ব্যবহার
আঙ্গুর, সাধারণত শুকনো আঙ্গুর (কিসমিস, মুনাক্কা বা দ্রাক্ষা) আকারে, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ভেষজ প্রস্তুতির উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে চ্যবনপ্রাশ জাতীয় ভেষজ হালুয়ায়। এই প্রস্তুতিগুলো আমলকি ভিত্তিক, সাথে আঙ্গুর ও আরও অনেক ভেষজ, মধু বা চিনি ও ঘি থাকে। শক্তি, ক্ষুধা, হজম, রোগ প্রতিরোধ ও সেরে ওঠার জন্য সাধারণ টনিক হিসেবে এবং কাশি ও দুর্বল ফুসফুসে এগুলো প্রচলিতভাবে খাওয়া হয়। এই প্রচলিত ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত; এটি কোনো রোগের নিরাময় নয়।
কীভাবে কাজ করে
আঙ্গুর ও কিসমিস শক্তির জন্য প্রাকৃতিক শর্করা, আঁশ, পটাসিয়াম ও উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (পলিফেনল) সরবরাহ করে। প্রচলিত চিকিৎসায় আঙ্গুরকে পুষ্টিকর, হালকা রেচক ও গলার জন্য আরামদায়ক মনে করা হয়। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ আমলকি ও অন্য ভেষজের সাথে মিলে এই প্রস্তুতি সাধারণ টনিক হিসেবে কাজ করে বলে বিশ্বাস করা হয়, তবে এর কার্যপ্রণালী স্পষ্টভাবে প্রমাণিত নয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা বা নিবন্ধিত আয়ুর্বেদিক বা ইউনানি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খান। ভেষজ হালুয়ার ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত দিনে ১ বা ২ বার ১ থেকে ২ চা চামচ করে গরম দুধ বা পানির সাথে খান, এবং শিশুরা লেবেলে লেখা অনুযায়ী কম পরিমাণে। শুকনো চামচ ব্যবহার করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট: চিনি ও মধুর কারণে রক্তে সুগার বাড়তে পারে; সুগার পরীক্ষা করুন ও চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।
- ওয়ারফারিন ও অন্য রক্ত পাতলা করার ঔষধ: বহু ভেষজযুক্ত ফর্মুলার কিছু উপাদান রক্তপাতে প্রভাব ফেলতে পারে; চিকিৎসককে জানান।
- যেকোনো ভেষজ পণ্য খেলে, বিশেষ করে অপারেশনের আগে, চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- আঙ্গুর, কিসমিস বা অন্য কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, যদি না চিকিৎসক পরামর্শ দেন (চিনিমুক্ত সংস্করণ পাওয়া যেতে পারে)।
- পণ্যে মধু থাকলে ১ বছরের কম বয়সী শিশু।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পরিমাণে সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। কারও কারও পেট ফাঁপা, নরম পায়খানা, অ্যাসিডিটি বা রক্তে সুগার বাড়তে পারে। উচ্চ ক্যালরির হালুয়া বেশি খেলে ওজন বাড়তে পারে।
খাওয়ার পর মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে বা সারা শরীরে র্যাশ হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খাবার হিসেবে আঙ্গুর গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে নিরাপদ। বহু ভেষজযুক্ত প্রস্তুতি গর্ভাবস্থায় ভালোভাবে গবেষিত নয়, তাই ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা কিডনি রোগ (পটাসিয়ামের কারণে) থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন ও চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন। নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে কিনুন, কারণ কিছু ভেষজ পণ্যে ভেজাল থাকতে পারে। ভেষজ টনিকের জন্য চিকিৎসকের দেওয়া ঔষধ বন্ধ করবেন না। উপসর্গ থাকলে চিকিৎসক দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে পেটের অস্বস্তি, ডায়রিয়া ও রক্তে সুগার বেড়ে যেতে পারে। কোনো শিশু অনেক খেয়ে ফেললে বা উপসর্গ তীব্র হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ভেষজ প্রস্তুতি; সাধারণ টনিক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ব্যবহারের পর বয়মের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।