ব্যবহার
হ্যালোবেটাসল প্রোপিওনেট খুব শক্তিশালী একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড) ক্রিম বা মলম। সোরিয়াসিস ও একজিমার (ডার্মাটাইটিস) মতো চামড়ার তীব্র প্রদাহ, যা হালকা স্টেরয়েড ক্রিমে ভালো হয়নি, তার স্বল্পমেয়াদি চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয়। সোরিয়াসিসের জন্য কিছু পণ্যে এর সাথে ট্যাজারোটিন বা স্যালিসাইলিক অ্যাসিড থাকে।
কীভাবে কাজ করে
এটি চামড়ার রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়াকে শান্ত করে, ফলে ফোলা, লালভাব, চুলকানি ও খোসা ওঠা কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: আক্রান্ত চামড়ায় দিনে ১ থেকে ২ বার পাতলা করে লাগিয়ে আলতো ঘষে দিন, বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। লাগানোর পর হাত ধুয়ে ফেলুন। ডাক্তার অন্য কিছু না বললে সাধারণত ২ সপ্তাহের বেশি নয় এবং সপ্তাহে ৫০ গ্রামের বেশি নয়। বলা না হলে জায়গাটি ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টিক দিয়ে ঢাকবেন না। ১২ বছরের কম বয়সী শিশু: বিশেষজ্ঞ না দিলে ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ঠিকমতো ব্যবহার করলে প্রতিক্রিয়া কম। একই জায়গায় একসাথে অন্য স্টেরয়েড ক্রিম লাগাবেন না। বড় জায়গায় লাগালে প্রেডনিসোলনের মতো স্টেরয়েড ট্যাবলেটের প্রভাব বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
- হ্যালোবেটাসল বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে
- ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ভাইরাসজনিত চিকিৎসাহীন চর্মরোগ (যেমন জ্বরঠোসা, জলবসন্ত বা হার্পিস জোস্টার) এবং খোসপাঁচড়ায়
- ব্রণ, রোসেশিয়া ও মুখের চারপাশের র্যাশে (পেরিওরাল ডার্মাটাইটিস)
- মুখে, কুঁচকিতে, বগলে বা খোলা ক্ষতে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: লাগানোর জায়গায় জ্বালা, চুলকানি বা শুষ্কতা। বেশিদিন বা বেশি পরিমাণে লাগালে চামড়া পাতলা হওয়া, ফাটা দাগ, সহজে কালশিটে, ছোট রক্তনালি দেখা যাওয়া, চামড়ার রং বদল ও ব্রণের মতো দানা হতে পারে। বেশি শোষিত হলে (বড় জায়গায় বা দীর্ঘদিন) শরীরের নিজস্ব স্টেরয়েড হরমোনে প্রভাব পড়তে পারে এবং রক্তে শর্করা বাড়তে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট, জ্বরসহ লালভাব ছড়িয়ে পড়া (সম্ভাব্য সংক্রমণ), বা ঝাপসা দেখলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তারের পরামর্শে, যত ছোট জায়গায় ও যত কম সময় সম্ভব ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনে বা তার আশেপাশে লাগাবেন না; অন্য জায়গায় ডাক্তারের পরামর্শমতো ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
- চোখ থেকে দূরে রাখুন; চোখের কাছে স্টেরয়েড চোখের চাপ বাড়াতে (গ্লুকোমা) বা ছানি করতে পারে।
- চামড়া ভালো হলে বন্ধ করুন; ডাক্তার হালকা স্টেরয়েডে বদলে দিতে পারেন।
- দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করবেন না, কারণ সোরিয়াসিস বেড়ে যেতে পারে।
- ডায়াপার র্যাশে বা ডায়াপারের নিচে ব্যবহার করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবার বেশি লাগালে ক্ষতির সম্ভাবনা কম। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ব্যবহারে মুখ গোলাকার হওয়া, ওজন বাড়া ও রক্তে শর্করা বাড়ার মতো হরমোনজনিত সমস্যা হতে পারে; ডাক্তার দেখান। ভুল করে খেয়ে ফেললে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
চামড়ায় ব্যবহারের কর্টিকোস্টেরয়েড (খুব শক্তিশালী)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে রাখুন, ফ্রিজে জমাবেন না এবং মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।