ব্যবহার
গ্রামিসিডিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা শুধু শরীরের উপরিভাগে ব্যবহৃত হয়, কখনো মুখে বা ইনজেকশনে নয়। এটি নিওমাইসিন ও পলিমিক্সিন বি (কখনো স্টেরয়েডসহ) এর সাথে মিশ্র পণ্য হিসেবে চোখের ড্রপ, কানের ড্রপ, ক্রিম ও মলমে পাওয়া যায়। এগুলো চোখের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ (যেমন কনজাঙ্কটিভাইটিস), বাইরের কান এবং ত্বকের সংক্রমণ, যেমন সংক্রমিত কাটা, ছড়ে যাওয়া ও সামান্য পোড়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
গ্রামিসিডিন ব্যাকটেরিয়ার বাইরের পর্দায় ক্ষুদ্র চ্যানেল তৈরি করে, ফলে ব্যাকটেরিয়া ফুটো হয়ে মারা যায়। এটি মূলত গ্রাম-পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, আর একই পণ্যে থাকা নিওমাইসিন ও পলিমিক্সিন বি অন্যান্য অনেক ব্যাকটেরিয়া ঢেকে দেয়, ফলে একসাথে নানা ধরনের উপরিভাগের সংক্রমণ সারায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। চোখের ড্রপ: সাধারণত আক্রান্ত চোখে ১ থেকে ২ ফোঁটা দিনে ২ থেকে ৪ বার (তীব্র সংক্রমণে শুরুতে আরও ঘন ঘন)। কানের ড্রপ: সাধারণত কানে ২ থেকে ৩ ফোঁটা দিনে ৩ থেকে ৪ বার। ত্বকের ক্রিম: আক্রান্ত স্থানে দিনে ২ থেকে ৪ বার পাতলা করে লাগান। পুরো কোর্স শেষ করুন, সাধারণত ৭ দিন, এবং পরামর্শ ছাড়া ৭ থেকে ১০ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
শরীরে খুব কম শোষিত হয়, তাই প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম। পরামর্শ ছাড়া একই সময়ে অন্য চোখ বা কানের পণ্য ব্যবহার করবেন না। বড় ক্ষতযুক্ত ত্বকে নিওমাইসিনযুক্ত পণ্য এবং কিডনি বা শ্রবণশক্তির ক্ষতি করতে পারে এমন ঔষধ (যেমন জেন্টামাইসিন বা ফুরোসেমাইড) একসাথে হলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
গ্রামিসিডিন, নিওমাইসিন, পলিমিক্সিন বি বা অন্য উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না। কানের পর্দা ফুটো থাকলে কানের ড্রপ ব্যবহার করা যাবে না, কারণ নিওমাইসিন শ্রবণশক্তির ক্ষতি করতে পারে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- লাগানোর সময় ক্ষণিক জ্বালা বা হুল ফোটানো ভাব
- চুলকানি, লালচে ভাব বা ফোলা (সম্ভাব্য অ্যালার্জি, বিশেষ করে নিওমাইসিনে)
- চোখের ড্রপের পর অল্প সময় ঝাপসা দেখা
- দীর্ঘ ব্যবহারে প্রতিরোধী জীবাণু বা ছত্রাকের বৃদ্ধি
ছড়িয়ে পড়া র্যাশ, চোখের পাতা, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, চোখের ব্যথা বেড়ে যাওয়া বা দৃষ্টি কমে যাওয়া, অথবা কানের ড্রপের পর নতুন করে কানে কম শোনা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ বা মাথা ঘোরা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খুব কম শরীরে যায় বলে অল্প সময়ের জন্য উপরিভাগে ব্যবহার সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। বিশেষ করে বড় জায়গায় বা দীর্ঘ কোর্সের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
ড্রপারের মুখ চোখ, কান বা কোনো কিছুতে লাগাবেন না। চোখের সংক্রমণের সময় কন্টাক্ট লেন্স পরবেন না। কয়েক দিনে উন্নতি না হলে বা খারাপ হলে বন্ধ করে চিকিৎসক দেখান। বড় ক্ষতযুক্ত ত্বকে ব্যবহার করবেন না। স্টেরয়েডযুক্ত পণ্য ভাইরাস বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণে ব্যবহার করা উচিত নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
উপরিভাগে ব্যবহারে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। গিলে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
উপরিভাগে ব্যবহারের অ্যান্টিবায়োটিক (পলিপেপটাইড); চোখ, কান ও ত্বকের মিশ্র সংক্রমণরোধী পণ্যে ব্যবহৃত।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন; জমাবেন না। চোখ ও কানের ড্রপ খোলার ৪ সপ্তাহ পর ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।