ব্যবহার
গ্রামিসিডিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা শুধু ত্বক, চোখ বা কানে ব্যবহার হয়। প্রায় সবসময় এটি অন্য ঔষধের সাথে মিশিয়ে থাকে, যেমন নিওমাইসিন, নিস্টাটিন ও ট্রায়ামসিনোলোনের মতো কর্টিকোস্টেরয়েডের সাথে ক্রিম ও মলমে, যা ব্যাকটেরিয়া বা ইস্টে সংক্রমিত প্রদাহযুক্ত চর্মরোগে (সংক্রমিত একজিমা, ন্যাপি র্যাশ, ভাঁজের ঘা) ব্যবহার হয়; অথবা নিওমাইসিন ও পলিমিক্সিন B এর সাথে চোখ ও কানের ড্রপে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে।
কীভাবে কাজ করে
গ্রামিসিডিন ব্যাকটেরিয়ার বাইরের পর্দায় খুব ছোট চ্যানেল তৈরি করে। এই পথে লবণ বেরিয়ে যায়, ফলে ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মারা যায়। এটি মূলত স্ট্যাফাইলোককাস ও স্ট্রেপ্টোককাসের মতো গ্রাম-পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে এবং সঙ্গের অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যক্ষেত্র বাড়ায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্রিম ও মলম: আক্রান্ত জায়গায় দিনে ২ থেকে ৩ বার পাতলা করে লাগান, অথবা চিকিৎসকের পরামর্শমতো, সাধারণত ১ থেকে ২ সপ্তাহের বেশি নয়। চোখ বা কানের ড্রপ: চিকিৎসক বা লেবেলে যত ফোঁটা ও যতবার বলা আছে তত ব্যবহার করুন। ব্যবহারের আগে ও পরে হাত ধুয়ে নিন। চিকিৎসকের দেওয়া কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি শরীরে শোষিত হয় না, তাই খাওয়ার ঔষধের সাথে কোনো জানা প্রতিক্রিয়া নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একই জায়গায় একসাথে অন্য ত্বক, চোখ বা কানের ঔষধ ব্যবহার করবেন না।
কারা খাবেন না
- গ্রামিসিডিন বা মিশ্রণের অন্য কোনো উপাদানে (যেমন নিওমাইসিন) অ্যালার্জি থাকলে।
- কানের ড্রপ: কানের পর্দা ফুটো থাকলে, যদি না চিকিৎসক অনুমোদন দেন।
- স্টেরয়েডযুক্ত মিশ্রণ: ভাইরাসজনিত ত্বকের সংক্রমণ (জলবসন্ত, জ্বরঠোসা), ত্বকের যক্ষ্মা, রোজাসিয়া ও ব্রণে।
- এটি কখনো ইনজেকশন বা মুখে খাওয়া যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
লাগানোর জায়গায় জ্বালা, চুলকানি, লালভাব বা র্যাশ হতে পারে। চোখের ড্রপে কিছুক্ষণ ঝাপসা দেখা বা জ্বালা হতে পারে। অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া (প্রায়ই মিশ্রণের নিওমাইসিনের কারণে) র্যাশ বাড়াতে পারে। দীর্ঘ ব্যবহারে প্রতিরোধী জীবাণু বা ছত্রাক জন্মাতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে র্যাশ, চোখে ব্যথা বা হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন, অথবা কানের ড্রপের পর শ্রবণশক্তি কমা বা কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খুব কম শোষিত হয়, তবে বিশেষ করে স্টেরয়েড বা নিওমাইসিনযুক্ত মিশ্রণ গর্ভাবস্থা ও দুধ খাওয়ানোর সময় শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন। দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনে লাগাবেন না।
সতর্কতা
গ্রামিসিডিন লোহিত রক্তকণিকা নষ্ট করে বলে শরীরের ভেতরে ব্যবহারের জন্য খুব বিষাক্ত। শুধু নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যবহার করুন, বড় খোলা ক্ষতে এড়িয়ে চলুন এবং পরামর্শের চেয়ে বেশি দিন ব্যবহার করবেন না। এক সপ্তাহে উন্নতি না হলে বা খারাপ হলে চিকিৎসক দেখান। ড্রপারের মুখ চোখ বা কানে লাগাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি ব্যবহারে গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে স্টেরয়েডযুক্ত মিশ্রণ দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বক পাতলা হতে পারে। গিলে ফেললে চিকিৎসক বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
টপিক্যাল ব্যাকটেরিয়ানাশক (পলিপেপটাইড অ্যান্টিবায়োটিক), মিশ্র ঔষধে ব্যবহৃত।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জমাবেন না। লেবেলে অন্য কিছু না বললে চোখের ড্রপ খোলার ৪ সপ্তাহ পর ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।