ব্যবহার
গ্রিসিওফালভিন একটি মুখে খাওয়ার ছত্রাকনাশক ঔষধ। মাথার ত্বক, শরীরের ত্বক, চুল ও নখের দাদজাতীয় (ডার্মাটোফাইট) ছত্রাক সংক্রমণে, যখন শুধু ক্রিমে কাজ হয় না, তখন এটি ব্যবহার হয়। মাথার দাদ (টিনিয়া ক্যাপিটিস), শরীরে ছড়িয়ে পড়া দাদ ও নখের ছত্রাক সংক্রমণে এটি বেশি ব্যবহৃত হয়। মুখের ঘা বা থ্রাশের মতো ইস্ট সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
গ্রিসিওফালভিন নতুন গজানো ত্বক, চুল ও নখের কোষে জমা হয় এবং ছত্রাককে বিভাজিত হতে দেয় না। ফলে আক্রান্ত অংশ ধীরে ধীরে সুস্থ, ছত্রাকমুক্ত অংশে বদলে যায়। এজন্যই চিকিৎসায় কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস লাগে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে ৫০০ mg, একবারে বা ভাগ করে। তীব্র সংক্রমণে ডাক্তার দিনে ১ গ্রাম পর্যন্ত দিতে পারেন, উন্নতি হলে ৫০০ mg এ নামানো হয়।
- শিশু: শরীরের ওজন অনুযায়ী, ডাক্তারের পরামর্শ মতো।
- খাবারের সাথে বা পরে খান, সম্ভব হলে কিছুটা চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে, এতে শোষণ ভালো হয়।
- সাধারণ চিকিৎসার সময়কাল: ত্বকে প্রায় ২ থেকে ৪ সপ্তাহ, মাথার ত্বকে প্রায় ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ বা বেশি, হাতের নখে অন্তত ৬ মাস, পায়ের নখে ১২ মাস বা বেশি।
সংক্রমণ ভালো দেখালেও পুরো কোর্স শেষ করুন, নইলে আবার ফিরে আসতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি: গ্রিসিওফালভিন এর কার্যকারিতা কমাতে পারে; চিকিৎসার সময় ও পরে ১ মাস কনডমের মতো বাড়তি পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
- ওয়ারফারিন: এর কাজ কমে যেতে পারে; রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা করা লাগতে পারে।
- ফেনোবার্বিটাল: গ্রিসিওফালভিনের মাত্রা কমায়।
- সাইক্লোস্পোরিন: এর মাত্রা কমে যেতে পারে।
- মদ: মুখ লাল হওয়া ও বুক ধড়ফড় হতে পারে; মদ এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
- গ্রিসিওফালভিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- গর্ভাবস্থায় বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে।
- লিভারের গুরুতর রোগ থাকলে।
- পোরফাইরিয়া (একটি বিরল বংশগত রক্তের রোগ) থাকলে।
- সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথেমাটোসাস (SLE) থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, পাতলা পায়খানা, পেটের অস্বস্তি, র্যাশ ও মাথা ঘোরা। অন্যান্য: ক্লান্তি, বিভ্রান্তি, রোদে ত্বকের সংবেদনশীলতা, স্বাদের পরিবর্তন, এবং কদাচিৎ হাত-পা অবশ বা ঝিমঝিম। কদাচিৎ লিভারের উপর প্রভাব বা রক্তের শ্বেতকণিকা কমে যেতে পারে।
ত্বকে তীব্র প্রতিক্রিয়া (ফোসকা, চামড়া ওঠা, ছড়ানো র্যাশ বা মুখে ঘা), ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, না সারা জ্বর, গলা ব্যথা বা মুখের ঘা, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো তীব্র এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় খাওয়া যাবে না, কারণ গর্ভের শিশুর ক্ষতি হতে পারে। নারীদের চিকিৎসার সময় ও পরে অন্তত ১ মাস গর্ভধারণ এড়াতে হবে। পুরুষদের চিকিৎসার সময় ও পরে অন্তত ৬ মাস সন্তান জন্মদান এড়াতে হবে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
কড়া রোদ ও সানবেড এড়িয়ে চলুন এবং রোদ থেকে সুরক্ষা নিন। মাথা ঘোরাতে পারে, তাই গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন। দীর্ঘ কোর্সে ডাক্তার রক্ত ও লিভারের পরীক্ষা করতে পারেন। আক্রান্ত জায়গা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন, এবং চিরুনি, তোয়ালে বা টুপি ভাগাভাগি করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, পাতলা পায়খানা, ক্লান্তি ও বিভ্রান্তি হতে পারে। চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ছত্রাকনাশক (মুখে খাওয়ার, দাদজাতীয় সংক্রমণের জন্য)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।