবহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ফ্রুসেমাইড বা হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডের মতো মূত্রবর্ধক, প্রেডনিসোলোনের মতো কর্টিকোস্টেরয়েড এবং জোলাপের সাথে যষ্টিমধু পটাসিয়াম আরও কমাতে পারে; কম পটাসিয়াম ডাইগক্সিনের সাথে হৃৎস্পন্দনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। এটি রক্তচাপের ঔষধের কার্যকারিতা কমাতে এবং ওয়ারফারিনকে প্রভাবিত করতে পারে। হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির সাথে এর রক্তচাপ বাড়ানোর প্রভাব বেড়ে যেতে পারে। সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা হার্ট ফেইলিউর থাকলে।
- কিডনির রোগ, লিভার সিরোসিস বা রক্তে পটাসিয়াম কম থাকলে।
- গর্ভাবস্থায়।
- স্তন, জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার বা এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো হরমোন-সংবেদনশীল রোগে, ডাক্তার অনুমতি না দিলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
নিয়মিত বা বেশি গ্রহণে উচ্চ রক্তচাপ, পানি জমে গোড়ালি ফোলা, মাথাব্যথা, পটাসিয়াম কমে গিয়ে পেশি দুর্বলতা বা টান এবং ক্লান্তি হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ও যৌন আকাঙ্ক্ষা কমতে পারে।
তীব্র মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড় বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, পেশিতে প্রচণ্ড দুর্বলতা বা অবশ হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা হঠাৎ ফোলা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় গ্লাইসিরাইজিনযুক্ত সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলুন, কারণ বেশি যষ্টিমধু গ্রহণ সময়ের আগে প্রসব এবং শিশুর বিকাশের উপর প্রভাবের সাথে যুক্ত। ডাক্তার না বললে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
৪০ বছরের বেশি বয়সী এবং হৃদরোগ বা কিডনির সমস্যা থাকলে এর প্রভাবে বেশি সংবেদনশীলতা থাকে। অল্প কিছুদিনের বেশি ব্যবহার করলে রক্তচাপ মাপুন। মনে রাখুন, মিষ্টি, চা ও অন্য ভেষজ পণ্যেও যষ্টিমধু থাকতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি পরিমাণে খেলে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে, পটাসিয়াম খুব কমে যেতে, পেশি দুর্বল হতে এবং হৃৎস্পন্দনে গোলমাল হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন এবং প্যাকেট সঙ্গে নিয়ে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভেষজ কার্যকর উপাদান (যষ্টিমধুর নির্যাস)
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।