ব্যবহার
এটি যষ্টিমধু মূল (গ্লাইসিররিজা গ্ল্যাব্রা) ভিত্তিক একটি ভেষজ কাশির সিরাপ, যাতে সাধারণত আরও কিছু প্রশান্তিদায়ক উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। সর্দি ও বুক আর গলার অন্যান্য ছোটখাটো সংক্রমণে শুকনো বা খুসখুসে কাশি, ঘন কফসহ কাশি, গলা ব্যথা বা খুসখুসে ভাব এবং গলা বসে যাওয়া কমাতে প্রচলিতভাবে এটি ব্যবহার করা হয়। ভেষজ কাশির সিরাপের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত; এটি উপসর্গ কমায়, মূল সংক্রমণ সারায় না।
কীভাবে কাজ করে
যষ্টিমধুতে গ্লাইসিরাইজিন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান থাকে, যা গলায় আবরণ তৈরি করে আরাম দেয়, কফ পাতলা করে সহজে বের করতে সাহায্য করে এবং হালকা প্রদাহরোধী কাজ করে। এ ধরনের সিরাপে প্রায়ই যোগ করা তুলসী, আদা, মধু বা বাসকের মতো ভেষজ প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী কাশি প্রশমিত করে ও শ্লেষ্মা পরিষ্কার করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী অথবা নিবন্ধিত ভেষজ চিকিৎসকের পরামর্শমতো সেবন করুন। বোতল ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে সাথে দেওয়া মাপার কাপ ব্যবহার করুন। নির্ধারিত পরিমাণের বেশি খাবেন না এবং পরামর্শ ছাড়া প্রায় এক সপ্তাহের বেশি ব্যবহার করবেন না। লেবেলে শিশুদের মাত্রা না থাকলে বা চিকিৎসক পরামর্শ না দিলে শিশুদের দেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
যষ্টিমধু, বিশেষ করে বেশি পরিমাণে বা দীর্ঘদিন খেলে, রক্তে পটাশিয়াম কমাতে ও রক্তচাপ বাড়াতে পারে। ফলে ফুরোসেমাইড বা হাইড্রোক্লোরোথিয়াজাইডের মতো প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ, ডিগক্সিন, প্রেডনিসোলনের মতো স্টেরয়েড ঔষধ এবং রক্তচাপের ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এটি ওয়ারফারিনের কার্যকারিতাও কমাতে পারে। আপনি যেসব ঔষধ ও ভেষজ পণ্য ব্যবহার করেন, সব চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- যষ্টিমধু বা প্যাকেটে লেখা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ফেইলিউর বা গুরুতর হৃদরোগ থাকলে
- কিডনি বা লিভারের রোগ, অথবা রক্তে পটাশিয়াম কম থাকলে
- গর্ভাবস্থায়
- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে, যদি সিরাপে চিনি থাকে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
লেবেলের মাত্রায় অল্প সময় ব্যবহারে সাধারণত সমস্যা হয় না। কারও কারও পেটের অস্বস্তি, বমিভাব বা অ্যালার্জি হতে পারে। দীর্ঘদিন বা বেশি পরিমাণে খেলে পটাশিয়াম কমে গিয়ে গোড়ালি ফোলা, মাথাব্যথা, রক্তচাপ বৃদ্ধি, ক্লান্তি ও মাংসপেশির দুর্বলতা হতে পারে।
শ্বাসকষ্ট, শোঁ শোঁ শব্দ, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, বুকে ব্যথা, খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, মাংসপেশির তীব্র দুর্বলতা, কাশির সাথে রক্ত বা উচ্চ জ্বর না কমলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় যষ্টিমধু এড়িয়ে চলুন, কারণ বেশি পরিমাণে খাওয়ার সাথে গর্ভের শিশুর ক্ষতি ও সময়ের আগে প্রসবের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এই সিরাপ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
কাশি এক বা দুই সপ্তাহের বেশি থাকলে, শ্বাসকষ্ট হলে, কাশির সাথে রক্ত বা জ্বরসহ সবুজ বা মরচে রঙের কফ এলে, অথবা ওজন কমে গেলে চিকিৎসকের কাছে যান। হাঁপানি, দীর্ঘমেয়াদি ব্রঙ্কাইটিস বা যক্ষ্মার নির্ধারিত চিকিৎসার বদলে এই সিরাপ ব্যবহার করবেন না। ডায়াবেটিস থাকলে চিনির পরিমাণ দেখে নিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বারবার বেশি মাত্রায় খেলে পটাশিয়াম কমে ও রক্তচাপ বাড়তে পারে। দুর্বলতা, বুক ধড়ফড় বা শরীর ফোলা দেখা দিলে সিরাপ বন্ধ করে চিকিৎসকের কাছে যান। কোনো শিশু অনেকটা খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন অথবা বোতলসহ নিকটস্থ হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভেষজ প্রস্তুতি (কাশির ঔষধ, গলা প্রশমনকারী ও কফ নিঃসারক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। বোতলের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন এবং খোলার পর লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।